‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কী?

    (1)
  2. খ)

    স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত আইনটির অন্য দুটি বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    বর্ণিত আইনটি প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার কার্যকারিতা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত থেকে সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রাদেশিক সরকারের নিজস্ব বিষয়াদি স্বাধীনভাবে পরিচালনার অধিকারকে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (Discretionary Power) বলতে সংবিধান বা আইন অনুসারে কোনো শাসনকর্তা বা সাংবিধানিক প্রধানের এমন বিশেষ ক্ষমতাকে বোঝায়, যা প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে তিনি কোনো মন্ত্রী বা মন্ত্রিসভার পরামর্শ গ্রহণ করতে বাধ্য নন এবং নিজের বিচার-বুদ্ধি ও ইচ্ছানুযায়ী স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। যেমন—১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে গভর্নর জেনারেল ও প্রাদেশিক গভর্নরগণকে ব্যাপক স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে তারা মন্ত্রীদের মতামত উপেক্ষা করে নিজস্ব ক্ষমতাবলে সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যগুলো (কেন্দ্রে দ্বৈতশাসন প্রবর্তন, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা, গভর্নর জেনারেলের আইন প্রণয়ন ক্ষমতা) নির্দেশ করে যে আইনটি হলো '১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন'।

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলো ছাড়াও এই আইনটির অন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র গঠন: ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ব্রিটিশ ভারতের ১১টি প্রদেশ এবং দেশীয় রাজ্যগুলোকে নিয়ে একটি সর্বভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র (All India Federation) গঠনের প্রস্তাব। তবে দেশীয় রাজ্যগুলোর যোগদান বাধ্যতামূলক না থাকায় এবং তারা শর্তানুযায়ী রাজি না হওয়ায় এই যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোটি বাস্তবে কার্যকর হয়নি।

    ২. ক্ষমতা বণ্টন ও তিনটি তালিকা প্রণয়ন: এই আইনে কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রাদেশিক সরকারগুলোর মধ্যে ক্ষমতা সুস্পষ্টভাবে বণ্টন করা হয়। আইন প্রণয়নের বিষয়গুলোকে তিনটি তালিকায় বিভক্ত করা হয়েছিল—(ক) কেন্দ্রীয় তালিকা (যেমন—প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, মুদ্রা ইত্যাদি), (খ) প্রাদেশিক তালিকা (যেমন—পুলিশ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার ইত্যাদি), এবং (গ) যুগ্ম বা সমবর্তী তালিকা (যেমন—দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন, বিবাহ ইত্যাদি)। অবশিষ্ট ক্ষমতা গভর্নর জেনারেলের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করা হলেও বাস্তবে এর কার্যকারিতা ছিল অত্যন্ত সীমিত এবং বিভ্রান্তিকর। নিচে এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হলো:

    তত্ত্বগতভাবে, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের মাধ্যমে প্রদেশগুলোতে ইতিপূর্বে কার্যকর ১৯১৯ সালের দ্বৈতশাসনের অবসান ঘটানো হয় এবং আইনসভার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে মন্ত্রিসভা গঠনের ব্যবস্থা করে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এতে আইনসভা ও জনগণের কাছে মন্ত্রীদের দায়িত্বশীল থাকার কথা বলা হয়েছিল।

    কিন্তু কার্যকর বাস্তবতার ক্ষেত্রে দেখা যায়, এই স্বায়ত্তশাসন ছিল কেবলই লোকদেখানো বা নামমাত্র। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
    ১. গভর্নরের একচ্ছত্র আধিপত্য: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের মূল বাধা ছিলেন গভর্নর। গভর্নরকে ব্যাপক 'স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা' (Discretionary power) এবং 'স্বীয় বিচারবুদ্ধি প্রয়োগের ক্ষমতা' (Individual judgment) দেওয়া হয়েছিল, যার মাধ্যমে তিনি যেকোনো বিষয়ে মন্ত্রিসভার পরামর্শ অগ্রাহ্য বা বাতিল করতে পারতেন।
    ২. বিশেষ দায়িত্ব ও হস্তক্ষেপ: প্রদেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, সংখ্যালঘু ও সিভিল সার্ভিসের স্বার্থ রক্ষার নামে গভর্নরকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফলে গভর্নর যেকোনো সময় প্রাদেশিক শাসনব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করতে পারতেন।
    ৩. আইন প্রণয়ন ও বাতিল ক্ষমতা: গভর্নর প্রয়োজনে নিজস্ব ক্ষমতাবলে আইন বা অর্ডিন্যান্স জারি করতে পারতেন এবং আইনসভা কর্তৃক পাসকৃত বিলে সম্মতি না দিয়ে তা আটকে রাখতে বা গভর্নর জেনারেলের বিবেচনার জন্য পাঠাতে পারতেন।
    ৪. সাংবিধানিক অচলাবস্থা জারি: আইনের ৯৩ ধারা অনুযায়ী গভর্নর সাংবিধানিক অচলাবস্থা ঘোষণা করে মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত ও সম্পূর্ণ প্রাদেশিক শাসন নিজের হাতে তুলে নিতে পারতেন।

    অতএব, ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের মূল নীতি ঘোষিত হলেও গভর্নরের সর্বময় ক্ষমতা ও খবরদারির কারণে এই স্বায়ত্তশাসন প্রকৃত অর্থে বাস্তব রূপ পায়নি। ফলে ভারতীয় নেতৃবৃন্দ একে 'প্রহসনমূলক স্বায়ত্তশাসন' বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন