সাহিত্য পাঠ • রেইনকোট • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
শৈশব থেকেই মোসাদ্দেক ভীরু ও অন্তর্মুখী স্বভাবের। পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও সে মানুষের সঙ্গ এড়িয়ে চলত। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা যখন গোপন আস্তানায় পোস্টার লেখা ও লিফলেট বিলির মতো দুঃসাহসী কাজে যুক্ত, মোসাদ্দেক তখন ভয়ে তটস্থ। কিন্তু একুশে ফেব্রুয়ারির বর্বরোচিত পুলিশি নির্যাতন ও রাজপথের রক্তের দাগ তার দীর্ঘদিনের জড়তা ভেঙে দেয়। এক পর্যায়ে তার শোক শক্তিতে পরিণত হয়। মোসাদ্দেক রাজপথে নেমে মিছিলে স্লোগান তোলে— “রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, মায়ের ভাষায় জীবন চাই। করব মোরা জীবন দান, রাখব মোরা মায়ের মান।”
- ক)(1)
‘বর্ষাকালেই তো জুৎ।’ — কে বলেছিল?
- খ)(2)
“মিন্টু যে কোথায় গেছে তা সে-ও জানে তার বৌ-ও জানে।” — অন্তর্নিহিত তাৎপর্য লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ছাত্রদের “গোপন আস্তানায় পোস্টার লেখা ও লিফলেট বিলি” ‘রেইনকোট’ গল্পের কোন দিকটি তুলে ধরে?
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের একুশে ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের নিষ্ঠুরতা এবং ‘রেইনকোট’ গল্পের নুরুল হুদার গায়ের রেইনকোট — উভয়েই সাধারণ মানুষকে প্রতিরোধের শক্তিতে উজ্জীবিত করার অনুঘটক।” — মন্তব্যের উপযোগিতা যাচাই কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘বর্ষাকালেই তো জুৎ।’ — এ কথাটি বলেছিল গেরিলা বা মুক্তিযোদ্ধাদের সমর্থক একজন সাধারণ মানুষ (কথক নুরুল হুদার সহযাত্রী বা সাধারণ নাগরিক)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে মিন্টু মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে, কিন্তু পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের ভয়ে তা প্রকাশ্যে স্বীকার করা অসম্ভব।
মিন্টু হচ্ছে নুরুল হুদার শ্যালক। ১৯৭১ সালে দেশের মুক্তির তাগিদে সে বাড়ি ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। তৎকালীন দখলদার পাকবাহিনীর নৃশংস অত্যাচারের কারণে পরিবারের কারও পক্ষেই মিন্টুর গেরিলা বা মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় প্রকাশ করা ছিল চরম বিপজ্জনক। তাই নুরুল হুদা এবং তার স্ত্রী মিন্টুর অবস্থান সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানি মিলিটারি ও তাদের চরদের ভয়ে তা গোপন রাখত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছাত্রদের “গোপন আস্তানায় পোস্টার লেখা ও লিফলেট বিলি” ‘রেইনকোট’ গল্পের তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা তৎপরতা ও দুঃসাহসী প্রতিরোধ আন্দোলনের দিকটি তুলে ধরে।
'রেইনকোট' গল্পে দেখা যায়, অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের তরুণ মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে রাতের আঁধারে অতর্কিত আক্রমণ চালাত। তারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্প, সামরিক স্থাপনা ও তাদের দোসরদের লক্ষ্য করে গেরিলা অপারেশন পরিচালনা করত। কলেজের প্রাচীর ভেঙে আলমারি ও ট্রান্সফর্মার উড়িয়ে দেওয়া ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের অংশ।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা গোপন আস্তানায় পোস্টার লেখা ও লিফলেট বিলির মতো ঝুঁকিপূর্ণ ও দুঃসাহসী কাজে যুক্ত ছিল। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে গোপনে সংগঠিত হওয়া এবং মাতৃভূমির মুক্তির জন্য জীবন বাজি রেখে কাজ করার মানসিকতাটি 'রেইনকোট' গল্পের মুক্তিকামী তরুণদের গোপন গেরিলা কর্মকাণ্ডের প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের একুশে ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের নিষ্ঠুরতা এবং ‘রেইনকোট’ গল্পের নুরুল হুদার গায়ের রেইনকোট — উভয়েই সাধারণ ভীরু মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শক্তিতে উজ্জীবিত করার অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। তাই মন্তব্যটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
'রেইনকোট' গল্পের প্রধান চরিত্র নুরুল হুদা স্বভাবগতভাবেই ছিলেন একজন ভীতু ও নিরীহ কলেজ শিক্ষক। পাকিস্তানি মিলিটারির ভয়ে তিনি সব সময় তটস্থ থাকতেন। কিন্তু এক বৃষ্টির দিনে শ্যালক মিন্টুর রেইনকোটটি গায়ে চাপানোর পর তাঁর ভেতরে এক অদ্ভুত রূপান্তর ঘটে। মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত রেইনকোটটি নুরুল হুদাকে এক আত্মিক সাহস ও দেশপ্রেমে বলীয়ান করে তোলে। পাকবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের মুখেও তিনি কোনো সহকর্মীর নাম প্রকাশ করেননি, বরং এক বীরোচিত অবিচলতা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। রেইনকোটটি এখানে নিছক একটি পোশাক নয়, বরং সাহস ও প্রতিবাদের প্রতীক বা অনুঘটক।
অন্যদিকে, উদ্দীপকে মোসাদ্দেক চরিত্রটিও ছিল ভীরু ও অন্তর্মুখী। সে জনসমাগম এড়িয়ে চলত এবং বায়ান্নর উত্তাল সময়েও ভয়ে নিষ্ক্রিয় ছিল। কিন্তু একুশে ফেব্রুয়ারিতে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশের বর্বর নির্যাতন ও রাজপথের তাজা রক্ত তার মনের জড়তা ও ভয়কে নিমেষেই দূর করে দেয়। রক্তের দাগ তার ভীতিকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে এবং সে রাজপথে নেমে জোরালো স্লোগানে শামিল হয়।
সুতরাং দেখা যায়, মোসাদ্দেকের ক্ষেত্রে পুলিশের রক্তক্ষয়ী বর্বরতা এবং নুরুল হুদার ক্ষেত্রে শ্যালকের রেইনকোট — উভয় ঘটনাই তাঁদের ভেতরের ভয় ও জড়তা ভেঙে দেশপ্রেমের চেতনায় রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা জুগিয়েছে। অতএব, প্রদত্ত মন্তব্যটি অত্যন্ত উপযোগী ও যথাযথ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও