জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
জীবদেহে বিদ্যমান বৃহৎ পলিপেপটাইড যৌগ 'F' এর বিশেষ ধরণ 'G' বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক বিক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
- ক)(1)
'জিনোম' কী?
- খ)(2)
আত্মঘাতী অঙ্গাণু কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
F' যৌগটি তৈরির প্রক্রিয়া গাঠনিক সংকেতসহ দেখাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের যৌগ 'F' এবং 'G' গঠনগতভাবে অভিন্ন হলেও কার্যগতভাবে ভিন্ন— বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো জীবের একটি হ্যাপ্লয়েড সেট ক্রোমোজোমে বিদ্যমান সমস্ত বংশগতীয় উপাদান বা মোট জিনের সমষ্টিকে জিনোম বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লাইসোজোমকে কোষের আত্মঘাতী অঙ্গাণু (Suicidal bag) বলা হয়।
লাইসোজোমে প্রায় ৪০-৫০ ধরনের হাইড্রোলাইটিক এনজাইম থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় এর আবরণী ভেদ্য না হওয়ায় এনজাইমগুলো ভেতরে সুরক্ষিত থাকে। কিন্তু প্রতিকূল পরিবেশে বা কোষে তীব্র খাদ্যাভাব দেখা দিলে লাইসোজোমের ঝিল্লি বিদীর্ণ হয় এবং এতে থাকা পাচক এনজাইম বের হয়ে সম্পূর্ণ কোষটিকে পাচিত বা ধ্বংস করে ফেলে। একে অটোলাইসিস বা স্ব-গ্রাস বলে। এই বৈশিষ্ট্যের জন্যই লাইসোজোমকে আত্মঘাতী থলিকা বা অঙ্গাণু বলা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বৃহৎ পলিপেপটাইড যৌগ 'F' হলো প্রোটিন। প্রোটিন তৈরির মূল প্রক্রিয়া হলো অ্যামিনো এসিডসমূহের মধ্যে পেপটাইড বন্ধন সৃষ্টির মাধ্যমে পলিপেপটাইড গঠন।
একটি অ্যামিনো এসিডের আলফা-কার্বক্সিল (-COOH) মূলক অপর একটি অ্যামিনো এসিডের আলফা-অ্যামিনো (-NH₂) মূলকের সাথে বিক্রিয়া করে এক অণু পানি (H₂O) অপসারণের মাধ্যমে একটি সমযোজী বন্ধন তৈরি করে, যাকে পেপটাইড বন্ধন (-CO-NH-) বলে।
গাঠনিক সংকেতের সাহায্যে বিক্রিয়াটি দেখানো হলো:
R₁-CH(NH₂)-COOH + R₂-CH(NH₂)-COOH
→ R₁-CH(NH₂)-CO-NH-CH(R₂)-COOH + H₂Oএভাবে ক্রমান্বয়ে বহুসংখ্যক অ্যামিনো এসিড পেপটাইড বন্ধন দ্বারা যুক্ত হয়ে দীর্ঘ পলিপেপটাইড শৃঙ্খল তথা প্রোটিন গঠন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের যৌগ 'F' হলো প্রোটিন এবং 'G' হলো এনজাইম (উৎসেচক)। গঠনগতভাবে সব এনজাইমই প্রোটিন হলেও এদের কার্যগত ক্ষেত্রে স্পষ্ট ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. গঠনগত ঐক্য: রাসায়নিকভাবে প্রোটিন ও এনজাইম উভয়ই অ্যামিনো এসিডের দীর্ঘ পলিমার বা পলিপেপটাইড শৃঙ্খল দিয়ে গঠিত। উভয়তেই পেপটাইড বন্ধন বিদ্যমান এবং এদের মৌলিক উপাদান কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন।
২. কার্যগত ভিন্নতা:
- প্রোটিনের প্রধান কাজ হলো জীবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ ও কলার গাঠনিক কাঠামো গঠন করা (যেমন: কেরাটিন, কোলাজেন) এবং পরিবহন, প্রতিরক্ষা ইত্যাদিতে অংশ নেওয়া।
- অপরদিকে, 'G' বা এনজাইম জীবদেহের বিভিন্ন জৈব-রাসায়নিক বিক্রিয়ায় জৈব প্রভাবক (Biological catalyst) হিসেবে কাজ করে। এরা বিক্রিয়ার গতিকে বহু গুণ বৃদ্ধি করে বা ত্বরান্বিত করে কিন্তু বিক্রিয়া শেষে নিজেরা অপরিবর্তিত থাকে।
- সব এনজাইমই সুনির্দিষ্ট সাবস্ট্রেটের ওপর কাজ করে এবং নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও pH-এ সর্বাধিক সক্রিয় থাকে, যা সাধারণ গাঠনিক প্রোটিনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
- সকল এনজাইমই প্রোটিন, কিন্তু সকল প্রোটিন এনজাইম নয়। প্রোটিন সঞ্চয়ী ও প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা পালন করে, অন্যদিকে এনজাইম মূলত মেটাবলিক বা বিপাকীয় কার্য নিয়ন্ত্রণ করে।
সুতরাং বলা যায়, যৌগ 'F' (প্রোটিন) এবং 'G' (এনজাইম) গঠনগতভাবে অভিন্ন হলেও এদের কার্যগত পার্থক্য সুস্পষ্ট।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও