হিন্দু ধর্ম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

মেধাবী ছাত্র শুভ এসএসসি পাস করার পর কলেজে ভর্তি হয়। কিছুদিন পরে সে কুসঙ্গে মিশে মাদকাসক্ত হয়ে বিভিন্ন রকম খারাপ কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ে। শুভর মা-বাবা তাকে বুঝিয়ে স্বাভাবিক জীবনে আনতে সক্ষম হন। শুভ তার ভুল বুঝতে পেরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।

  1. ক)

    শিষ্টাচার কী?

    (1)
  2. খ)

    মাদকাসক্তের কুফল ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'শুভর' মাদকাসক্ত অবস্থা প্রতিকারের উপায়গুলো বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে মাদকাসক্তির প্রভাব পঠিত বইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    নম্র, ভদ্র বা শিষ্ট আচারকে শিষ্টাচার বলে।

  2. খ)

    মাদকাসক্তি দৈহিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি করে। এতে নানা অসুখ হয় এবং মাদকাসক্ত স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরে যায়।

    মাদকাসক্ত অবস্থায় বিবেকবুদ্ধি ও চৈতন্য লোপ পায়, এমনকি মস্তিষ্কবিকৃতিও ঘটতে পারে। মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতে সে অসৎ উপায় অবলম্বন করে। এতে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন শিথিল হয়ে যায়।

  3. গ)

    উদ্দীপকে শুভ কুসঙ্গে মিশে মাদকাসক্ত হয়েছিল। পাঠ্যবই অনুযায়ী মাদকাসক্তকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা একটি পারিবারিক কর্তব্য। শুভর ক্ষেত্রে প্রতিকারের উপায়গুলো নিচে বর্ণনা করা হলো।

    মাদকাসক্তির ধারণা: ধূমপান, মদ, গাঁজা, আফিম, হেরোইন, ফেনসিডিল প্রভৃতি মাদক। একবার শুরু করলে এটি নেশায় পরিণত হয়, যা সহজে ছাড়া যায় না। মাদকাসক্তি অনৈতিক ও অধর্মের পথ, কারণ এটি স্বাভাবিক চেতনাকে বিমূঢ় করে দেয়।

    প্রতিকারের উপায়:
    ১. পারিবারিক উদ্যোগ: শুভর মা-বাবা তাকে বুঝিয়ে স্বাভাবিক জীবনে এনেছেন। সন্তানকে কেবল শাসন নয়, সচেতন করে তোলা এবং তার দৈনন্দিন জীবনের প্রতি লক্ষ রাখা পিতা-মাতার ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব।
    ২. ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ: পরিবারের সদস্যদের বোঝাতে হবে, দেহে আত্মারূপে ব্রহ্ম অবস্থান করেন, তাই এ দেহ ঈশ্বরের মন্দির; একে অপবিত্র করা চলে না।
    ৩. দৃষ্টান্ত স্থাপন: 'আপনি আচরি ধর্ম জীবেরে শিখায়', অর্থাৎ বড়রা নিজে আদর্শ হলে ছোটরা শেখে।
    ৪. কুসঙ্গ বর্জন: মাদকাসক্তের সঙ্গীরাও পাপভাগী হন, তাই কুসঙ্গ এড়ানো প্রয়োজন।

    এভাবে শুভ ভুল বুঝে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে।

  4. ঘ)

    মাদকাসক্তি শুধু ব্যক্তির নয়, পরিবার ও সমাজের জন্যও গভীর ক্ষতির কারণ। হিন্দুধর্ম অনুসারে এটি ঘোরতর পাপ ও অধর্মের পথ। উদ্দীপকের শুভর ঘটনা এ প্রভাবের একটি দৃষ্টান্ত।

    পাঠ্যবই বলে, ধূমপান ও মাদকাসক্তি দৈহিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতি সাধন করে। মাদকাসক্ত ব্যক্তি অসুস্থ দেহ-মনে অনৈতিক আচরণ করে এবং মাদক না পেলে অস্থির ও ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে।

    ১. পারিবারিক জীবনে প্রভাব: মাদকাসক্ত সন্তানের কারণে মা-বাবা দুশ্চিন্তা ও কষ্টে থাকেন। পরিবারে শান্তি নষ্ট হয়, সম্পর্কের বন্ধন শিথিল হয়ে যায়। শুভর মেধাবী জীবন নষ্ট হতে বসেছিল, যা পরিবারের সব আশা ম্লান করে দেয়।

    ২. আর্থিক ক্ষতি ও অপরাধ: মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতে মাদকাসক্ত অসৎ উপায় অবলম্বন করতেও দ্বিধা করে না। উদ্দীপকে শুভ বিভিন্ন খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়েছিল। এতে পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    ৩. সামাজিক জীবনে প্রভাব: মাদকাসক্তের বিবেকবুদ্ধি লোপ পায়। সে সমাজে অনৈতিক ও অপরাধমূলক কাজ ঘটায়, ফলে সামাজিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। সামাজিক বন্ধনও শিথিল হয়।

    ৪. ধর্মীয় ও নৈতিক ক্ষতি: মাদকাসক্তি দেহরূপ ঈশ্বরের মন্দিরকে অপবিত্র করে। মাদকাসক্তের সঙ্গ করলে অন্যরাও পাপের অংশীদার হয়। এতে পরিবারের ধর্মীয় সংস্কৃতি ও নৈতিক মূল্যবোধ নষ্ট হয়।

    সুতরাং, মাদকাসক্তি পরিবার ও সমাজ উভয়ের শান্তি, নৈতিকতা ও অগ্রগতির ঘোর শত্রু। 'ধূমপান মাদকগ্রহণ অধর্মের পথ' এ বোধ পরিবারে ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন