জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

রাকিব উদ্ভিদকোষে একটি প্রাচীর দেখতে পেল যা প্রাণিকোষে নেই। আবার প্রাচীরের ভিতরে একটি পর্দা দেখতে পেল, যা প্রাণিকোষকেও আবৃত করে রেখেছে। এই পর্দা সম্পর্কে পড়তে গিয়ে দেখল, সূক্ষ্ম গঠনে এটি মোজাইক সদৃশ।

  1. ক)

    SSBP কী?

    (1)
  2. খ)

    কোষকে জীবদেহের গঠন এবং কাজের একক বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাচীরটির ভৌত গঠন বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পর্দাটিকে কেন মোজাইক সদৃশ বলা হয়েছে- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    SSBP-এর পূর্ণরূপ হলো Single-Stranded Binding Protein (এটি ডিএনএ রেপ্লিকেশনের সময় ডিএনএ-এর পৃথক হওয়া একক সূত্রকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোষ হলো জীবদেহের মৌলিক একক। প্রতিটি জীবের দেহ এক বা একাধিক কোষ দিয়ে গঠিত এবং দৈহিক বৃদ্ধি কোষ বিভাজনের মাধ্যমেই ঘটে। পাশাপাশি জীবের জীবনধারণের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় ও বিপাকীয় কার্যাবলি (যেমন—শ্বসন, প্রোটিন সংশ্লেষণ, পুষ্টি গ্রহণ ইত্যাদি) কোষের অভ্যন্তরীণ পরিবেশেই নিয়ন্ত্রিত ও সম্পাদিত হয়। এ কারণে কোষকে জীবদেহের গঠন ও কাজের একক বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রাচীরটি হলো উদ্ভিদকোষের অনন্য বৈশিষ্ট্য 'কোষ প্রাচীর' (Cell Wall)। এর ভৌত গঠন নিচে বর্ণনা করা হলো:
    ১. মধ্যপর্দা (Middle lamella): দুটি পাশাপাশি কোষের সংযোগস্থলে অবস্থিত পেকটিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ জেলির মতো স্তর। সাইটোকাইনেসিস পর্যায়ে এটি প্রথম সৃষ্টি হয়।
    ২. প্রাথমিক প্রাচীর (Primary wall): মধ্যপর্দার উপর সেলুলোজ, হেমিসেলুলোজ ও গ্লাইকোপ্রোটিন জমা হয়ে পাতলা (১-৩ µm) প্রাথমিক প্রাচীর গঠন করে।
    ৩. সেকেন্ডারি প্রাচীর (Secondary wall): পরিণত কোষে প্রাথমিক প্রাচীরের ভেতরের দিকে সেলুলোজ ও লিগনিন জমা হয়ে তিন স্তরবিশিষ্ট পুরু সেকেন্ডারি প্রাচীর গঠিত হয়। তবে ভাজক কোষ ও অধিক সক্রিয় বিপাকীয় কোষে এটি অনুপস্থিত থাকে।
    ৪. কূপেলাকা ও প্লাজমোডেজমাটা: প্রাচীরে কিছু সূক্ষ্ম ছিদ্র বা কূপ (Pit) থাকে। দুটি পাশাপাশি কোষের কূপ পরস্পরের মুখোমুখি হয়ে পিট-জোড় গঠন করে। এই ছিদ্র দিয়ে অণুতন্তুময় সাইটোপ্লাজমীয় সংযোগ বা প্লাজমোডেজমাটার সৃষ্টি হয়, যার মাধ্যমে কোষগুলোর মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা পায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পর্দাটি হলো প্লাজমামেমব্রেন বা কোষঝিল্লি। এর গঠন ব্যাখ্যার জন্য এস. জে. সিঙ্গার এবং জি. এল. নিকলসন ১৯৭২ সালে 'ফ্লুইড মোজাইক মডেল' (Fluid Mosaic Model) প্রস্তাব করেন।

    ১. দ্বি-স্তরবিশিষ্ট ফসফোলিপিড: ঝিল্লিটি প্রধানত ফসফোলিপিড বাইলেয়ার দিয়ে গঠিত। প্রতিটি ফসফোলিপিড অণুর একটি হাইড্রোফিলিক (পানিগ্রাহী) পোলার মস্তক এবং দুটি হাইড্রোফোবিক (পাবিত্যাশী) নন-পোলার লেজ থাকে। লিপিড স্তরটি তরলের ন্যায় গতিশীল থাকে এবং এর অণুগুলো সর্বদা স্থান পরিবর্তন বা কাঁপতে থাকে (ফ্লুইডিটি)।

    ২. মোজাইক সদৃশ প্রোটিন: ফসফোলিপিডের এই সান্দ্র তরল স্তরের মধ্যে বিভিন্ন প্রোটিন অণু (প্রান্তীয়, অন্তর্নিহিত ও সমন্বিত প্রোটিন) বিক্ষিপ্তভাবে এমনভাবে অবস্থান করে বা ভেসে থাকে, যেমনটা সমুদ্রের পানিতে হিমশৈল বা মেঝেতে মোজাইকের পাথর ছড়ানো থাকে।

    ৩. অন্যান্য উপাদান: এর সাথে গ্লাইকোক্যালিক্স (গ্লাইকোপ্রোটিন ও গ্লাইকোলিপিড) এবং কোলেস্টেরল বিন্যস্ত থাকে।

    ফসফোলিপিড স্তরের তরলতা এবং তাতে প্রোটিন অণুগুলোর বিভিন্ন স্থানে এলোমেলোভাবে মোজাইকের দানার মতো বিন্যস্ত থাকার সামগ্রিক রূপটির কারণেই বিজ্ঞানীদ্বয় প্লাজমামেমব্রেনকে 'মোজাইক সদৃশ' বলে অভিহিত করেছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন