ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩

ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং প্রশ্ন

জনাব নাজিম একটি ব্যাংক থেকে ১০ লাখ টাকা ঋণ করে 'ক' প্রকল্প গড়ে তোলেন। তিনি গত বছর পর্যন্ত নিয়মিতভাবে ব্যাংকের সুদসহ কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলেন। কিন্তু এ.বছর ভালো মুনাফা না হওয়ার কারণে ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। ইতোমধ্যে ব্যাংক থেকে তাকে কয়েকবার নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তাই নাজিম তার 'ক' প্রকল্পের প্রতিষ্ঠানটি বিক্রির চিন্তাভাবনা করছেন।

  1. ক)

    তারল্য ঝুঁকি কী?

    (1)
  2. খ)

    ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা পরিমাপ করা জরুরি কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জনাব নাজিম কোন ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হয়েছেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব নাজিমের উদ্ভূত পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করা উচিত? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের হাতে নগদ অর্থের অভাব বা সম্পদকে প্রয়োজনের সময় ক্ষতি ছাড়া দ্রুত নগদে রূপান্তর করতে না পারার ঝুঁকিকে তারল্য ঝুঁকি বলে।

  2. খ)

    ব্যবসায়ে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা পরিমাপ জরুরি, কারণ এর মাধ্যমে বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষতির মাত্রা জানা যায়। এতে বিনিয়োগকারী ঝুঁকির তুলনায় আয় বিবেচনা করে সঠিক প্রকল্প বেছে নিতে পারে। আগে থেকে ঝুঁকি জানা থাকলে তা কমানো বা এড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং মূলধন নিরাপদ থাকে।

  3. গ)

    উদ্দীপকে জনাব নাজিম ব্যাংক ঋণের সুদসহ কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না, কারণ এ বছর মুনাফা কম হয়েছে। তিনি আর্থিক ঝুঁকির মুখোমুখি।

    ১. আর্থিক ঝুঁকি হলো ঋণ ব্যবহার করে ব্যবসায় চালানোর ফলে ঋণ ও সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি।
    ২. নাজিম ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে প্রকল্প গড়েছেন, যার কিস্তি পরিশোধ করা তাঁর দায়।
    ৩. মুনাফা কম হওয়ায় তিনি কিস্তি দিতে পারেননি এবং ব্যাংক নোটিশ পাঠিয়েছে।

    অতএব, নাজিম ঋণ পরিশোধের অক্ষমতাজনিত আর্থিক ঝুঁকির সম্মুখীন।

  4. ঘ)

    জনাব নাজিম কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে প্রকল্প বিক্রির চিন্তা করছেন। প্রকল্পটি বিক্রি না করে পরিস্থিতি মোকাবিলার উপায় হলো:

    ১. ব্যাংকের সাথে আলোচনা: ঋণের কিস্তি পুনঃতফসিল করে পরিশোধের সময় বাড়ানো বা কিস্তির পরিমাণ কমানোর অনুরোধ করা।
    ২. ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও আয় বৃদ্ধি: অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে এবং বিপণন ও বিক্রয় বাড়িয়ে মুনাফা বাড়ানো।
    ৩. বিকল্প অর্থের সংস্থান: অব্যবহৃত সম্পদ বিক্রি করে বা অংশীদার/নতুন বিনিয়োগকারী এনে নগদ অর্থ জোগাড় করা।
    ৪. ঝুঁকি পরিকল্পনা: ভবিষ্যতে সামর্থ্য বুঝে ঋণ নেওয়া এবং আয়ের উৎস বহুমুখী করা।

    সুতরাং, প্রকল্প বিক্রির আগে এসব পদক্ষেপে আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন