বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন
আতিকা বই পড়ে জানতে পারেন একসময় এদেশের জনগণ বিদেশি শাসনের প্রতি এতই বিরূপ ছিল যে তারা বিদেশি কোনো পণ্য ক্রয় করা থেকেও বিরত থেকেছিল। শুধু তাই নয়, এদেশের সর্বস্তরের জনগণ বিদেশি শিক্ষাও বর্জন করেছিল।
- ক)(1)
বঙ্গবঙ্গ কী?
- খ)(2)
বাংলার সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন ব্যর্থ হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে আতিকার বই পড়ে জানা বিষয়ে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আন্দোলনের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত আন্দোলনের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বঙ্গভঙ্গ হলো ১৯০৫ সালে ভাইসরয় লর্ড কার্জনের বাংলা প্রদেশকে পূর্ববঙ্গ ও আসাম এবং পশ্চিমবঙ্গ—এই দুই ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত।
- খ)
বাংলার সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন গুপ্ত সংগঠনভিত্তিক ছিল এবং এতে ব্যাপক গণসমর্থন ছিল না। বিপ্লবীদের অস্ত্র ও অর্থের অভাব ছিল। ব্রিটিশ সরকারের কঠোর দমননীতি, গ্রেফতার ও শাস্তির কারণে সংগঠনগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। এসব কারণে আন্দোলন সফল হতে পারেনি।
- গ)
উদ্দীপকে বিদেশি পণ্য বর্জন ও বিদেশি শিক্ষা বর্জনের যে কথা আছে, তা ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গবিরোধী স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলনকে প্রতিফলিত করে।
বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদে মানুষ ব্রিটিশ পণ্য বর্জন (বয়কট) করে এবং দেশি পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত হয়। ব্রিটিশ শিক্ষাব্যবস্থাও বর্জন করা হয় এবং জাতীয় শিক্ষার প্রচেষ্টা শুরু হয়। উদ্দীপকের বিদেশি শাসনের প্রতি বিরূপতা, পণ্য ও শিক্ষা বর্জন এই আন্দোলনের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলে যায়।
- ঘ)
স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলনের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী, উক্তিটি যথার্থ।
১. আন্দোলনের চাপে ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়। এটি জনশক্তির জয় হিসেবে বিবেচিত।
২. এই আন্দোলন ভারতীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবোধ ও স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে তোলে এবং পরবর্তী স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে।
৩. দেশীয় শিল্প, জাতীয় শিক্ষা ও সাহিত্যের বিকাশ ঘটে। এ সময় থেকে সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনেরও সূচনা হয়।
৪. তবে এর ফলে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কে দূরত্ব বাড়ে এবং ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।সুতরাং, জাতীয় চেতনা, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের কারণে এই আন্দোলনের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও