ইতিহাস ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
বিশ্বশান্তি একান্ত কাম্য। সেই চিন্তা থেকেই বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন। কিছু ব্যর্থতা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংগঠনটি শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে প্রশংসার দাবিদার।
- ক)(1)
আন্তর্জাতিক আদালতের সদর দপ্তর কোথায়?
- খ)(2)
আটলান্টিক চার্টার বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে যে আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তার কার্যাবলি উল্লেখ করো।
- ঘ)(4)
উক্ত সংগঠনটির কারণেই প্রায় আট দশক ধরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো বড় কোনো যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়েছে- পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আন্তর্জাতিক আদালতের (International Court of Justice) সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ (The Hague) শহরে অবস্থিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪১ সালের ১৪ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল আটলান্টিক মহাসাগরে এক যুদ্ধজাহাজে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়ে যুদ্ধোত্তর পৃথিবীতে শান্তি, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মূলনীতি সংবলিত একটি যৌথ ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর করেন। এই ঐতিহাসিক যৌথ ঘোষণাকেই 'আটলান্টিক চার্টার' (Atlantic Charter) বলা হয়। এটি পরবর্তীতে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত আন্তর্জাতিক সংস্থাটি হলো 'জাতিসংঘ' (United Nations), যা বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে (১৯৪৫ সালে) প্রতিষ্ঠিত হয়।
জাতিসংঘের মূল কার্যাবলি নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা: বিভিন্ন দেশের মধ্যকার বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা এবং আগ্রাসন প্রতিরোধে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা।
২. মানবাধিকার রক্ষা: জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানবাধিকার সংরক্ষণ ও তার সুরক্ষার ব্যবস্থা করা।
৩. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি: অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং মানবিক সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা।
৪. টেকসই উন্নয়ন ও সহায়তা: বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও রোগ দূরীকরণে বিভিন্ন বিশেষায়িত সংস্থা (যেমন- UNDP, WHO, UNICEF) ইত্যাদির মাধ্যমে মানবিক সহায়তা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
৫. আন্তর্জাতিক আইনের উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন: সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং আন্তর্জাতিক বিধিমালার বিকাশ সাধন করা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের উক্তিটি যথার্থ। ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ গত প্রায় আট দশক ধরে বিশ্বশান্তি বজায় রাখা এবং তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো মহাবিপর্যয় প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
জাতিসংঘের ভূমিকা ও সাফল্য বিশ্লেষণ:
১. বিশ্বযুদ্ধের প্রতিরোধ: স্নায়ুযুদ্ধের চরম উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে (যেমন- ১৯৬২ সালের কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট) জাতিসংঘ কার্যকর কূটনীতির মাধ্যমে পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার সম্ভাব্য প্রত্যক্ষ পরমাণু যুদ্ধ রোধ করতে সমর্থ হয়।
২. বিরোধ নিষ্পত্তি ও যুদ্ধবিরতি: সুয়েজ সংকট (১৯৫৬), মধ্যপ্রাচ্য সংকট, কঙ্গো সংকটসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা ও যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করেছে।
৩. জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন: ব্লু হেলমেটধারী শান্তিরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে বিশ্বের যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে গৃহযুদ্ধ থামানো, সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদান এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাতিসংঘ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
৪. নিরস্ত্রীকরণ ও পরমাণু বিস্তার রোধ: পরমাণু অস্ত্রের প্রসার রোধকল্পে এনপিটি (NPT), সিটিবিটি (CTBT) সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি প্রণয়ন ও কার্যকর করতে জাতিসংঘ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে।
৫. সামাজিক ও মানবিক সংকট মোকাবেলা: শরণার্থী সংকট, দুর্ভিক্ষ, মহামারী ইত্যাদি মোকাবেলায় বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে কাজ করে বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা রোধ করেছে।যদিও প্যালেস্টাইন ও কাশ্মীর সংকট নিরসনে এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবুও সার্বিক বিবেচনায় বৃহৎ শক্তির সরাসরি সংঘর্ষ ও আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ এড়াতে জাতিসংঘের অবদান অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও