পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
'ক' ব্যক্তি একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। তার দল ছাড়া ঐ দেশে আর কোনো রাজনৈতিক দল নেই। অনুসারীরা তার অযৌক্তিক সিদ্ধান্তকেও সমর্থন করে। তার মতের বাইরে কেউ যেতে পারে না। অন্যদিকে 'খ' ব্যক্তি তার পরিষদের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়। তার কাজের সাথে সকলেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকে।
- ক)(1)
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র কাকে বলে?
- খ)(2)
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করা হয় না কেন?
- গ)(3)
'ক' ব্যক্তির মাধ্যমে কোন রাষ্ট্রব্যবস্থার দোষ ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তোমার কাছে 'খ' ব্যক্তির শাসন ব্যবস্থাটি কি অধিক গ্রহণযোগ্য মনে হয়? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যে রাষ্ট্র নাগরিকদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থান ও নিরাপত্তাসহ সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে, তাকে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র (Welfare State) বলে।
- খ)
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে উৎপাদনের উপকরণ যেমন কলকারখানা, ভূমি ও খনিজ সম্পদের মালিকানা রাষ্ট্র বা সমাজের হাতে থাকে। ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করলে কিছু মানুষ সম্পদ কুক্ষিগত করে অন্যদের শোষণ করতে পারে, ফলে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বাড়ে। এই শোষণ ও বৈষম্য দূর করে সমাজে অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করা হয় না।
- গ)
'ক' ব্যক্তির মাধ্যমে স্বৈরতন্ত্র বা একনায়কতন্ত্র (Dictatorship) রাষ্ট্রব্যবস্থার দোষ ফুটে উঠেছে।
ব্যাখ্যা: স্বৈরতন্ত্রে সব ক্ষমতা এক ব্যক্তি বা একটি দলের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রপ্রধান, তার দল ছাড়া দেশে আর কোনো রাজনৈতিক দল নেই; অনুসারীরা তার অযৌক্তিক সিদ্ধান্তকেও সমর্থন করে এবং তার মতের বাইরে কেউ যেতে পারে না। অর্থাৎ বিরোধী দল, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও জনগণের অংশগ্রহণ এখানে অনুপস্থিত। এগুলো স্বৈরতন্ত্রেরই বৈশিষ্ট্য এবং দোষ। সুতরাং 'ক' ব্যক্তির মাধ্যমে স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার দোষ প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
হ্যাঁ, 'খ' ব্যক্তির শাসনব্যবস্থা অর্থাৎ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা আমার কাছে অধিক গ্রহণযোগ্য মনে হয়। উদ্দীপকে 'খ' পরিষদের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয় এবং সবাই তার কাজের সাথে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকে, যা গণতন্ত্রের মূল চেতনা। এর পক্ষে যুক্তিগুলো হলো:
১. জনগণের অংশগ্রহণ: গণতন্ত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সবার মতামতের মূল্য থাকে, ফলে শাসন জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায়।
২. জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা: শাসকরা জনগণের কাছে দায়ী থাকে, তাই ক্ষমতার অপব্যবহার কম হয়।
৩. মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা: মতপ্রকাশ, সংগঠন করা ও বিরোধিতার অধিকার নিশ্চিত থাকে।
৪. শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা পরিবর্তন: নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হয়, ফলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।সুতরাং, জনগণের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করে বলে 'খ' ব্যক্তির শাসনব্যবস্থাই অধিক গ্রহণযোগ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও