জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
এমফাইসেমা কী?
- খ)(2)
শ্বসনে শ্বাসরঞ্জকের ভূমিকা লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গ দ্বারা মানবদেহে সংঘটিত প্রক্রিয়াটি বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গের এক্স-রে অধূমপায়ী ও ধূমপায়ী মানুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন হয় কেন? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এমফাইসেমা (Emphysema) হলো ফুসফুসের অ্যালভিওলাই প্রাচীর বিনষ্ট হওয়ার ফলে সৃষ্ট একটি দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসীয় রোগ, যার ফলে শ্বাসকষ্ট হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানবদেহের প্রধান শ্বাসরঞ্জক হলো লোহিত রক্তকণিকায় অবস্থিত হিমোগ্লোবিন। শ্বসনে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
১. অক্সিজেন পরিবহন: ফুসফুস থেকে সংগৃহীত অক্সিজেনের প্রায় ৯৮% হিমোগ্লোবিনের সাথে শিথিল রাসায়নিক বন্ধনে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে এবং দেহকোষে পরিবাহিত হয়।
২. কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন: দেহকোষে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডের একটি অংশ (প্রায় ১০-২০%) হিমোগ্লোবিনের গ্লোবিন অংশের সাথে যুক্ত হয়ে কার্বামিনোহিমোগ্লোবিন হিসেবে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে নির্দেশিত অঙ্গটি হলো মানবদেহের প্রধান শ্বসন অঙ্গ— ফুসফুস। ফুসফুসের মাধ্যমে মানবদেহে বহিঃশ্বসন তথা 'শ্বাসক্রিয়া' (Breathing) প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়, যা দুটি পর্যায়ে বিভক্ত:
১. প্রশ্বাস (Inspiration): এটি একটি সক্রিয় প্রক্রিয়া। এ সময় ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদা সংকুচিত হয়ে নিচের দিকে নেমে আসে এবং ইন্টারকস্টাল পেশির সংকোচনে স্টার্নাম ও পরশুকাগুলো উপরের দিকে ও বাইরে প্রসারিত হয়। এর ফলে বক্ষগহ্বরের আয়তন বৃদ্ধি পায় এবং ফুসফুসের অভ্যন্তরে বায়ুর চাপ কমে যায়। ফলে বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেনযুক্ত বাতাস নাসারন্ধ্র ও শ্বাসনালি হয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করে।
২. নিঃশ্বাস (Expiration): এটি একটি নিষ্ক্রিয় প্রক্রিয়া। এ সময় ডায়াফ্রাম ও ইন্টারকস্টাল পেশি শিথিল হয়ে স্বাভাবিক পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে। ফলে বক্ষগহ্বর সংকুচিত হয়ে আয়তন হ্রাস পায় এবং ফুসফুসের অভ্যন্তরীণ চাপ বেড়ে যায়। এতে ফুসফুস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ বাতাস নাসারন্ধ্র দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যায়।
এভাবে ফুসফুসের সংকোচন-প্রসারণের মাধ্যমে মানবদেহে অনবরত গ্যাসীয় বিনিময় সম্পন্ন হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো ফুসফুস। একজন অধূমপায়ী এবং একজন ধূমপায়ীর ফুসফুসের এক্স-রে প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। এর কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. অধূমপায়ী মানুষের ফুসফুস: অধূমপায়ীদের ফুসফুসের টিস্যু স্বাভাবিক, স্থিতিস্থাপক ও পরিষ্কার থাকে। অ্যালভিওলাইসমূহ বাতাস দ্বারা পূর্ণ থাকে এবং রক্তনালিগুলোর গঠন স্বাভাবিক থাকে। বাতাস এক্স-রে রশ্মিকে কম বাধা দেয় বা স্বচ্ছভাবে অতিক্রম করতে দেয়, ফলে একজন সুস্থ অধূমপায়ীর ফুসফুসের এক্স-রে প্লেটে ফুসফুসের অংশটি তুলনামূলক সমসত্ত্ব এবং পরিষ্কার কালচে (radiolucent) দেখায়।
২. ধূমপায়ী মানুষের ফুসফুস: তামাকের ধোঁয়ায় থাকা নিকোটিন, টার, কার্বন মনোক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান শ্বাসনালির সিলিয়া বিনষ্ট করে এবং ফুসফুসের অভ্যন্তরীণ অ্যালভিওলাই ও টিস্যুর ক্ষতিসাধন করে। এর প্রভাবে:
- ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসের কারণে শ্বাসনালিতে শ্লেষ্মা জমে এবং প্রদাহের সৃষ্টি হয়।
- অ্যালভিওলাইয়ের প্রাচীর ধ্বংস হয়ে এমফাইসেমা দেখা দেয়, যার ফলে ফুসফুস অতি-স্ফীত (hyperinflated) হয়ে ডায়াফ্রাম চ্যাপ্টা হয়ে যেতে পারে।
- ফুসফুসের টিস্যুতে ফাইব্রোসিস (তন্তুময়তা), দাগ বা ক্ষত (scarring) এবং টার জমার ফলে অস্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়।
- ক্ষেত্রবিশেষে ধূমপায়ীদের ফুসফুসে টিউমার বা ক্যান্সারের ক্ষত (mass lesion) সৃষ্টি হয়।
এই ঘন টিস্যু, প্রদাহ, ক্ষত ও টিউমার এক্স-রে রশ্মিকে বেশি শোষণ করে, যার ফলে ধূমপায়ীর ফুসফুসের এক্স-রে ছবিতে অনাকাঙ্ক্ষিত সাদাটে দাগ, ছোপ (patches বা infiltrates) ও অস্বাভাবিক রেখা ফুটে ওঠে।
সুতরাং, তামাকের ধোঁয়াজনিত গাঠনিক ও টিস্যুগত পরিবর্তনের কারণেই অধূমপায়ী ও ধূমপায়ীর ফুসফুসের এক্স-রে ভিন্ন দেখায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও