ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
আহমদ শাহ ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দে সিরহিন্দ আক্রমণ করেন কিছু সিরহিন্দের শাসক মইন-উল-মূলক মানপুরের প্রথম যুদ্ধে তাকে পরাজিত করেন। আহমদ শাহ ১৭৪৯ খ্রিস্টাব্দে শক্তিশালী বাহিনী নিয়ে ২য় যুদ্ধে সিরহিন্দের শাসনকর্তাকে পরাজিত করেন। আহমদ শাত বিজয়ী অঞ্চলে তার সেনাপতিকে দায়িত্ব প্রদান করে রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করেন।
- ক)(1)
মুহাম্মদ ঘুরির প্রকৃত নাম কী?
- খ)(2)
আলাউদ্দিন হোসেনকে 'জাহানসুজ' বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনার সাথে তোমার পঠিত কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আহমদ শাহের মতো মুহাম্মদ ঘুরিও বিজয়ীর বেশে রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করেন- তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুহাম্মদ ঘুরির প্রকৃত নাম শিহাবুদ্দিন বা মুইজুদ্দিন মুহাম্মদ বিন সাম।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গজনির সুলতান বাহরাম শাহের হাতে নিজ ভাই কুতুবউদ্দিন মুহাম্মদ ও সাইফুদ্দীন সুরি নিষ্ঠুরভাবে নিহত হলে, আলাউদ্দিন হোসেন গজনির ওপর প্রতিশোধ গ্রহণ করেন। তিনি ১১৫৫ খ্রিস্টাব্দে গজনি আক্রমণ করে তা দখল করেন এবং দীর্ঘ সাত দিন ধরে নগরীতে অগ্নিকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ চালান। গজনির মতো একটি সমৃদ্ধ ও ঐতিহাসিক নগরীকে পুড়িয়ে ভস্মীভূত করার জন্য আলাউদ্দিন হোসেনকে 'জাহানসুজ' (বিশ্বদাহক বা জগৎ দহনকারী) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে মুহাম্মদ ঘুরির তরাইনের যুদ্ধের ঘটনার মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আহমদ শাহ প্রথম যুদ্ধে পরাজিত হলেও পরবর্তী বছর আরও শক্তিশালী বাহিনী নিয়ে আক্রমণ চালিয়ে দ্বিতীয় যুদ্ধে জয়লাভ করেন এবং বিজিত অঞ্চলে নিজ সেনাপতিকে দায়িত্ব দিয়ে রাজধানীতে ফিরে যান।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ১১৯১ খ্রিস্টাব্দে তরাইনের প্রথম যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরি রাজপুত রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহানের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হন। কিন্তু তিনি পরাজয়ে ভেঙে না পড়ে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী বাহিনী নিয়ে ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং পৃথ্বীরাজকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে ভারতে মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপন করেন। সুতরাং, তরাইনের প্রথম যুদ্ধে পরাজয় ও দ্বিতীয় যুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের প্রেক্ষাপটের সাথে উদ্দীপকের আহমদ শাহের সিরহিন্দ বিজয়ের ঘটনার স্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আহমদ শাহের মতো মুহাম্মদ ঘুরিও বিজিত অঞ্চলের দায়িত্ব দক্ষ সেনাপতির হাতে অর্পণ করে বিজয়ীর বেশে রাজধানীতে প্রত্যাবর্তন করেন—উক্তিটি যথার্থ ও ঐতিহাসিকভাবে সত্য।
তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে (১১৯২ খ্রি.) ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে ভারতে মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়। যুদ্ধের পর মুহাম্মদ ঘুরি বিজিত ভারতীয় অঞ্চলের সার্বিক শাসন ও সামরিক দায়িত্ব তাঁর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং সুযোগ্য সেনাপতি কুতুবউদ্দিন আইবেকের ওপর ন্যস্ত করেন। এরপর তিনি সসম্মানে ও বিজয়ীর বেশে নিজের রাজধানী গজনির উদ্দেশ্যে প্রত্যাবর্তন করেন। কুতুবউদ্দিন আইবেক পরবর্তীকালে উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জয় করে ঘুরির সাম্রাজ্যকে সুসংহত করেন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, আহমদ শাহ সিরহিন্দ বিজয়ের পর বিজিত অঞ্চলের প্রশাসনিক দায়িত্ব নিজ সেনাপতির কাছে অর্পণ করে রাজধানীতে ফিরে যান। মুহাম্মদ ঘুরির ক্ষেত্রেও একই ধরনের সামরিক ও প্রশাসনিক দূরদর্শিতা পরিলক্ষিত হয়, যেখানে তিনি নিজে কেন্দ্রে ফিরে গিয়ে সেনাপতির মাধ্যমে ভারতীয় প্রদেশগুলোর শাসন পরিচালনা নিশ্চিত করেছিলেন। অতএব, পাঠ্যবইয়ের আলোকে তুলনামূলক মূল্যায়ন করলে দেখা যায় মুহাম্মদ ঘুরির পদক্ষেপ উদ্দীপকের আহমদ শাহের পদক্ষেপের প্রতিচ্ছবি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও