সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
সর্বোত্তম অনুমানভিত্তিক উত্তর — আনুষ্ঠানিক উত্তর নয়: মূল তথ্য বা উত্তরে অস্পষ্টতা/অসম্পূর্ণতা রয়েছে। প্রদত্ত উত্তরটি নিশ্চিত নয়; যাচাই করে ব্যবহার করো।
‘M’ একটি সামাজিক আইন। এই আইনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো—দেনমোহর, বিবাহ রেজিস্ট্রেশন, তালাক, উত্তরাধিকার ইত্যাদি।
- ক)(1)
আইন কী?
- খ)(2)
সামাজিক আইন কীভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে?
- গ)(3)
‘X’ দ্বারা কোন সামাজিক আইনকে নির্দেশ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উত্তরাধিকার রক্ষায় উক্ত আইনের ভূমিকা অপরিসীম।—উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।
স্পষ্ট অনুমান: (গ) নম্বর প্রশ্নে উল্লিখিত 'X' প্রতীকটি মূলত উদ্দীপকে বর্ণিত আইন 'M'-কেই নির্দেশ করে।
আইন হলো রাষ্ট্র বা সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্বীকৃত ও বলবৎকৃত এমন কিছু নিয়ম-কানুনের সমষ্টি, যা মানুষের বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- খ)
AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।
স্পষ্ট অনুমান: (গ) নম্বর প্রশ্নে উল্লিখিত 'X' প্রতীকটি মূলত উদ্দীপকে বর্ণিত আইন 'M'-কেই নির্দেশ করে।
সামাজিক আইন সমাজের অনগ্রসর, দুর্বল ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির অধিকার সুরক্ষা এবং সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে প্রণীত হয়। এটি নারী, শিশু ও মেহনতি মানুষের ওপর শোষণ-নির্যাতন রোধ করে এবং সবার জন্য মৌলিক মানবাধিকার ও সমসুযোগ সৃষ্টি করে। এভাবে অন্যায়-অবিচার প্রতিহত করে দুর্বল জনগোষ্ঠীর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সামাজিক আইন সমাজে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।
- গ)
AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।
স্পষ্ট অনুমান: (গ) নম্বর প্রশ্নে উল্লিখিত 'X' প্রতীকটি মূলত উদ্দীপকে বর্ণিত আইন 'M'-কেই নির্দেশ করে।
উদ্দীপকের 'X' (মুদ্রণজনিত ত্রুটিবশত 'M'-এর স্থলে 'X' উল্লিখিত) দ্বারা ১৯৬১ সালের 'মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ' (Muslim Family Laws Ordinance, 1961)-কে নির্দেশ করা হয়েছে।
তৎকালীন পাকিস্তানে মুসলিম সমাজের পারিবারিক বিশৃঙ্খলা দূর করা এবং নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯৬১ সালে এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এই আইনের মূল বিষয়বস্তু ছিল বাধ্যতামূলক বিবাহ নিবন্ধন, বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণ, সালিসি কাউন্সিলের মাধ্যমে তালাকের নোটিশ ও নিষ্পত্তি, দেনমোহর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা এবং এতিম নাতি-নাতনির উত্তরাধিকার নিশ্চিতকরণ।
উদ্দীপকের 'M' আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেনমোহর, বিবাহ রেজিস্ট্রেশন, তালাক ও উত্তরাধিকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা হুবহু ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের বিধানসমূহের সাথে সংগতিপূর্ণ। অতএব, উদ্দীপকে নির্দেশিত সামাজিক আইনটি হলো ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ।
- ঘ)
AI-লিখিত অনুমানভিত্তিক উত্তর—ধারণা ও সীমাবদ্ধতা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি উৎসের যাচাইকৃত মূল উত্তর হিসেবে দাবি করা হচ্ছে না।
স্পষ্ট অনুমান: (গ) নম্বর প্রশ্নে উল্লিখিত 'X' প্রতীকটি মূলত উদ্দীপকে বর্ণিত আইন 'M'-কেই নির্দেশ করে।
উত্তরাধিকার রক্ষায় ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ভূমিকা অপরিসীম—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
ঐতিহ্যগত বা সনাতন মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, পিতা বেঁচে থাকাবস্থায় কোনো পুত্র বা কন্যা মৃত্যুবরণ করলে, পিতামহের মৃত্যুর পর ঐ মৃত সন্তানের এতিম ছেলেমেয়েরা (নাতি-নাতনিরা) পিতামহের সম্পত্তি থেকে কোনো অংশ পেত না। নিকটবর্তী জীবিত রক্তের সম্পর্কের কারণে দূরবর্তী ওয়ারিশরা বঞ্চিত হতো। ফলে পিতা-মাতাহীন এতিম নাতি-নাতনিরা চরম অর্থনৈতিক সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তার শিকার হতো।
এই অমানবিক পরিস্থিতি নিরসনে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৪ ধারায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়। এই ধারা অনুযায়ী বিধান করা হয় যে, সম্পত্তি বণ্টনের পূর্বে যদি কোনো উত্তরাধিকারী (পুত্র বা কন্যা) মারা যান, তবে তার জীবিত সন্তানরা তাদের পিতা বা মাতা বেঁচে থাকলে যে পরিমাণ অংশ পেতেন, ঠিক সেই পরিমাণ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবেন। এর ফলে পিতৃহীন বা মাতৃহীন এতিম পৌত্র-পৌত্রী বা দৌহিত্র-দৌহিত্রী তাদের পিতামহ বা মাতামহের সম্পত্তিতে ন্যায্য হিস্যা লাভ করে।
অতএব, অসহায় এতিম শিশুদের অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এই আইনের বিধান এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। তাই উত্তরাধিকার রক্ষায় উক্ত আইনের ভূমিকা সত্যিই অপরিসীম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও