জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
প্যারাপোডিয়া ও নালিকা পদ প্রাণীদের চলন কাজে ব্যবহৃত হয়।
- ক)(1)
ক্লিভেজ কী?
- খ)(2)
অঞ্চলায়ন বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম ধরনের চলনাঙ্গ বিশিষ্ট্য প্রাণীদের পর্বের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত চলনাঙ্গ বিশিষ্ট প্রাণীদের মধ্যে শেষোক্ত প্রাণীটি অধিকতর উন্নত— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে বিশেষ প্রক্রিয়ায় নিষিক্ত ডিম্বাণু বা জাইগোট মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে বিভাজিত হয়ে অসংখ্য ব্ল্যাস্টোমিয়ার সৃষ্টি করে একটি বহুকোষী ভ্রূণে পরিণত হয়, তাকে ক্লিভেজ বা সম্ভেদ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাণিদেহের খণ্ডকগুলো সুনির্দিষ্টভাবে মিলিত হয়ে কয়েকটি স্পষ্ট অঞ্চলে বিভক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াকে অঞ্চলায়ন বা ট্যাগমাটাইজেশন (Tagmatization) বলে। যেমন— আর্থ্রোপোডা পর্বের প্রাণীদের (যেমন ঘাসফড়িং) দেহ মাথা, বক্ষ ও উদর— এই তিনটি স্বতন্ত্র অঞ্চলে বিভক্ত থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম ধরনের চলনাঙ্গ হলো 'প্যারাপোডিয়া'। প্যারাপোডিয়া চলনাঙ্গ হিসেবে বিশিষ্ট প্রাণীরা অ্যানেলিডা (Annelida) পর্বের অন্তর্ভুক্ত (যেমন: Nereis)।
অ্যানেলিডা পর্বের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. এদের দেহ নলাকার, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম এবং প্রকৃত খণ্ডকায়নযুক্ত (মেটামেরিজম বিদ্যমান)।
২. দেহ প্রকৃত সিলোমেট এবং কিউটিকল দ্বারা আবৃত।
৩. চলনাঙ্গ হিসেবে কাইটিনময় সিটি (setae) অথবা মাংসল প্যারাপোডিয়া (parapodia) থাকে।
৪. প্রধান রেচন অঙ্গ হলো নেফ্রিডিয়া (nephridia), যা প্রতি খণ্ডকে সাজানো থাকে।
৫. রক্ত সংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির এবং রক্তে হিমোগ্লোবিন, হিমোইরিথ্রিন ইত্যাদি শ্বাসরঞ্জক প্লাজমায় দ্রবীভূত থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত চলনাঙ্গদ্বয় হলো যথাক্রমে অ্যানেলিডা পর্বের 'প্যারাপোডিয়া' এবং একাইনোডার্মাটা পর্বের 'নালিকা পদ' (টিউব ফিট)। সুতরাং শেষোক্ত প্রাণীটি একাইনোডার্মাটা (Echinodermata) পর্বের অন্তর্ভুক্ত (যেমন— তারামাছ বা Asterias)। অ্যানেলিডার তুলনায় একাইনোডার্মাটা প্রাণীটি বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অধিকতর উন্নত। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ভ্রূণীয় পরিস্ফুটন ও ব্লাস্টোপোরের পরিণতি: অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণীরা হলো প্রোটোস্টোমিক (Protostomic), যাদের ব্লাস্টোপোর থেকে প্রথমে মুখছিদ্র গঠিত হয়। কিন্তু একাইনোডার্মাটারা হলো ডিউটারোস্টোমিক (Deuterostomic), যাদের ব্লাস্টোপোর থেকে পায়ুছিদ্র গঠিত হয় এবং বিপরীত দিকে নতুন মুখছিদ্র তৈরি হয়। কর্ডাটা পর্বের মতো ডিউটারোস্টোমিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এরা ভ্রূণতাত্ত্বিকভাবে উন্নত এবং নন-কর্ডাটার মধ্যে কর্ডাটার সবচেয়ে নিকটবর্তী।
২. অন্তঃকঙ্কাল: অ্যানেলিডাদের কোনো সুনির্দিষ্ট চুনময় অন্তঃকঙ্কাল নেই (হাইড্রোস্ট্যাটিক কঙ্কাল থাকে)। কিন্তু একাইনোডার্মাটায় মেসোডার্ম উদ্ভূত ক্যালসিয়াম কার্বনেটযুক্ত অসিকল (ossicles) ও কাঁটা দ্বারা গঠিত সুস্পষ্ট অন্তঃকঙ্কাল বিদ্যমান।
৩. পানি সংবহনতন্ত্র: একাইনোডার্মাটায় উন্নত পানি সংবহনতন্ত্র (Water vascular system) থাকে, যা শ্বসন, খাদ্য গ্রহণ এবং চলনে অনন্য সমন্বয় সাধন করে, যা অ্যানেলিডায় অনুপস্থিত।
৪. ক্লিভেজ: একাইনোডার্মাটায় নিয়ন্ত্রিত ও সুস্পষ্ট রেডিয়াল বা অরীয় ক্লিভেজ দেখা যায়, যা উন্নত প্রাণীর বৈশিষ্ট্য; অন্যদিকে অ্যানেলিডায় স্পাইরাল বা সর্পিল ক্লিভেজ দেখা যায়।অতএব, উৎপত্তি, ডিউটারোস্টোম প্রকৃতি ও জটিল শারীরবৃত্তীয় কাঠামোর কারণে অ্যানেলিডার চেয়ে একাইনোডার্মাটা পর্বের শেষোক্ত প্রাণীটি নিঃসন্দেহে অধিকতর উন্নত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও