‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার হয় । ফলে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং জনগণ ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। এক পর্যায়ে জনগণের প্রিয় নেতা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দাবি সংবলিত একটি প্রস্তাব পেশ করেন।

  1. ক)

    সামরিক শাসন কী?

    (1)
  2. খ)

    জলবায়ু পরিবর্তন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত বইয়ের কোনো কর্মসূচির সাদৃশ্য আছে কি? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কর্মসূচি ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ -বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সংবিধান ও গণতান্ত্রিক নিয়ম-রীতি স্থগিত বা লঙ্ঘন করে সামরিক বাহিনী কর্তৃক রাষ্ট্রক্ষমতা দখল ও পরিচালনা করাকে সামরিক শাসন (Martial Law) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জলবায়ু পরিবর্তন বলতে কোনো অঞ্চল বা সমগ্র পৃথিবীর আবহাওয়ার উপাদানসমূহের (যেমন: তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ) দীর্ঘমেয়াদি (সাধারণত ৩০-৪০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে) স্থায়ী ও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনকে বোঝায়। প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি শিল্পায়ন, বন উজাড় এবং জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ুর ক্ষতিকর পরিবর্তন ঘটছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে আমার পঠিত পৌরনীতি ও সুশাসন বইয়ের ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি'র সাদৃশ্য রয়েছে।

    পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে চরম বৈষম্য ও শোষণের শিকার করেছিল। এ বৈষম্য থেকে মুক্তির লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের সুস্পষ্ট দাবি সংবলিত ৬ দফা কর্মসূচি পেশ করেন।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়ে ক্ষোভে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং তাদের প্রিয় নেতা একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দাবি সংবলিত প্রস্তাব পেশ করেন। এই প্রেক্ষাপটটি ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনের পটভূমি ও উত্থাপনের সাথে হুবহু মিলে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কর্মসূচি অর্থাৎ ১৯৬৬ সালের ছয় দফা কর্মসূচি ছিল প্রকৃতপক্ষে 'বাঙালির মুক্তির সনদ' বা ম্যাগনাকার্টা—উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচিতে বাঙালির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি উত্থাপন করা হয়েছিল। এর প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল সংসদীয় পদ্ধতির যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার, কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কেবল প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় রাখা, পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা ব্যবস্থা, প্রদেশগুলোর কর আদায়ের ক্ষমতা এবং নিজস্ব আধা-সামরিক বাহিনী গঠন।

    এই কর্মসূচির মাধ্যমেই বাঙালি জাতি তাদের প্রকৃত অধিকার ও স্বাধীনতার পথ খুঁজে পায়। ছয় দফার আন্দোলন তৎকালীন স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকারকে কাঁপিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। পরিশেষে এই ছয় দফার ধারাবাহিকতায় একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, ছয় দফা কর্মসূচি ছিল বাঙালির বাঁচার দাবি এবং প্রকৃত মুক্তির সনদ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন