বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মচমইল বাজারে প্রকাশ্যে তিনজন সন্ত্রাসী আক্রমণ করে তালেব মাস্টারকে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মোটরসাইকেলযোগে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এমন সময় ঘটনাস্থলে এসে পড়ে সাহসী এক তরুণ ফিরোজ। সে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে এবং একজনকে ধরে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেয়। ফিরে এসে দেখে মাস্টার তখনও মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আছেন। কেউ সাহায্যে এগিয়ে আসছে না, পুলিশি ঝামেলার ভয়ে। ফিরোজ কোনো কিছু না ভেবেই মাস্টার মশাইকে নিয়ে যায় মেডিকেলে।
- ক)(1)
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য কোন দৈনিক পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন?
- খ)(2)
আঠারো বছর বয়স মাথা নোয়াবার নয়'- কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের ফিরোজের মানসিকতার যে দিকটি 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মধ্যে বিদ্যমান তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের মূলভাব 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূলভাবের দ্যোতক- আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য দৈনিক 'স্বাধীনতা' পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তারুণ্যের তেজ, আত্মমর্যাদাবোধ এবং অন্যায়ের কাছে মাথানত না করার দৃঢ় সংকল্পের কারণে বলা হয়েছে 'আঠারো বছর বয়স মাথা নোয়াবার নয়'।
আঠারো বছর বয়স হলো যৌবনের পদার্পণের কাল। এ বয়সের তরুণেরা কোনো অন্যায়, শোষণ, পরাধীনতা বা প্রতিকূলতার কাছে আত্মসমর্পণ করতে জানে না। তারা সকল ভয়ভীতি ও বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে সাহসের সাথে সত্য ও ন্যায়ের পথে মাথা উঁচু করে চলতে ভালোবাসে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ফিরোজের মানসিকতায় 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় বর্ণিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতা ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে নিঃস্বার্থভাবে দাঁড়ানোর মানবিক দিকটি বিদ্যমান।
'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় তারুণ্যের ইতিবাচক ও তেজস্বী শক্তির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কবি দেখিয়েছেন এ বয়স কোনো বাধা মানে না, দুর্যোগ ও বিপদে আত্মোৎসর্গ করতে কুণ্ঠিত হয় না এবং মানবকল্যাণে প্রাণ দিতেও পিছপা হয় না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, তালেব মাস্টার সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হলে সেখানে উপস্থিত জনতা পুলিশি ঝামেলার ভয়ে নিষ্ক্রিয় থাকে। কিন্তু তরুণ ফিরোজ কোনো কিছু চিন্তা না করে অত্যন্ত সাহসের সাথে সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে একজনকে আটক করে এবং রক্তাক্ত তালেব মাস্টারকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার এই নির্ভীক প্রতিবাদী চেতনা ও নিঃস্বার্থ পরোপকারী মনোভাব 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার আদর্শ তরুণদের বৈশিষ্ট্যের সাথে হুবহু মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মূলভাব 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূলভাবের দ্যোতক—মন্তব্যটি যথার্থ।
সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূল প্রতিপাদ্য হলো তারুণ্যের অদম্য শক্তি, প্রতিবাদী রূপ এবং সমাজ ও মানুষের বিপদে নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসার মানসিকতা। এ বয়স সমস্ত সংশয় ও ভীরুতাকে পেছনে ফেলে অন্যায়ের প্রতিরোধ করতে জানে এবং অপরের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারে।
উদ্দীপকের ঘটনাটিতে সমাজে সাধারণ মানুষের ভীতি ও নিস্ক্রিয়তার বিপরীতে একজন তরুণের সাহসী ও সংবেদনশীল রূপ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশ্যে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলায় যেখানে প্রবীণ বা সাধারণ জনতা ভয়ে পিছিয়ে যায়, সেখানে ফিরোজ সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে অপরাধীকে আটক করে এবং আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। অর্থাৎ অন্যায় রুখে দাঁড়ানো এবং মানবতার সেবায় নির্ভয়ে নিজেকে যুক্ত করাই উদ্দীপকের মূলভাব।
কবিতাটিতেও এই বয়সের ইতিবাচক শক্তি হিসেবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং পরার্থে আত্মনিবেদনের দিকটিকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে। তাই উদ্দীপকের ঘটনা ও বক্তব্য সামগ্রিকভাবে 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার মূল চেতনা ও ভাবনারই প্রতিফলন ঘটায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও