ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

মুসলিম স্পেনের বিখ্যাত শাসক তৃতীয় আব্দুর রহমান। স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। রাজধানী কর্ডোভাকে 'রূপকথার নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি ১০০ প্রাসাদ, ৩০০ মসজিদ, ৩৮০টি হাম্মাম খানা নির্মাণ করেন। রাজধানী শহরের তিন মাইল অদূরে নিজ স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ আজ-জোহরা প্রাসাদ নির্মাণ করে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।

  1. ক)

    তাজমহলের স্থপতি কে?

    (1)
  2. খ)

    দস্তুরুল আমল কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লেখিত তৃতীয় আব্দুর রহমানের সাথে তোমার পঠিত কোন মুঘল শাসকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    স্থাপত্য শিল্পে উক্ত শাসকের অবদান মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তাজমহলের প্রধান নকশাকার বা স্থপতি ছিলেন ওস্তাদ আহমদ লাহোরি (বা ওস্তাদ ঈসা)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'দস্তুরুল আমল' হলো মুঘল সাম্রাজ্যের শাসন পরিচালনাসংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা বা নিয়মাবলী। মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে সাম্রাজ্যের রাজস্ব নির্ধারণ, আদায় ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য যে নিয়মকানুন বা কার্যবিধি প্রণয়ন করা হয়েছিল, তা 'দস্তুরুল আমল' নামে পরিচিত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত কর্ডোভার শাসক তৃতীয় আব্দুর রহমানের সাথে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, তৃতীয় আব্দুর রহমান স্থাপত্য শিল্পের অনন্য পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এবং স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে সুরম্য প্রাসাদ নির্মাণ করেন। একইভাবে মুঘল সম্রাট শাহজাহান ছিলেন স্থাপত্যকলার শ্রেষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক, যার কারণে তার শাসনকালকে মুঘল স্থাপত্যের 'স্বর্ণযুগ' বলা হয়। শাহজাহানও তার প্রিয়তম স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতির প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা জানিয়ে পৃথিবীখ্যাত প্রেমের সৌধ 'তাজমহল' নির্মাণ করেছিলেন। তাই স্থাপত্য অনুরাগ ও স্ত্রীর স্মরণে স্থাপত্য নির্মাণের ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য দেখা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্থাপত্য শিল্পে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের অবদান অতুলনীয়; তাকে মুঘল স্থাপত্যের 'শ্রেষ্ঠ নির্মাতা' বা 'Prince of Builders' বলা হয়।

    শাহজাহানের আমলে মুঘল স্থাপত্যকলা চরম উৎকর্ষে পৌঁছায়। লাল বেলেপাথরের পরিবর্তে শ্বেতপাথরের সূক্ষ্ম ও নান্দনিক ব্যবহার তার স্থাপত্যের মূল বৈশিষ্ট্য। স্ত্রীর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে যমুনা নদীর তীরে শ্বেতপাথরে নির্মিত তাজমহল পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম। এছাড়া তিনি দিল্লিতে নতুন রাজধানী 'শাহজাহানাবাদ', ঐতিহাসিক লালকেল্লা এবং সুবিশাল জামে মসজিদ নির্মাণ করেন। আগ্রা দুর্গের অভ্যন্তরে মতি মসজিদ, দেওয়ান-ই-আম, দেওয়ান-ই-খাস, খাস মহল এবং শীশ মহল তার নান্দনিক শিল্পচেতনার অনন্য নিদর্শন। শুধু ভারত নয়, লাহোরেও তিনি মনোরম শালিমার উদ্যান ও ওয়াজির খান মসজিদ নির্মাণে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। এই বিপুল ও কালজয়ী স্থাপত্য সৃষ্টির মাধ্যমেই শাহজাহান ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন