জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

কৃষিবিজ্ঞানীরা দুটি পদ্ধতিতে উদ্ভিদের জাত সৃষ্টি একটিতে উন্নত ও মিশ্র বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন উদ্ভিদ সৃষ্টি উদ্ভিদের মাতৃ গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে। করে থাকেন। হয়। অপরটিতে উদ্ভিদের মাতৃ গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে।

  1. ক)

    দ্বিনিষেক কী?

    (1)
  2. খ)

    পার্থেনোজেনেসিস বলতে কী বুঝায়?

    (2)
  3. গ)

    কৃষি বিজ্ঞানীর ব্যবহৃত প্রথম পদ্ধতিটির কৌশল বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    কৃষি অর্থনীতিতে উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় পদ্ধতি কীভাবে ভূমিকা পালন করে? ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গুপ্তবীজী উদ্ভিদের ভ্রূণথলিতে একই সাথে একটি পুং-গ্যামেটের সাথে ডিম্বাণুর মিলন (সত্যিকার নিষেক) এবং অপর একটি পুং-গ্যামেটের সাথে সেকেন্ডারি নিউক্লিয়াসের মিলনকে (ত্রিমিলন) একত্রে দ্বিনিষেক (Double fertilization) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    নিষেক ছাড়াই অনিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে সরাসরি ভ্রূণ সৃষ্টির মাধ্যমে নতুন জীব বা উদ্ভিদ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে পার্থেনোজেনেসিস (Parthenogenesis) বা অপুংজনি বলে।

    ১৮৩২ সালে চার্লস বনেট প্রথম এ প্রক্রিয়া আবিষ্কার করেন। এটি মূলত এক ধরনের অযৌন বা পরিবর্তিত যৌন প্রজনন প্রক্রিয়া। এতে কোনো শুক্রাণু বা পুং-গ্যামেটের সংযোগ ঘটে না। উদাহরণস্বরূপ—কিছু উদ্ভিদে (যেমন: ড্যান্ডেলিয়ন) এবং কিছু প্রাণীতে (যেমন: পুরুষ মৌমাছি বা ড্রোন, এফিড ইত্যাদি) পার্থেনোজেনেসিস দেখা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত কৃষিবিজ্ঞানীর ব্যবহৃত প্রথম পদ্ধতিটি হলো কৃত্রিম সংকরায়ণ (Artificial Hybridization)। এর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত উন্নত ও মিশ্র বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন উদ্ভিদ তৈরি করা হয়। নিচে এর কৌশল বর্ণনা করা হলো:

    ১. কাঙ্ক্ষিত জনক নির্বাচন: সংকরায়ণের জন্য উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন দুটি ভিন্ন জাতের সুস্থ ও সবল মাতৃ এবং পিতৃ উদ্ভিদ নির্বাচন করা হয়।
    ২. স্ব-পরাগায়ন রোধ ও ব্যাগিং: নির্বাচিত স্ত্রী উদ্ভিদের ফুল থেকে পরাগায়নের পূর্বে পুংকেশর কেটে অপসারণ করা হয়, যাকে ইমাস্কুলেশন (Emasculation) বলে। এরপর অনাকাঙ্ক্ষিত পরাগরেণুর প্রবেশ রোধে ফুলটিকে বাটার পেপারের ব্যাগ দিয়ে ঢেকে (ব্যাগিং) রাখা হয়।
    ৩. পরাগরেণু সংগ্রহ ও ব্রাশকরণ: উপযুক্ত সময়ে পিতৃ উদ্ভিদের নির্বাচিত ফুল থেকে পরিণত পরাগরেণু সংগ্রহ করে স্ত্রী ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থাপন বা ব্রাশ করা হয়।
    ৪. পুনরায় ব্যাগিং ও ট্যাগিং: পরাগায়নের পর ফুলটিকে আবার ঢেকে দেওয়া হয় এবং এতে সংকরায়ণের তারিখ, উদ্ভিদের নাম ইত্যাদি সংবলিত ট্যাগ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
    ৫. সংকর বীজ ও বংশধর উৎপাদন: পরাগায়ন ও নিষেকের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফল থেকে সংকর (Hybrid) বীজ সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তী মৌসুমে এই বীজ বুনে মিশ্র ও উন্নত বৈশিষ্ট্যযুক্ত সংকর উদ্ভিদ (F1 জনু) পাওয়া যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো টিস্যু কালচার বা অঙ্গজ প্রজনন পদ্ধতি, যাতে উদ্ভিদের মাতৃ গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে। কৃষি অর্থনীতিতে এই পদ্ধতির ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. রোগমুক্ত ও মানসম্পন্ন চারা উৎপাদন: মেরিস্টেম বা শীর্ষ মুকুল কালচারের মাধ্যমে ভাইরাস ও অন্যান্য রোগমুক্ত সুস্থ চারা উৎপাদন করা যায়, যা ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করে কৃষকের লোকসান কমায়। যেমন—আলুর ভাইরাস-মুক্ত বীজ উৎপাদন।
    ২. দ্রুত ও বিপুল পরিমাণে বংশবৃদ্ধি: সনাতন পদ্ধতির চেয়ে কম সময়ে ও সীমিত জায়গায় কোটি কোটি চারা বা মাইক্রোপ্রোপাগেশন তৈরি সম্ভব। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ফুল (অর্কিড, জারবেরা), ফল এবং কাঠের চারা বিক্রি করে নার্সারি শিল্প সমৃদ্ধ হচ্ছে।
    ৩. মাতৃগুণ অক্ষুণ্ণ রাখা: উন্নত গুণসম্পন্ন কোনো উদ্ভিদের জিনগত বিশুদ্ধতা বজায় রেখে ক্লোন তৈরির মাধ্যমে জাতের গুণমান অক্ষুণ্ণ রাখা যায়, যা কৃষিপণ্যের বাজারদর স্থিতিশীল ও আকর্ষণীয় রাখে।
    ৪. ঋতু-নিরপেক্ষ চারা উৎপাদন: আবহাওয়ার প্রতিকূলতা এড়িয়ে বছরের যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কাঙ্ক্ষিত ফসলের চারা উৎপাদন করা যায়।
    ৫. বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের সংরক্ষণ: অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অথচ প্রকৃতিতে বিলুপ্তপ্রায় এমন মূল্যবান উদ্ভিদের জিনপ্লাজম সংরক্ষণ ও বিস্তার ঘটিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতি রোধ করা যায়।

    সুতরাং, কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক নার্সারির সম্প্রসারণ এবং উন্নত ফসলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করে কৃষি অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে এই পদ্ধতিটি অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন