পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • বাংলাদেশের সংবিধান • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি দেশে ৩৪ জন সদস্যের সমন্বয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি সংবিধান প্রণয়ন করেন।
- ক)(1)
বাংলাদেশ সংবিধান কবে থেকে কার্যকর হয়?
- খ)(2)
মৌলিক অধিকার বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত দেশটির রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ ব্যাখ্যা করো। ৩
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত দেশের সংবিধানে সন্নিবেশিত মৌলিক অধিকারের কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করো। 8
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৌলিক অধিকার বলতে রাষ্ট্রের সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত ও নিশ্চিতকৃত এমন কিছু অপরিহার্য নাগরিক অধিকারকে বোঝায়, যা মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য অত্যাবশ্যক। এগুলো কোনো সাধারণ অধিকার নয়, বরং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন অর্থাৎ সংবিধান দ্বারা সংরক্ষিত থাকে এবং আদালত কর্তৃক বলবৎযোগ্য হয়। রাষ্ট্র বা সরকার চাইলেই স্বাভাবিক সময়ে এগুলোতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত দেশটি হলো বাংলাদেশ, যার সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি সুস্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। ১৯৭২ সালের সংবিধানের ৮(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে এই চারটি মূলনীতি হলো:
১. জাতীয়তাবাদ: ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত ঐক্যের ভিত্তিতে বাঙালি জাতির যে জাতীয় চেতনা গড়ে উঠেছে, তা জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি (অনুচ্ছেদ ৯)।
২. সমাজতন্ত্র: শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সমাজতন্ত্রকে একটি মূলনীতি করা হয়েছে (অনুচ্ছেদ ১০)।
৩. গণতন্ত্র: রাষ্ট্রের সকল কর্মে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধানই হলো গণতন্ত্রের লক্ষ্য (অনুচ্ছেদ ১১)।
৪. ধর্মনিরপেক্ষতা: ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং ধর্মের নামে কোনো বৈষম্য, নিপীড়ন বা রাজনৈতিক অপব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলো এর মূল সুর (অনুচ্ছেদ ১২)।এই চারটি মূলনীতি বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনার নির্দেশক নীতি হিসেবে কাজ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত দেশ বাংলাদেশের সংবিধানে সন্নিবেশিত মৌলিক অধিকারের কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বলিষ্ঠ।
১. সাংবিধানিক সুরক্ষা: সংবিধানের তৃতীয় ভাগে (অনুচ্ছেদ ২৭ থেকে ৪৪) মৌলিক অধিকারসমূহ সন্নিবেশিত রয়েছে। এর মধ্যে আইনের দৃষ্টিতে সমতা, বৈষম্যহীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা, বাক ও সমাবেশের স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা এবং সম্পত্তির অধিকার অন্তর্ভুক্ত।
২. মৌলিক অধিকারের প্রাধান্য: সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে মৌলিক অধিকারের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো আইন বা আদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
৩. বিচার বিভাগীয় সুরক্ষা ও বলবৎযোগ্যতা: সংবিধানের ৪৪ অনুচ্ছেদের অধীনে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন (অনুচ্ছেদ ১০২) দায়েরের অধিকার নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হিসেবেই সুরক্ষিত করা হয়েছে। এটি মৌলিক অধিকারকে নিছক ঘোষণা না রেখে কার্যকর রূপ প্রদান করে।
৪. সীমাবদ্ধতা ও জাতীয় স্বার্থ: তবে কোনো অধিকারই চরম নয়; আইনসম্মত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ ও জরুরি অবস্থায় সাময়িক স্থগিতাদেশের বিধান রেখে জনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে।পরিশেষে, সুপ্রিম কোর্টের সক্রিয় নজরদারি এবং সংবিধানের সুস্পষ্ট সুরক্ষাব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশের সংবিধানে সন্নিবেশিত মৌলিক অধিকারসমূহ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও