‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

নবদ্বীপ রাস্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই রাষ্ট্রটির সরকার একটি অন্যলের জনগণের ওপর শোষণ নির্যাতন চালায়। এরকম পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এই অঞ্চলের একজন জনপ্রিয় নেতা দাবি সংবলিত একটি প্রস্তাব পেশ করেন।'

  1. ক)

    সামরিক শাসন কী?

    (1)
  2. খ)

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পঠিত বইয়ের কোন কর্মসূচির মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত কর্মসূচির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামরিক বাহিনী কর্তৃক দেশের সংবিধান স্থগিত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলপূর্বক দেশ পরিচালনা করাকে সামরিক শাসন (Martial Law) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বলতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে বুকের রক্ত দিয়ে মাতৃভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠার ঘটনাকে সম্মান জানিয়ে ইউনেস্কো কর্তৃক ঘোষিত বিশ্বব্যাপী মাতৃভাষার মর্যাদা ও বহুভাষাবাদ চর্চার দিনকে বোঝায়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের সকল দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আমার পঠিত ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি'র সাদৃশ্য রয়েছে।

    পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন (১৯৪৭) থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের (বাঙালিদের) ওপর রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং তীব্র অর্থনৈতিক শোষণ চালাচ্ছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি, সামরিক বাহিনী এবং উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান চরম বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। উদ্দীপকেও নবদ্বীপ রাষ্ট্রের একটি অঞ্চলের জনগণের ওপর শোষণ ও বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।

    এই শোষণ-বৈষম্য থেকে মুক্তির লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ হিসেবে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি পেশ করেন। উদ্দীপকের জনপ্রিয় নেতার দাবি সংবলিত প্রস্তাব পেশ করার বিষয়টি বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ৬ দফা ঘোষণার প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত কর্মসূচিটি হলো ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি', যা বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে 'ম্যাগনা কার্টা' বা মুক্তির সনদ হিসেবে পরিচিত। এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম:

    ১. বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি: ৬ দফার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা এবং আত্মরক্ষার সুস্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন। এটি বাঙালিদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের মূল ভিত্তিতে পরিণত হয়।
    ২. জাতীয়তাবাদের বিকাশ: ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণার পর পাকিস্তানি শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হয়।
    ৩. পরবর্তী আন্দোলনের ভিত্তিপ্রস্তর: ৬ দফাকে কেন্দ্র করেই আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হয়।
    ৪. স্বাধীনতা যুদ্ধের রূপরেখা: ৬ দফা ছিল মূলত স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধীনতার চূড়ান্ত সোপান। এর মাধ্যমেই বাঙালিরা অনুধাবন করে যে পাকিস্তানের সাথে আর একসাথে থাকা সম্ভব নয়, যা অবশেষে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের রূপ নেয়।

    সুতরাং, এই কর্মসূচি বাঙালি জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন