সমাজকর্ম ২য় পত্র • সমাজকর্মের বিভিন্ন ক্ষেত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল বোর্ড ২০২৫
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
কারখানায় নিয়োজিত লোকদের নানাবিধ- সমস্যা নিরসন ও কাজের পরিবেশের উন্নয়নে সমাজকর্মের একটি শাখা ভূমিকা পালন করে।
- ক)(1)
প্রবীণ কারা?
- খ)(2)
হাসপাতাল সমাজকর্মের একটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সমাজকর্মের কোন শাখার কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উৎপাদন বৃদ্ধিতে উক্ত শাখার ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণত ৬০ বা ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের বয়োবৃদ্ধ জনগোষ্ঠীকে প্রবীণ বলা হয় (জাতিসংঘের মতে ৬০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের ব্যক্তিরা প্রবীণ)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাসপাতাল সমাজকর্মের একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মনোদৈহিক বাধা দূর করে চিকিৎসাব্যবস্থাকে কার্যকর ও ফলপ্রসূ করা।
অনেক সময় রোগী অর্থসংকট, পারিবারিক অসহযোগিতা বা মানসিক ভীতি ও হতাশার কারণে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারে না। হাসপাতাল সমাজকর্ম রোগীর এসব পারিপার্শ্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা নিরসন করে সুষ্ঠু চিকিৎসা গ্রহণের পরিবেশ তৈরি করে এবং দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়তা করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সমাজকর্মের 'শিল্প সমাজকর্ম' (Industrial Social Work) শাখার কথা বলা হয়েছে।
শিল্প সমাজকর্ম হলো সমাজকর্মের এমন একটি বিশেষায়িত শাখা, যা শিল্প কারখানায় শ্রমিক ও মালিকের মধ্যকার সম্পর্কের উন্নয়ন, কাজের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং শ্রমিকদের নানাবিধ পেশাগত, ব্যক্তিগত ও মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা সমাধানে পেশাদার সমাজকর্মের জ্ঞান ও পদ্ধতি প্রয়োগ করে।
উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে যে, কারখানায় নিয়োজিত লোকদের বিভিন্ন সমস্যা নিরসন এবং কাজের পরিবেশের উন্নয়নে সমাজকর্মের একটি শাখা কাজ করে থাকে। শিল্প-কারখানায় শ্রমিকদের কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, মালিক-শ্রমিক দ্বন্দ্ব দূরীকরণ এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই শিল্প সমাজকর্মের কাজ। অতএব, উদ্দীপকের বক্তব্যটি সুস্পষ্টভাবে শিল্প সমাজকর্মকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিল্প কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধিতে শিল্প সমাজকর্ম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বহুলাংশে নির্ভর করে শ্রমিকদের দক্ষতা, মানসিক তৃপ্তি ও অনুকূল কর্মপরিবেশের ওপর। নিচে উৎপাদন বৃদ্ধিতে শিল্প সমাজকর্মের ভূমিকা মূল্যায়ন করা হলো:
১. কাজের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি: শিল্প সমাজকর্মী কারখানায় স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেন, যা শ্রমিকদের স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
২. শ্রমিক অসন্তোষ ও দ্বন্দ্ব নিরসন: মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, যোগাযোগ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে শিল্পবিরোধ ও ধর্মঘটের মতো পরিস্থিতি হ্রাস পায়। ফলে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন সম্ভব হয়।
৩. শ্রমিকদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার সমাধান: শ্রমিকদের ব্যক্তিগত হতাশা, আর্থিক দুশ্চিন্তা বা পারিবারিক সমস্যার ক্ষেত্রে কাউন্সিলিং ও সহায়তা প্রদান করা হয়। এতে শ্রমিকরা পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে পারে।
৪. স্বাস্থ্যসেবা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম: শ্রমিকদের বাসস্থান, পুষ্টি, চিকিৎসা এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করে শিল্প সমাজকর্ম, যা শ্রমিকের কর্মক্ষমতা বজায় রাখে।
৫. কর্মস্পৃহা ও মনোবল বৃদ্ধি: শ্রমিকদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখার ফলে শ্রমিকদের মনোবল বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করে।
সুতরাং, কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণ সাধনের মাধ্যমে শিল্প সমাজকর্ম জাতীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও