ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৮

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

ঋণের আধিক্য ও স্বল্পতা উভয়ই দেশের জন্য ক্ষতিকর। উভয় অবস্থায় দেশের উৎপাদন, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন চরমভাবে ব্যাহত হয়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে ঋণ নিয়ন্ত্রণ আবশ্যক। সরকার একটি ব্যাংককে ঋণ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেয়। ব্যাংকটি সুদের হার বাড়িয়ে-কমিয়ে ঋণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। ফলে দেশে ঋণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে।

  1. ক)

    ঋণ নিয়ন্ত্রণ কী?

    (1)
  2. খ)

    ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল কোন ব্যাংককে বলা হয় এবং কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাংকটি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কোন পদ্ধতি ব্যবহার করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাংকটির ঋণ নিয়ন্ত্রণের যৌক্তিকতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ সৃষ্টির ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ বা কাম্য স্তরে রাখার প্রক্রিয়াকে ঋণ নিয়ন্ত্রণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কেন্দ্রীয় ব্যাংককে 'ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল' (Lender of the last resort) বলা হয়।

    বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়ে যখন অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থ বা ঋণ সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা তাদের অভিভাবক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শরণাপন্ন হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথম শ্রেণির বিল বা সরকারি সিকিউরিটিজ বাট্টাকরণের মাধ্যমে কিংবা জামানতের বিপরীতে বাণিজ্যিক ব্যাংককে ঋণ দিয়ে আর্থিক সংকট থেকে উদ্ধার করে। অন্য কোথাও ঋণের সুযোগ না পেয়ে শেষ ভরসা হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে যাওয়া হয় বলেই একে ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাংকটি ঋণ নিয়ন্ত্রণে সাধারণ বা পরিমাণগত ঋণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির অন্তর্গত 'ব্যাংক হার নীতি' (Bank Rate Policy) ব্যবহার করেছে।

    যে সুদের হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রথম শ্রেণির বিল পুনঃবাট্টাকরণ করে বা সিকিউরিটিজের বিপরীতে ঋণ প্রদান করে, তাকে ব্যাংক হার বলে। এই ব্যাংক হার পরিবর্তনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাংকটি (কেন্দ্রীয় ব্যাংক) সুদের হার বাড়িয়ে-কমিয়ে দেশের ঋণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন বাজারে ঋণের পরিমাণ কমাতে চায়, তখন ব্যাংক হার বা সুদের হার বৃদ্ধি করে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হওয়ায় ঋণের চাহিদা হ্রাস পায়। অপরদিকে ঋণের প্রবাহ বাড়াতে ব্যাংক হার কমানো হয়। সুতরাং, ব্যাংকটি ঋণ নিয়ন্ত্রণে পরিমাণগত পদ্ধতির ব্যাংক হার নীতি প্রয়োগ করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাংকটির (কেন্দ্রীয় ব্যাংক) ঋণ নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও পুরোপুরি যৌক্তিক।

    একটি দেশের অর্থনীতিতে ঋণের সরবরাহ অতিরিক্ত হলে মূল্যস্ফীতি দেখা দেয় এবং টাকার ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়। পক্ষান্তরে, ঋণের সরবরাহ প্রয়োজনের তুলনায় কম হলে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান কমে গিয়ে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয়। উভয় পরিস্থিতিই একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিপন্থী। তাই অর্থনীতিতে ঋণের কাম্য ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ঋণের আধিক্য ও স্বল্পতা উভয়ই দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর এবং তা উৎপাদন, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত করে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব গ্রহণ করে সুদের হার বা ব্যাংক হার পরিবর্তনের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর ফলে বাজারে মুদ্রাস্ফীতি বা মুদ্রাসঙ্কোচন নিয়ন্ত্রণ করে দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা ও আর্থিক ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ঋণের কাম্য সরবরাহ বজায় রাখা অপরিহার্য। তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির ঋণ নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত ও প্রক্রিয়াটি সর্বতোভাবে যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন