বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের একজন বীর শহিদ তার মা-বাবাকে চিঠি লিখে 'মা, আমি মিছিলে যাচ্ছি। আমি নিজেকে আর আটকিয়ে রাখতে পারলাম না। সরি আব্বুজান! তোমার কথা অমান্য করে বের হলাম। স্বার্থপরের মতো ঘরে বসে থাকতে পারলাম না। আমাদের ভাইয়েরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে রাজপথে নেমে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। অকাতরে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিচ্ছে। একটি প্রতিবন্ধী কিশোর, ৭ বছরের বাচ্চা, ল্যাংড়া মানুষ যদি সংগ্রামে নামতে পারে, তাহলে আমি কেন বসে থাকবো। আমার মনে হয় স্বার্থপরের মতো ঘরে বসে না থেকে সংগ্রামে নেমে গুলি খেয়ে বীরের মতো মৃত্যু অধিক শ্রেষ্ঠ.....।
- ক)(1)
যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পতন হলে কোম্পানি কত টাকা পাবে বলে দলিলে উল্লেখ আছে?
- খ)(2)
"সবাই মিলে সত্যিই আমরা বাংলাকে বিক্রি করে দিচ্ছি না তো?" উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে শহিদের সাথে নাটকের মোহনলাল চরিত্রের তুলনা কর।
- ঘ)(4)
'উদ্দীপকের শহিদের মতো দেশপ্রেম নবাব পক্ষের সব সেনাপতির মনে থাকলে বাংলাকে দুইশ বছর ইংরেজদের গোলামি করতে হতো না" তোমার অভিমত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পতন হলে কোম্পানি এক কোটি টাকা পাবে বলে দলিলে উল্লেখ আছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"সবাই মিলে সত্যিই আমরা বাংলাকে বিক্রি করে দিচ্ছি না তো?"—উক্তিটি দ্বারা মীর জাফরের মনে ক্ষণিকের জন্য আত্মদংশন ও অপরাধবোধের বহিঃপ্রকাশ বোঝানো হয়েছে।
সিকান্দার আবু জাফর রচিত 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মীর জাফর, জগৎশেঠ, উমিচাঁদ প্রমুখ ষড়যন্ত্রকারী নবাবকে উৎখাত করে ইংরেজদের সাথে গোপন চুক্তি সম্পাদন করে। চুক্তির শর্তগুলো চরমভাবে ইংরেজদের স্বার্থের অনুকূলে ছিল, যার মাধ্যমে বাংলার সার্বভৌমত্ব পরোক্ষভাবে ইংরেজদের হাতে তুলে দেওয়ার আয়োজন চলছিল। চুক্তিনামার বিপজ্জনক শর্তগুলো দেখে মীর জাফরের মনে মুহূর্তের জন্য দেশদ্রোহিতার তীব্র অপরাধবোধ জাগ্রত হয় এবং সেই শঙ্কা থেকেই তিনি এই কথাটি উচ্চারণ করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শহিদের চরম দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের মানসিকতার সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের দেশপ্রেমিক চরিত্র মোহনলালের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের এক শহিদ নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, জীবনের মায়া ও পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে দেশের মানুষের মুক্তির জন্য মিছিলে যোগ দেয়। সে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মৃত্যুকে বরণ করে নিতেও দ্বিধা করেনি। তার চেতনা ছিল স্বার্থপরের মতো ঘরে বসে না থেকে বীরের মতো দেশের জন্য আত্মোৎসর্গ করা।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও মোহনলাল ছিলেন নবাবের প্রতি অনুগত ও দেশপ্রেমিক সেনাপতি। যখন মীর জাফরসহ অন্য সেনাপতিরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে নিষ্ক্রিয় দাঁড়িয়ে ছিল, তখন মোহনলাল দেশমাতৃকা ও নবাবের মর্যাদা রক্ষায় জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। নবাবকে তিনি বিশ্বাসঘাতকদের হাত থেকে রক্ষা করতে প্রাণপণ লড়াই চালিয়েছেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে বীরের মতো নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন। উদ্দীপকের শহিদের দেশের জন্য নির্ভীক আত্মোৎসর্গের চেতনা এবং মোহনলালের বীরত্বপূর্ণ আনুগত্য ও দেশপ্রেম একই সূত্রে গাঁথা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'উদ্দীপকের শহিদের মতো দেশপ্রেম নবাব পক্ষের সব সেনাপতির মনে থাকলে বাংলাকে দুইশ বছর ইংরেজদের গোলামি করতে হতো না'—উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ ও যৌক্তিক।
উদ্দীপকের শহিদ তরুণ নিজের স্বার্থ ও জীবনের মায়াকে তুচ্ছ জ্ঞান করে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও জাতির মুক্তির সংগ্রামে বীরের মতো আত্মাহুতি দিয়েছে। তার মধ্যে ছিল খাঁটি দেশপ্রেম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব।
অন্যদিকে, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, পলাশির প্রান্তরে নবাবের বিশাল সৈন্যবাহিনী থাকা সত্ত্বেও মীর জাফর, রায়দুর্লভ ও ইয়ার লতিফের মতো সেনাপতিদের বিশ্বাসঘাতকতা ও ব্যক্তিস্বার্থের কারণে নবাবকে শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হয়। তারা নবাবের পক্ষে লড়বার শপথ নিয়ে পবিত্র কুরআন স্পর্শ করেও ইংরেজদের সাথে গোপন আঁতাত করে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে নীরব পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। মাত্র গুটিকয়েক ইংরেজ সৈন্যের কাছে বিশাল বাহিনী পরাস্ত হয় কেবল তাদের স্বার্থপরতা ও চরম দেশদ্রোহিতার কারণে।
যদি মীর জাফরসহ অন্যান্য সেনাপতিরা ব্যক্তিস্বার্থ ও লোভের ঊর্ধ্বে উঠে উদ্দীপকের শহিদের মতো নিঃস্বার্থ দেশপ্রেম বুকে ধারণ করতেন, তবে পলাশির যুদ্ধে নবাবের বিজয় সুনিশ্চিত ছিল। তাদের বিশ্বাসঘাতকতার ফলেই বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তমিত হয় এবং দেশকে প্রায় দুইশ বছর ব্রিটিশ শাসনের শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকতে হয়। অতএব, উক্তিটি ঐতিহাসিকভাবে সত্য ও যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও