পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব : বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব 'M' ইংল্যান্ডে পড়াশোনা করে ব্যারিস্টার হয়ে ভারতে এসে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন। গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য, আইনের শাসন এবং নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি তাঁর ছিল অসীম শ্রদ্ধা। তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করেন।
- ক)(1)
দেশবন্ধু উপাধি দেয়া হয় কাকে?
- খ)(2)
দ্বি-জাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত রাজনৈতিক নেতার সাথে তোমার পঠিত কোন নেতার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রতিফলিত নেতার রাজনৈতিক অবদান মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্তরঞ্জন দাশকে 'দেশবন্ধু' উপাধি দেওয়া হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বি-জাতি তত্ত্ব হলো এমন একটি রাজনৈতিক মতবাদ, যার মূল কথা ছিল ব্রিটিশ ভারতে হিন্দু ও মুসলমান দুটি পৃথক জাতি এবং তাদের ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পূর্ণ আলাদা। ১৯৩৯-১৯৪০ সালে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই তত্ত্বের জোরালো প্রবক্তা ছিলেন। এ তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব এবং ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত রাজনৈতিক নেতা জনাব 'M'-এর সাথে হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর সাদৃশ্য রয়েছে।
হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড থেকে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করে ব্যারিস্টার হন এবং ভারতে ফিরে এসে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। তিনি আজীবন নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি, আইনের শাসন এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। উদ্দীপকের জনাব 'M'-ও একইভাবে ইংল্যান্ড থেকে ব্যারিস্টার হয়ে দেশে ফিরে আসেন এবং নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষে আজীবন সংগ্রাম করেন। এ কারণে জনাব 'M'-এর রাজনৈতিক আদর্শ ও জীবনের সাথে হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর ঘনিষ্ঠ সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রতিফলিত নেতা অর্থাৎ হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর রাজনৈতিক অবদান বাঙালির স্বাধিকার ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয়। তাঁর উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক অবদানসমূহ নিম্নে আলোচিত হলো:
১. মুসলিম লীগ ও পাকিস্তান আন্দোলন: ব্রিটিশ ভারতে মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২. যুক্তফ্রন্ট গঠনে ভূমিকা: ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে যুক্তফ্রন্ট গঠনে তিনি অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন। যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা প্রণয়ন ও ঐতিহাসিক বিজয়ে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
৩. আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ও বিস্তার: মওলানা ভাসানীর পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক দল হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেন।
৪. পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক লড়াই: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে (১৯৫৬-১৯৫৭) এবং পরবর্তী সময়ে আইয়ুব খানের সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (NDF) গঠন করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই চালিয়ে যান।পরিশেষে বলা যায়, হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী আজীবন নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রেখে পাকিস্তানি শোষণ ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও