জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
মাহবুব একটি দুর্গম এলাকায় বেড়াতে গিয়ে দুটি ভিন্ন ধরনের প্রাণী। দেখল। প্রথমে সে যে প্রাণীটি দেখলো তার গায়ে লোম রয়েছে। পরবর্তীতে দেখা প্রাণীটির গা পালকযুক্ত।
- ক)(1)
মিথোজীবিতা কী?
- খ)(2)
ভেনাস হার্ট বলতে কী বোঝ ?
- গ)(3)
মাহবুবের দেখা প্রথম প্রাণীটির শ্রেণিগত বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো ।
- ঘ)(4)
মাহবুবের দেখা প্রাণী দুটি ভিন্ন শ্রেণীর অন্তর্গত। বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যখন দুটি ভিন্ন প্রজাতির জীব ঘনিষ্ঠভাবে একত্রে বসবাস করে একে অপরের দ্বারা উপকৃত হয়, তখন সেই ধরনের আন্তঃসম্পর্ককে মিথোজীবিতা (Mutualism) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে হৃৎপিণ্ডের মধ্য দিয়ে কেবল কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত (ডি-অক্সিজেনযুক্ত) রক্ত একমুখীভাবে পরিবাহিত হয়, তাকে ভেনাস হার্ট বা শিরা হৃৎপিণ্ড বলে। উদাহরণস্বরূপ, অধিকাংশ মাছের হৃৎপিণ্ড ভেনাস হার্ট, কারণ এতে কখনোই অক্সিজেনযুক্ত রক্ত প্রবেশ করে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাহবুবের দেখা প্রথম প্রাণীটির গায়ে লোম রয়েছে, যা স্তন্যপায়ী বা ম্যামালিয়া (Mammalia) শ্রেণির অনন্য বৈশিষ্ট্য।
ম্যামালিয়া শ্রেণির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১. দেহত্বক লোম দ্বারা আবৃত থাকে এবং ত্বক ঘর্মগ্রন্থি ও সিবেসিয়াস গ্রন্থিযুক্ত।
২. স্ত্রী প্রাণীতে কার্যকরী স্তনগ্রন্থি বিদ্যমান, যার ক্ষরিত দুগ্ধ পান করে শাবক লালিত-পালিত হয়।
৩. এদের বহিঃকর্ণে পিনা এবং মধ্যকর্ণে তিনটি ক্ষুদ্রাস্থি (ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিস) থাকে।
৪. এদের চোয়াল বিভিন্ন প্রকারের দাঁত (হেটারোডন্ট—ইনসিসর, ক্যানাইন, প্রিমোলার, মোলার) দ্বারা গঠিত এবং দাঁত থেকোডন্ট প্রকৃতির।
৫. বক্ষগহ্বর ও উদরগহ্বরের মাঝে ডায়াফ্রাম বা মধ্যচ্ছদা উপস্থিত।
৬. পরিণত লোহিত রক্তকণিকা সাধারণত নিউক্লিয়াসবিহীন এবং হৃৎপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাহবুবের দেখা প্রাণী দুটির মধ্যে প্রথমটির দেহে লোম এবং দ্বিতীয়টির দেহে পালক বিদ্যমান। বাহ্যিক ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে প্রাণী দুটি যথাক্রমে স্তন্যপায়ী (Mammalia) এবং পক্ষীকূল (Aves) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। নিম্নে এদের ভিন্ন শ্রেণির হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বহিঃআবরণ: স্তন্যপায়ী প্রাণীর দেহ লোমযুক্ত এবং ত্বকে ঘর্ম ও সিবেসিয়াস গ্রন্থি থাকে। পক্ষীকূলের ত্বক পালকযুক্ত এবং লেজের গোড়ায় তেলের গ্রন্থি (ইউরোপাইজিয়াল গ্রন্থি) ছাড়া অন্য কোনো ত্বক্-গ্রন্থি থাকে না।
২. অগ্রপদ ও রূপান্তর: পক্ষীকূলের অগ্রপদ দুটি ডানায় রূপান্তরিত হয়েছে এবং চঞ্চু (Beak) উপস্থিত। ম্যামালিয়ায় ডানা থাকে না (বাদুড় ব্যতীত, যেখানে প্যাটাজিয়াম বিদ্যমান) এবং সাধারণত নখরযুক্ত পদ থাকে।
৩. কঙ্কালতন্ত্র: পাখির অস্থিগুলো বায়ুপূর্ণ ও হালকা (নিউমেটিক অস্থি)। অপরদিকে স্তন্যপায়ীদের অস্থি নিরেট ও ভারী।
৪. চোয়াল ও দাঁত: পক্ষীকূলে কোনো দাঁত থাকে না; ম্যামালিয়ার উভয় চোয়ালেই থেকোডন্ট ধরনের দাঁত বিদ্যমান।
৫. প্রজনন ও জনন বৈশিষ্ট্য: পাখিরা সবাই অণ্ডজ (ডিম পাড়ে), কিন্তু অধিকাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণী জরায়ুজ (সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে) এবং শাবককে স্তনদুগ্ধ পান করায়।
৬. ফুসফুস ও ডায়াফ্রাম: পাখির ফুসফুসের সাথে অতিরিক্ত বায়ুথলি (Air sacs) যুক্ত থাকে এবং ডায়াফ্রাম অনুপস্থিত; স্তন্যপায়ীতে ডায়াফ্রাম থাকে কিন্তু বায়ুথলি থাকে না।সুতরাং, উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যাবলির পার্থক্যের কারণে স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে মাহবুবের দেখা প্রাণী দুটি ভিন্ন শ্রেণির (Mammalia ও Aves) অন্তর্গত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও