‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা • নটর ডেম কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

মি. ফরিদ সাহেব একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করেন। তিনি যে বেতন পান তা দিয়ে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। মাসের ১৫ দিন যেতে না যেতেই অভাব-অনটন দেখা যায়। এদিকে ম্যানেজার প্রতিনিয়ত চাকরিচ্যুতির হুমকি দেন। কোভিড-১৯-এর পর চাকরির বাজারে যে সংকট তাতে করে এখানের চাকরি ছেড়ে অন্য কোথাও যে চাকরি নিবেন সে সুযোগ নেই।

  1. ক)

    মানবাধিকার বলতে কী বুঝায়?

    (1)
  2. খ)

    চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত মি. ফরিদের ঘটনা কোন ধরনের স্বাধীনতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উক্ত স্বাধীনতা ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন"- ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষ হিসেবে জন্মসূত্রে প্রাপ্ত যেসব মৌলিক অধিকার ব্যক্তির মর্যাদা, ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও সুন্দর জীবনের নিশ্চয়তা প্রদান করে, সেগুলোকে মানবাধিকার বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এমন এক ধরনের সংগঠিত ব্যক্তিবর্গ, যারা সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা সরকারি ক্ষমতা দখল না করে নিজেদের বিশেষ স্বার্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে সরকারের নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। এরা লবিং, প্রচার-প্রচারণা, স্মারকলিপি ইত্যাদির মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত মি. ফরিদের ঘটনাটি 'অর্থনৈতিক স্বাধীনতা'র অভাবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বলতে অভাব ও দারিদ্র্য থেকে মুক্তি, উপযুক্ত পারিশ্রমিকে কর্মসংস্থানের অধিকার, বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তা থেকে রক্ষা এবং আর্থিক নিরাপত্তা লাভকে বোঝায়।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. ফরিদ যে বেতন পান তা দিয়ে মাস চলা অসম্ভব এবং তিনি অভাব-অনটনে ভোগেন। তাছাড়া তিনি প্রতিনিয়ত চাকরি হারানোর শঙ্কায় থাকেন এবং বিকল্প কাজের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত। অর্থনৈতিকভাবে সুরক্ষিত না থাকার কারণে তাঁর জীবনযাত্রা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সুতরাং, মি. ফরিদের এই বঞ্চনা ও অনিশ্চয়তা মূলত অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অনুপস্থিতিকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ব্যতীত রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন"—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।

    রাজনৈতিক স্বাধীনতা হলো রাষ্ট্রে নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, সরকার গঠন ও সমালোচনা করার অধিকার। কিন্তু নাগরিক যদি পেটের ক্ষুধা, অভাব-অনটন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতায় জর্জরিত থাকে, তবে তার পক্ষে রাজনৈতিক অধিকারগুলোর সঠিক প্রয়োগ সম্ভব নয়। একজন অভুক্ত ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষ তার ভোটাধিকার বিবেক অনুযায়ী প্রয়োগ করতে পারে না; অর্থের বা সামান্য সুবিধার লোভে তার মতামত বিক্রি হতে পারে।

    উদ্দীপকের মি. ফরিদের মতো মানুষ, যিনি নিত্যদিনের জীবনধারণের খরচ জোগাড় করতে এবং চাকরি রক্ষার ভয়ে দিশেহারা, তাঁর কাছে ভোট দেওয়া বা রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার চেয়ে অর্থনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা প্রধান হয়ে দাঁড়ায়। অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বাবলম্বিতা ছাড়া রাজনৈতিক অধিকার শুধুই আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত হয়।

    অতএব, জনগণের স্বাধীন মতামত প্রকাশ ও একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হলো অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া রাজনৈতিক স্বাধীনতা কখনোই অর্থবহ হতে পারে না।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন