বাংলা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
জোহরা : আর একদিন কি দু'দিন। তার পরই ঘোর সময় শুরু হবে। তুমি ফিরে এসো। আমার সঙ্গে ফিরে চলো। কার্দি : যে ফিরে যাবে সে আমি হব না সে হবে বিশ্বাসঘাতক। আমাদের সংকটের দিনে যারা আমাকে আশ্রয় দিয়েছে, কর্মে নিযুক্ত করেছে, ঐশ্বর্য দান করেছে সে মারাঠাদের বিপদের দিনে আমি চুপ করে বসে থাকব? পদত্যাগ করব? সে হয় না, জোহরা।
- ক)(1)
সিরাজউদ্দৌলার শশুরের নাম কী?
- খ)(2)
"ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব” —বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন দিকটির প্রতি উদ্দীপকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের কার্দির মতো বিশ্বস্ত লোকের অপ্রতুলতার জন্য সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে।”— মন্তব্যটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নবাব সিরাজউদ্দৌলার শ্বশুরের নাম ইরিজ খাঁ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"ঘরের লোক অবিশ্বাসী হলে বাইরের লোকের পক্ষে সবই সম্ভব"— উক্তিটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, ভেতরের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রের ফলেই বাইরের শত্রু বা বিদেশি শক্তি সহজে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন তরবারির যুদ্ধে হয়নি, বরং হয়েছিল নিজ দরবারের আত্মীয় ও অমাত্যদের চক্রান্তে। ঘসেটি বেগম, মীরজাফর, রায়দুর্লভ, উমিচাঁদের মতো ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা বিশ্বাসঘাতকতা করে ইংরেজদের সঙ্গে গোপনে হাত মিলিয়েছিল। ঘরের আপন মানুষদের এই চরম বেইমানির কারণেই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো বহিরাগত শক্তির পক্ষে বাংলা জয় করা ও স্বাধীনতা হরণ করা সম্ভব হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বিশ্বস্ততা, আনুগত্য এবং দেশপ্রেমের বিরল আদর্শিক দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে মীরজাফর, জগৎশেঠ প্রমুখের বিশ্বাসঘাতকতার ভিড়ে মীরমদান ও মোহনলালের মতো কিছু নির্ভীক ও বিশ্বস্ত দেশপ্রেমিক চরিত্র ছিল। বিশেষ করে কাশ্মীরের সন্তান হয়েও মোহনলাল নবাবের দেওয়া দায়িত্ব ও মর্যাদাকে শিরোধার্য করে নিজের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত বাংলার স্বাধীনতার জন্য ইংরেজ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। বিপদের মুখেও তিনি নবাব ও বাংলার স্বার্থের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার বা বেইমানি করেননি।
উদ্দীপকের কার্দি জোহরার অনুরোধ সত্ত্বেও সংকটের দিনে মারাঠাদের বিপদে ফেলে পালিয়ে যেতে বা পদত্যাগ করতে রাজি হয়নি। সে পরিষ্কারভাবে জানায় যে আশ্রয় ও মর্যাদা প্রদানকারীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা অসম্ভব। উদ্দীপকের কার্দির এই অটল বিশ্বস্ততা, কৃতজ্ঞতাবোধ ও আনুগত্যের মানসিকতা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের দেশপ্রেমিক মোহনলাল ও মীরমদানের আদর্শিক চরিত্রের দিকটিকেই ফুটিয়ে তোলে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“উদ্দীপকের কার্দির মতো বিশ্বস্ত লোকের অপ্রতুলতার জন্য সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে”— মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ ও বাস্তবসম্মত।
সিকান্দার আবু জাফরের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতা অস্তমিত হওয়ার মূল কারণ ছিল মীরজাফর ও তার অনুসারী ষড়যন্ত্রকারীদের চরম বিশ্বাসঘাতকতা। নবাবের সেনাদল সংখ্যায় বহুগুণ বিশাল হওয়া সত্ত্বেও প্রধান সেনাপতি মীরজাফর ও ইয়ার লতিফ যুদ্ধক্ষেত্রে পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থেকে ইংরেজদের জয়ের পথ সুগম করে। সেখানে মীরমদান ও মোহনলালের মতো গুটিকয়েক বীর যোদ্ধা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করলেও বিশ্বাসঘাতকদের চক্রান্তের কাছে তাদের বিশ্বস্ততা ও আত্মত্যাগ শেষ পর্যন্ত পরাজয় রুখতে পারেনি।
উদ্দীপকের কার্দি বিপদের আভাস পেয়েও পদত্যাগ করেনি বা পালিয়ে যায়নি; বরং সে যে মাটিতে আশ্রয় ও ঐশ্বর্য পেয়েছে, তার প্রতি চরম বিশ্বস্ত থেকেছে এবং বিশ্বাসঘাতক হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কার্দির এই চারিত্রিক দৃঢ়তা ও বিশ্বস্ততা নবাবের দরবারে মীরজাফর বা অন্যান্য অমাত্যদের মধ্যে একেবারেই ছিল না।
পলাশীর প্রান্তরে নবাবের বিপুল সৈন্যবাহিনীর সেনাপতিদের মধ্যে যদি উদ্দীপকের কার্দির মতো নিষ্ঠাবান, বিশ্বস্ত ও কৃতজ্ঞতাপূর্ণ সেনাপতি আরও কয়েকজন থাকত, তবে ইংরেজ বাহিনীর শোচনীয় পরাজয় ঘটত এবং বাংলার স্বাধীনতা রক্ষা পেত। অতএব, উপযুক্ত বিশ্বস্ত ও দেশপ্রেমিক লোকের তীব্র অভাবই সিরাজউদ্দৌলার করুণ পরাজয়ের প্রধান কারণ ছিল— এ মন্তব্যটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও