বাংলা ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ট্র্যাজেডি বিয়োগাত্মক সাহিত্য। ট্র্যাজেডিতে মহৎ চরিত্রের পতন ঘটে। 'ইডিপাসে' আমরা দেখি ইডিপাসের পতন। সেটা ছিলো নিয়তি নির্ধারিত। 'ওথেলো' নাটকে নিজের ভুলে স্ত্রীকে অবিশ্বাস করে নিজের নির্মম পরিণতি ডেকে আনে। ওথেলোর অধীনস্থ সৈনিক ইয়াগো তার স্ত্রীর সহযোগিতায় ওথেলোর মনে স্ত্রী সম্পর্কে সন্দেহ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি করে।
- ক)(1)
ইংরেজের পক্ষে মোট সৈন্য সংখ্যা কত ছিল?
- খ)(2)
“দেশবাসীকে আশ্বাস দিচ্ছি যে, তাঁদের দুর্ভোগের অবসান হয়েছে"-বুঝিয়ে লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ইয়গো হিসেবে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে কাদের চিহ্নিত করা যায়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“নিয়তি ও বিশ্বাসঘাতকতা হচ্ছে ট্র্যাজেডির মূল।"-উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পলাশীর যুদ্ধে ক্লাইভের নেতৃত্বে ইংরেজদের পক্ষে মোট সৈন্য সংখ্যা ছিল তিন হাজার দুইশত (৩,২০০)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি মীরজাফর নবাব হওয়ার পর জনগণকে মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে করেছিল।
পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরাজিত ও উৎখাত করে ইংরেজদের পুতুল নবাব হিসেবে মীরজাফর মসনদে বসে। মসনদ দখল করে সে সাধারণ প্রজাদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য প্রচার করে যে, নবাব সিরাজউদ্দৌলার কথিত ‘অত্যাচার’ ও বিশৃঙ্খলা থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে এবং দেশবাসীর দুর্ভোগের অবসান হয়েছে। বস্তুত নিজের দেশদ্রোহিতা ও মসনদ লিপ্সাকে বৈধতা দেওয়ার জন্যই মীরজাফর এই ভণ্ডামিপূর্ণ আশ্বাস দিয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের কুচক্রী চরিত্র 'ইয়াগো' হিসেবে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে প্রধান বিশ্বাসঘাতক মীরজাফর ও তার সহযোগী ষড়যন্ত্রকারীদের (উমিচাঁদ, জগৎশেঠ, রাজবল্লভ, ঘসেটি বেগম প্রমুখ) চিহ্নিত করা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ইয়াগো ছিল ওথেলোর অধীনস্থ সৈনিক হয়েও তার অন্তরে চরম শত্রুতা পোষণ করত এবং কুচক্রান্তের জাল বুনে ওথেলোর সর্বনাশ ডেকে এনেছিল। একইভাবে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মীরজাফর ছিল নবাবের প্রধান সেনাপতি। নবাব তার ওপর অন্ধের মতো ভরসা করতেন এবং বারবার কোরআন ছুঁইয়ে দেশের স্বার্থে শপথ করা সত্ত্বেও মীরজাফর ভেতরে ভেতরে ইংরেজদের সাথে আঁতাত করে নবাবের ধ্বংসের পরিকল্পনা আঁটে। পাশাপাশি জগৎশেঠ, উমিচাঁদ ও ঘসেটি বেগম নবাবের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থেকেও গোপন ষড়যন্ত্রে ইয়াগোর মতো বিষবাষ্প ছড়িয়ে নবাবের চরম সর্বনাশ ত্বরান্বিত করে। সুতরাং, গোপন কুচক্র ও বিশ্বাসঘাতকতার দিক থেকে এরা প্রত্যেকেই উদ্দীপকের ইয়াগোর প্রতিরূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“নিয়তি ও বিশ্বাসঘাতকতা হচ্ছে ট্র্যাজেডির মূল।”—উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সার্বিক প্রেক্ষাপটে মন্তব্যটি অত্যন্ত যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
ট্র্যাজেডির অন্যতম প্রধান উপাদান হলো চরিত্রের পতন, যা কখনো অদৃষ্ট বা নিয়তির দ্বারা পরিচালিত হয়, আবার কখনো নিকটজনদের চরম বিশ্বাসঘাতকতা এবং ভুলের কারণে ঘটে থাকে। উদ্দীপকে ইডিপাসের পতনের মূলে ছিল অমোঘ নিয়তি এবং ওথেলোর জীবনে নেমে এসেছিল অধীনস্থ ইয়াগোর কূট চক্রান্ত ও বিশ্বাসঘাতকতা।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে এই উভয় শক্তিরই যুগপৎ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন একজন তরুণ, দেশপ্রেমিক ও সৎ শাসক। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে একদিকে কাজ করেছে দরবারের শীর্ষ সেনাপতি ও পারিষদবর্গ—মীরজাফর, রায়দুর্লভ, জগৎশেঠ প্রমুখের সীমাহীন বিশ্বাসঘাতকতা। অন্যদিকে, বারবার চেষ্টা করা সত্ত্বেও সার্বিক পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও ঘটনার ধারা নবাবের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, যা যেন এক অমোঘ নিয়তির লিখন। বিশ্বস্ত সেনাপতি মীর মদনের আকস্মিক পতন, বৃষ্টির কারণে বারুদ ভিজে যাওয়া এবং মীরজাফরের কপট শপথে নবাবের ভুল সিদ্ধান্ত—সবকিছু মিলিয়ে এক চরম ট্র্যাজিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অতএব, বিশ্বাসঘাতকদের নির্মম ষড়যন্ত্র এবং নিয়তির অপ্রতিরোধ্য গতি মিলেই নবাব সিরাজউদ্দৌলার মহৎ জীবনের পতন ঘটিয়েছে, যা উদ্দীপক ও নাটকের আলোকে মন্তব্যটিকে যথার্থ প্রমাণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও