‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কে হন?

    (1)
  2. খ)

    লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্য কী ছিল?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'খ' নং আইনের সাথে তোমার পঠিত বইয়ের সাদৃশ্যপূর্ণ আইনের বৈশিষ্ট্য গুলো ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'ক' নং আইনে প্রবর্তিত প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কার্যকারিতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে এ কে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

    লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্য ছিল— ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে সংলগ্ন অঞ্চলগুলোকে চিহ্নিত করে ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' (Independent States) গঠন করা হবে এবং এই স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর অধীন অঙ্গরাজ্যগুলো হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম। এছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার পর্যাপ্ত সাংবিধানিক নিশ্চয়তা প্রদান করা।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'খ' নং আইনটি হলো ১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন' (Indian Independence Act, 1947)। উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি ডোমিনিয়ন সৃষ্টি, ভারত সচিব পদের অবসান, ভারত সম্রাট উপাধি বিলোপ ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনকে নির্দেশ করে।

    আমার পঠিত বইয়ের আলোকে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. দুটি ডোমিনিয়ন সৃষ্টি: ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি সার্বভৌম ডোমিনিয়ন বা স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
    ২. সার্বভৌম গণপরিষদ গঠন: উভয় ডোমিনিয়নের জন্য পৃথক গণপরিষদ গঠিত হয়। গণপরিষদগুলোকে নিজ নিজ দেশের সংবিধান রচনা ও আইন প্রণয়নের পূর্ণ সার্বভৌম ক্ষমতা দেওয়া হয়।
    ৩. ভারত সচিব পদের বিলুপ্তি: এই আইনের মাধ্যমে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার অন্তর্ভুক্ত 'ভারত সচিব' (Secretary of State for India) পদের বিলোপ ঘটে এবং এর দায়িত্ব কমনওয়েলথ সচিবের ওপর ন্যস্ত হয়।
    ৪. 'ভারত সম্রাট' উপাধি বিলোপ: ব্রিটিশ রাজার পদবি থেকে 'ভারত সম্রাট' (Emperor of India) উপাধিটি প্রত্যাহার বা বাতিল করা হয়।
    ৫. প্রদেশগুলোর সীমানা নির্ধারণ: বাংলা ও পাঞ্জাব প্রদেশ বিভক্ত করার বিধান রাখা হয় এবং গণভোটের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তি নির্ধারিত হয়।
    ৬. দেশীয় রাজ্যগুলোর স্বাধীনতা: ব্রিটিশদের সঙ্গে দেশীয় রাজ্যগুলোর সকল চুক্তি ও সম্পর্কের অবসান ঘটে এবং তারা ইচ্ছানুযায়ী ভারত বা পাকিস্তানে যোগদানের অথবা স্বাধীন থাকার ক্ষমতা পায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'ক' নং আইনে উল্লিখিত কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন, সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠন, বার্মার পৃথকীকরণ ও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে যে আইনটি হলো '১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন'।

    ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন ছিল এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হলেও বাস্তবে এর কার্যকারিতা ছিল অত্যন্ত সীমিত ও ত্রুটিপূর্ণ। নিচে এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হলো:

    ১. তত্ত্বগত দিক ও মন্ত্রীদের ভূমিকা: এই আইনের মাধ্যমে প্রদেশে দ্বৈতশাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। আইনসভার কাছে দায়বদ্ধ ভারতীয় মন্ত্রীদের হাতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার প্রভৃতি প্রাদেশিক বিষয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রদেশে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সরকার গঠনের সুযোগ পান।

    ২. গভর্নরের একচ্ছত্র আধিপত্য: বাস্তবে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ছিল একটি প্রহসন। প্রদেশের প্রকৃত শাসনক্ষমতা ন্যস্ত ছিল ব্রিটিশ গভর্নরদের হাতে। গভর্নরের ছিল বিশেষ দায়িত্ব, ভেটো ক্ষমতা এবং আইন স্থগিত বা বাতিল করার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা।

    ৩. মন্ত্রীদের সীমিত ক্ষমতা: নির্বাচিত মন্ত্রীরা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না গভর্নরের অনুমোদন ছাড়া। গভর্নররা মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শ উপেক্ষা করে নিজস্ব বিবেচনায় বা একক সিদ্ধান্তে কাজ করতে পারতেন। ফলে মন্ত্রীরা কার্যত ক্ষমতাহীন ব্যক্তিতে পরিণত হন।

    ৪. আমলাতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ: প্রাদেশিক সচিব ও আইসিএস কর্মকর্তারা গভর্নরের অধীন হওয়ায় তারা ভারতীয় মন্ত্রীদের নির্দেশ প্রায়শই অগ্রাহ্য করতেন, যা স্বায়ত্তশাসনের ধারণার পরিপন্থী ছিল।

    পরিশেষে বলা যায়, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা ঘোষণা করা হলেও গভর্নরদের স্বৈরাচারী ও অবাধ ক্ষমতার কারণে তা প্রকৃত অর্থে কার্যকর হতে পারেনি। ফলে ভারতীয় নেতৃবৃন্দের কাছে এটি "স্বায়ত্তশাসনহীন স্বায়ত্তশাসন" হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন