‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

সদ্য স্বাধীন একটি দেশের দুটি অঞ্চল বরেন্দ্র ও ময়নামতি। রাষ্ট্রটির শাসকগোষ্ঠী বরেন্দ্র অন্যলের মাত্র ৫% জনগণের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার মতামত দেয়। এ মতামতের বিরুদ্ধে ময়নামতি রাষ্ট্রের জনগণ আন্দোলন করে। অবশেষে বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে তাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করে।

  1. ক)

    গণতন্ত্রের মানসপুত্র কে ছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    নির্বাচন কমিশনের গঠন লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পঠিত কোন আন্দোলনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আন্দোলনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গণতন্ত্রের মানসপুত্র ছিলেন হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশনার সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দান করেন। এই কমিশনের প্রধান দায়িত্ব হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচনের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক 'ভাষা আন্দোলন'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬% মানুষের মুখের ভাষা বাংলা হওয়া সত্ত্বেও মাত্র ৩-৪% মানুষের মুখের ভাষা উর্দুকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করে। উদ্দীপকে বরেন্দ্র অঞ্চলের মাত্র ৫% মানুষের ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার অপচেষ্টা তারই প্রতিচ্ছবি।

    এর প্রতিবাদে পূর্ব বাংলার (উদ্দীপকের ময়নামতি) ছাত্র ও জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্ররা মিছিল বের করলে পুলিশ গুলি চালায়। ফলে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন এবং রক্তের বিনিময়ে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করে। উদ্দীপকের রক্ত দিয়ে দাবি প্রতিষ্ঠার ঘটনাটি ভাষা আন্দোলনের ঘটনারই সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ আন্দোলনটি হলো ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন। বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে এ আন্দোলনের তাৎপর্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী:

    ১. বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি: ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই ধর্মের ভিত্তিতে গঠিত কৃত্রিম পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভিত্তিমূল কেঁপে ওঠে এবং ভাষাভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদের চূড়ান্ত সূচনা হয়।
    ২. অধিকার সচেতনতা ও ঐক্য: এটি বাঙালি জাতিকে তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হতে শিখিয়েছিল।
    ৩. পরবর্তী সকল আন্দোলনের অনুপ্রেরণা: ভাষা আন্দোলনের সাফল্যের পথ ধরেই ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-র ছয় দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচন সংঘটিত হয়।
    ৪. মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি: ২১ ফেব্রুয়ারির রক্তদান বাঙালিদের মধ্যে আপসহীন মনোভাব ও সংগ্রামী চেতনার জন্ম দেয়, যা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সৃষ্টিতে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
    ৫. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: এ আন্দোলনের ফলেই আজ প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে পালিত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক পর্যায়ে আমাদের জন্য এক অনন্য গৌরব।

    অতএব, ভাষা আন্দোলন নিছক কোনো ভাষার লড়াই ছিল না, এটি ছিল বাঙালির স্বাধীনতার প্রথম সোপান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন