জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পার্থেনোজেনেসিস কী?

    (1)
  2. খ)

    জিনোম সিকোয়েন্সিং বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্র-Y থেকে চিত্র-Z তৈরির প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের M এবং N প্রক্রিয়ার মধ্যে বৈচিত্র্য সৃষ্টিতে কোনটি উপযুক্ত কারণসহ ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিষেকের সাহায্য ছাড়াই ডিম্বাণু থেকে সরাসরি ভ্রূণ বা নতুন জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে পার্থেনোজেনেসিস বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো জীবের কোষে উপস্থিত সমস্ত জেনেটিক বস্তুর সমষ্টিকে জিনোম বলে। একটি জীবের সম্পূর্ণ জিনোমের নিউক্লিওটাইড ক্ষারকগুলোর (অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, থাইমিন) বিন্যাসক্রম ধারাবাহিকভাবে নিখুঁতভাবে নির্ণয় করার প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়াকে জিনোম সিকোয়েন্সিং বলে। এর মাধ্যমে জিনোমের গঠন, বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন জিনের কার্যকারিতা জানা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র-Y হলো পরাগরেণু এবং চিত্র-Z হলো পুংগ্যামেটোফাইটের বিকাশ তথা অঙ্কুরিত পরাগরেণু। নিম্নে Y থেকে Z সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো:

    ১. পরাগরেণু পুংগ্যামেটোফাইটের প্রথম কোষ। এটি হ্যাপ্লয়েড (n)। এর প্রাচীর দুটি স্তরে গঠিত—বাইরের পুরু স্তর এক্সাইন এবং ভেতরের পাতলা স্তর ইনটাইন।
    ২. পরাগায়নের পর বা তার পূর্বে পরাগরেণুর নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুটি অসমান নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। এর মধ্যে অপেক্ষাকৃত বড় নিউক্লিয়াসটিকে নালিকা নিউক্লিয়াস এবং ছোট নিউক্লিয়াসটিকে জনন নিউক্লিয়াস (জেনারেটিভ নিউক্লিয়াস) বলা হয়।
    ৩. পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পতিত হলে রস শোষণ করে স্ফীত হয়। ফলে রেনুরন্ধ্র বা জার্মপোর দিয়ে ইনটাইন নালিকার আকারে বাইরে বের হয়ে আসে, যাকে পরাগনালি (Pollen tube) বলে।
    ৪. নালিকা নিউক্লিয়াসটি পরাগনালির অগ্রভাগে অবস্থান করে এবং জনন নিউক্লিয়াসটি এর পেছনে পরাগনালিতে প্রবেশ করে।
    ৫. পরবর্তী পর্যায়ে জনন নিউক্লিয়াসটি মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় পুনরায় বিভাজিত হয়ে দুটি পুংজননকোষ বা শুক্রাণু (male gametes) তৈরি করে।

    এভাবে পরাগরেণু (Y) থেকে পুংগ্যামেটোফাইট বা চিত্র-Z গঠিত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্রানুসারে, 'M' প্রক্রিয়াটি হলো যৌন প্রজনন প্রক্রিয়া (পরাগরেণুর মাধ্যমে পরাগায়ন, পরাগনালি বৃদ্ধি ও পরবর্তীতে নিষেক) এবং 'N' প্রক্রিয়াটি হলো পরাগরেণু বা পরাগধানী কালচার (অঙ্গজ প্রজননভিত্তিক টিস্যু কালচার পদ্ধতি)।

    প্রজাতির মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র্য সৃষ্টিতে M এবং N-এর মধ্যে 'M' (যৌন প্রজনন) প্রক্রিয়াটি অধিক উপযুক্ত। এর সপক্ষে কারণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

    ১. মিয়োসিস বিভাজন ও ক্রসিং ওভার: যৌন প্রজননে (M) গ্যামেট সৃষ্টির সময় মিয়োসিস কোষ বিভাজন ঘটে। মিয়োসিসের প্যাকাইটিন উপপর্যায়ে নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময় বা ক্রসিং ওভার ঘটে, ফলে জিনের রিকম্বিনেশন বা নতুন জিনীয় বিন্যাস সৃষ্টি হয়। এটি জীবে নতুন বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটায়।
    ২. পিতা-মাতার বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণ: M প্রক্রিয়ায় দুটি ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের জননকোষের (পুংগ্যামেট ও স্ত্রীগ্যামেট) মিলন ঘটে। ফলে উৎপন্ন জাইগোটে উভয় পিতামাতার জিন সংমিশ্রিত হয়ে অপত্যে জেনেটিক বৈচিত্র্য তৈরি হয়।
    ৩. অভিযোজন ক্ষমতা বৃদ্ধি: যৌন প্রজননের মাধ্যমে সৃষ্ট বৈচিত্র্যময় জীব পরিবর্তিত প্রতিকূল পরিবেশের সাথে সহজে খাপ খাইয়ে টিকে থাকতে পারে, যা জৈব অভিব্যক্তিতে সহায়তা করে।

    অপরদিকে, 'N' প্রক্রিয়া হলো টিস্যু কালচার প্রযুক্তি, যা মূলত মাইটোসিস বিভাজনের ওপর নির্ভরশীল ক্লোন তৈরির প্রক্রিয়া। এতে মাতৃউদ্ভিদের হুবহু বৈশিষ্ট্যের উদ্ভিদ তৈরি হয় এবং কোনো নতুন জিনের সংমিশ্রণ না ঘটায় স্বাভাবিকভাবে কোনো নতুন প্রকরণ বা জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয় না।

    অতএব, উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যের আলোকে বলা যায়, বৈচিত্র্য সৃষ্টিতে M প্রক্রিয়াটি (যৌন প্রজনন) সবচেয়ে উপযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন