অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সমগ্র বিশ্ব করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। পৃথিবীর সকল দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও শিল্পখাতসহ ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়োপযোগী এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বাংলাদেশের শিল্পখাত ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। শুল্ককর রেয়াত, আমদানি নীতি উদারীকরণ, ভর্তুকি প্রদান, আয়কর সুবিধা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ, সহজ ঋণ সুবিধা ইত্যাদি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিধারা চলমান আছে।
- ক)(1)
বৈদেশিক সাহায্য কী?
- খ)(2)
সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশ্বায়নের প্রভাব ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপসমূহ রপ্তানি বাণিজ্যের গতিধারা চলমান রাখার ক্ষেত্রে কীরূপ ভূমিকা পালন করে ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত পরিস্থিতিতে রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে আর কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে? তোমার মতামত লেখ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো উন্নত দেশ বা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা কর্তৃক উন্নয়নশীল বা স্বল্পোন্নত দেশকে অনুদান, সহজ শর্তে ঋণ কিংবা প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে যে আর্থিক ও কারিগরি সাহায্য প্রদান করা হয়, তাকে বৈদেশিক সাহায্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশ্বায়নের ফলে তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবাধ প্রবাহের কারণে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতির মধ্যে পারস্পরিক বিনিময় ও মিশ্রণ ঘটছে। এর ফলে এক দেশের ভাষা, পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্যাভ্যাস, সাহিত্য ও বিনোদন সহজেই অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজনীন সংস্কৃতির বিকাশ ঘটছে। তবে এর ফলে অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ও স্থানীয় নিজস্ব সংস্কৃতির বিলুপ্তির ঝুঁকিও সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পদক্ষেপসমূহ করোনা মহামারির মতো বৈশ্বিক সংকটেও উৎপাদন খরচ কমিয়ে পণ্যের যোগান ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে রপ্তানি পণ্যের মূল্য ও মান আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হয়। করোনা পরিস্থিতিতে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা যখন বিপর্যস্ত, তখন সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিম্নরূপ ভূমিকা রাখে:
১. শুল্ককর রেয়াত ও আমদানি নীতি উদারীকরণ: রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি শুল্কমুক্ত বা কম খরচে আমদানি সহজ হয়েছে, যা উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সাহায্য করেছে।
২. ভর্তুকি ও আয়কর সুবিধা: উৎপাদন খরচ হ্রাস পাওয়ায় রপ্তানিকারকরা বিশ্ববাজারে কম মূল্যে পণ্য সরবরাহ করতে পেরেছেন।
৩. নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ: কারখানায় উৎপাদনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে, ফলে বিদেশি ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ নির্দিষ্ট সময়ে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।
৪. সহজ ঋণ সুবিধা: প্রণোদনা প্যাকেজ ও স্বল্প সুদে চলতি মূলধনের যোগান পেয়ে উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের বেতন ও কারখানা সচল রাখতে পেরেছেন।ফলে রপ্তানি বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতিধারা ব্যাহত না হয়ে চলমান থেকেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা বা মহামারি পরিস্থিতিতে রপ্তানি বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা ও তা আরও সম্প্রসারণে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা যেতে পারে:
১. রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ: কেবল তৈরি পোশাকের ওপর অতি-নির্ভরশীল না হয়ে ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, আইসিটি সেবা, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, সিরামিক ও পাটজাত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি করা।
২. নতুন বাজার অনুসন্ধান: ঐতিহ্যবাহী ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারের বাইরে দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, আসিয়ান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি ও বাণিজ্য মিশন জোরদার করা।
৩. পণ্যের গুণগত মান ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণ: আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি, পরিবেশগত মান এবং আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার শর্ত পূরণ করে পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা।
৪. বন্দর ও লজিস্টিকস আধুনিকায়ন: চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরসহ শুল্ক স্টেশনগুলোর আধুনিকায়ন ও অটোমেশনের মাধ্যমে পণ্য খালাস ও জাহাজিকরণের সময় ও খরচ (Lead time) হ্রাস করা।
৫. ই-কমার্স ও ডিজিটাল মার্কেটিং প্রসার: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সরাসরি বিদেশি ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা।
৬. মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পাদন: বিভিন্ন দেশের সাথে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার জন্য কৌশলগত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করা।সার্বিকভাবে বলা যায়, উদ্দীপকের আর্থিক প্রণোদনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পণ্যের বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও বন্দর সক্ষমতার উন্নয়ন ঘটানো গেলে সংকটকালীন পরিস্থিতিতেও রপ্তানি বাণিজ্য আশাতীতভাবে সম্প্রসারিত করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও