জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
পায়ে কাঁটা ফুটলে অতি ক্ষিপ্রতার সাথে পা সরিয়ে নেয়া, আগুনে হাত পড়লে হাত সরে আসা, চোখে কিছু পড়লে আপনা থেকেই চোখ বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি একই ধরনের আচরণ ।
- ক)(1)
ডায়াফ্রাম কী?
- খ)(2)
বয়ঃসন্ধিকালে পুরুষের দেহে যে সকল বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় তা উল্লেখ করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাগুলো কোন ধরনের আচরণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ঘণ্টাধ্বনির সাথে কুকুরের লালা নিঃসরণজনিত আচরণ উদ্দীপকে উল্লিখিত আচরণের সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। — মূল্যায়ন করো ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বক্ষগহ্বর ও উদরগহ্বরকে পৃথককারী মাংসল ও উত্তল পেশীবহুল পর্দাকে ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বয়ঃসন্ধিকালে টেস্টোস্টেরন হরমোনের প্রভাবে পুরুষের দেহে নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পায়:
১. মুখমণ্ডলে দাড়ি-গোঁফ গজানো এবং সারা শরীরে লোমের আধিক্য দেখা দেওয়া।
২. স্বরযন্ত্রের পরিবর্তনের ফলে গলার স্বর ভারী বা গম্ভীর হওয়া।
৩. অস্থি ও পেশি সুগঠিত হয়ে কাঁধ চওড়া হওয়া এবং দৈহিক বৃদ্ধি ঘটা।
৪. শুক্রাশয় থেকে শুক্রাণু উৎপাদন শুরু হওয়া এবং প্রজনন অঙ্গের পূর্ণতা লাভ। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাগুলো প্রতিবর্ত ক্রিয়া (Reflex action) বা সহজাত প্রতিবর্ত আচরণ।
যেসব অনৈচ্ছিক, তাৎক্ষণিক ও স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়া কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা চিন্তাভাবনা ছাড়াই মস্তিষ্কের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ব্যতিরেকে প্রধানত সুষুম্নাকাণ্ডের নির্দেশে সম্পন্ন হয়, তাকে প্রতিবর্ত ক্রিয়া বলে।
উদ্দীপকের প্রতিটি ঘটনাই নির্দিষ্ট কোনো উদ্দীপকের প্রভাবে অতীব দ্রুত ও অনৈচ্ছিকভাবে ঘটে থাকে। যেমন— পায়ে কাঁটা ফুটলে বা হাতে আগুনের তাপ লাগলে সংবেদী নিউরন ত্বকের গ্রাহক অঙ্গ থেকে উদ্দীপনা গ্রহণ করে সুষুম্নাকাণ্ডে পাঠায়। সুষুম্নাকাণ্ড থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আজ্ঞাবাহী নিউরনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পেশিতে নির্দেশ পৌঁছে যায় এবং উদ্দীপনা প্রদানকারী স্থান থেকে অঙ্গটি দ্রুত সরে আসে। এ ক্রিয়াটি মস্তিষ্ক দ্বারা বিবেচনা করার আগেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে ঘটে। সুতরাং, উদ্দীপকের আচরণগুলো অনৈচ্ছিক সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঘণ্টাধ্বনির সাথে কুকুরের লালা নিঃসরণজনিত আচরণ উদ্দীপকে উল্লিখিত সহজ প্রতিবর্ত ক্রিয়ার সাথে মৌলিকভাবে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ— বক্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনাগুলো (যেমন: কাঁটা ফুটলে পা সরানো, আগুনে হাত পড়লে হাত টানা ইত্যাদি) হলো 'সহজাত বা শর্তহীন প্রতিবর্ত ক্রিয়া' (Unconditioned Reflex)। এগুলো জন্মগত, পূর্ব অভিজ্ঞতা বা প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না এবং প্রজাতির সকল সদস্যের ক্ষেত্রে একই রূপ আচরণ প্রকাশ পায়। এতে সুষুম্নাকাণ্ড মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
অপরদিকে, রাশিয়ান বিজ্ঞানী ইভান প্যাভলভ কর্তৃক প্রদর্শিত ঘণ্টাধ্বনির সাথে কুকুরের লালা নিঃসরণজনিত আচরণটি হলো একটি 'শর্তসাপেক্ষ বা অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া' (Conditioned Reflex)। সাধারণ অবস্থায় খাবার দেখলে কুকুরের লালা ক্ষরিত হয়, যা সহজাত। কিন্তু প্যাভলভ বারবার খাবার দেওয়ার ঠিক পূর্বে ঘণ্টা বাজানোর ফলে একসময় কুকুরটি ঘণ্টাধ্বনিকে খাদ্যের আগমনের সংকেত হিসেবে গ্রহণ করতে শেখে। পরবর্তীতে খাবার ছাড়াই কেবল ঘণ্টা বাজালে লালা ক্ষরণ ঘটে।
উভয় আচরণের মধ্যকার মূল বৈসাদৃশ্যসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. উৎপত্তিগত পার্থক্য: উদ্দীপকের আচরণটি জন্মগত ও প্রাকৃতিক; কিন্তু কুকুরের আচরণটি শিক্ষালব্ধ ও কৃত্রিম অনুশীলনের ফল।
২. নিয়ন্ত্রণকারী অঙ্গ: উদ্দীপকের সহজাত প্রতিবর্ত প্রধানত সুষুম্নাকাণ্ড দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়; পক্ষান্তরে শর্তসাপেক্ষ প্রতিবর্তের কেন্দ্র হলো মস্তিষ্কের সেরিব্রাল কর্টেক্স।
৩. উদ্দীপক: উদ্দীপকে সুনির্দিষ্ট প্রাকৃতিক উদ্দীপকের (ব্যথা বা তাপ) প্রভাবে সরাসরি প্রতিক্রিয়া ঘটে; অথচ কুকুরের ক্ষেত্রে অপ্রাকৃতিক বা নিরপেক্ষ উদ্দীপকের (ঘণ্টাধ্বনি) সাথে প্রাকৃতিক উদ্দীপকের সমন্বয় ঘটিয়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি করা হয়।
৪. স্থায়িত্ব: উদ্দীপকের আচরণ অপরিবর্তনীয় ও স্থায়ী; কিন্তু কুকুরের অর্জিত প্রতিক্রিয়াটি নিয়মিত পুনরাবৃত্তি না করলে সময়ের সাথে বিলুপ্ত হতে পারে।অতএব, বৈশিষ্ট্য ও প্রক্রিয়াগত পার্থক্যের কারণে ঘণ্টাধ্বনির সাথে লালা নিঃসরণজনিত আচরণটি উদ্দীপকের সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার সাথে সম্পূর্ণ বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও