ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৩
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. বাবুল তার বাবার সাথে একই বাড়িতে থাকেন। বাড়িটি বাবুলের বাবার নামে। ভূমিকম্প হলে বাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এই কথা চিন্তা করে মি. বাবুল বাড়িটি বিমা করতে চান। বিমা প্রতিষ্ঠানে গেলে তারা বাড়িটি বিমা করতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন ও মি. বাবুলের বাবা নিজেই বাড়িটি বিমা করেন। তারপর মি. বাবুল বিমা প্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে বাড়ির দ্বিতীয় তলার কাজ শুরু করেন। দ্বিতীয় তলার কাজ শেষ হওয়ার পরপরই র বাড়িটি একপাশে হেলে যায়। মি. বাবুলের বাবা বিমা দাবি পেশ করলে বিমা প্রতিষ্ঠান বিমা দাবি পূরণে অস্বীকৃতি জানায়।
- ক)(1)
বিমাচুক্তি কী?
- খ)(2)
বিমাচুক্তিকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
কোন নীতির জন্য মি. বাবুলের প্রস্তাবে বিমা প্রতিষ্ঠান বাড়িটি বিমা করতে সম্মত হয়নি? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে মি. বাবুলের বাবা কি বিমা দাবি পাওয়ার যোগ্য? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে চুক্তির মাধ্যমে বিমাকারী নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে বিমাগ্রহীতাকে নির্দিষ্ট ঝুঁকি বা ক্ষতির বিপরীতে ক্ষতিপূরণ বা নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের নিশ্চয়তা দেয়, তাকে বিমাচুক্তি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিমাচুক্তিকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয় কারণ এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিমাকৃত বিষয়ে কোনো আর্থিক ক্ষতি সংঘটিত হলে বিমাগ্রহীতাকে ক্ষতি ঘটার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া।
সাধারণত অগ্নি, নৌ বা দুর্ঘটনা বিমায় বিমাগ্রহীতাকে কোনো অবস্থাতেই প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া হয় না, যাতে বিমার মাধ্যমে কেউ লাভবান বা মুনাফা অর্জন করতে না পারে। তাই ক্ষতিপূরণের নীতি কঠোরভাবে অনুসৃত হওয়ায় সম্পত্তি বা সাধারণ বিমাচুক্তিকে ক্ষতিপূরণের চুক্তি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বিমাযোগ্য স্বার্থ' নীতির জন্য মি. বাবুলের প্রস্তাবে বিমা প্রতিষ্ঠান বাড়িটি বিমা করতে সম্মত হয়নি।
বিমাচুক্তির একটি অপরিহার্য উপাদান ও মৌলিক নীতি হলো বিমাযোগ্য স্বার্থ। বিমাকৃত বিষয়ের প্রতি বিমাগ্রহীতার যে আর্থিক স্বার্থ জড়িত থাকে, অর্থাৎ বিষয়টি অক্ষত থাকলে বিমাগ্রহীতা আর্থিকভাবে উপকৃত হন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন—তাকে বিমাযোগ্য স্বার্থ বলে। আইন অনুযায়ী বিমাকৃত বিষয়ে বিমাগ্রহীতার বৈধ মালিকানা বা আর্থিক স্বার্থ না থাকলে বিমাচুক্তি বৈধ হয় না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বাড়িটি মি. বাবুলের বাবার নামে রেজিস্ট্রিকৃত, বাবুলের নিজস্ব নামে নয়। ফলে আইনগতভাবে ওই সম্পত্তিতে বাবুলের কোনো প্রত্যক্ষ বিমাযোগ্য স্বার্থ নেই। তাই বিমাযোগ্য স্বার্থের নীতি বিদ্যমান না থাকায় বিমা প্রতিষ্ঠান বাবুলের বিমা প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে মি. বাবুলের বাবা বিমা দাবি পাওয়ার যোগ্য নন; বিমা কোম্পানির দাবি প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তটি আইনগতভাবে সম্পূর্ণ সঠিক।
বিমাচুক্তি 'চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাসের চুক্তি'। এ নীতি অনুসারে বিমাগ্রহীতাকে বিমার বিষয়বস্তু সম্পর্কিত ঝুঁকি বাড়ানো বা কমানোর মতো সকল গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তব তথ্য সততার সাথে বিমাকারীকে অবগত করতে হয়। বিমাচুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর যদি বিমাকৃত বিষয়ের ঝুঁকি বা প্রকৃতিতে কোনো পরিবর্তন আসে, তবে তা অবিলম্বে বিমা প্রতিষ্ঠানকে জানাতে হয় এবং তাদের সম্মতি নিতে হয়। তাছাড়া বিমার বিষয়বস্তুর ঝুঁকি অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করা হলে চুক্তিটি বাতিল বা দাবি অকার্যকর হতে পারে।
উদ্দীপকে মি. বাবুলের বাবা বাড়িটি বিমা করার পর বিমা প্রতিষ্ঠানকে কোনো প্রকার অবহিত না করেই দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজ শুরু ও সম্পন্ন করেন। বিমাকৃত কাঠামোর ওপর দ্বিতীয় তলা নির্মাণের ফলে ভবনের কাঠামোগত চাপ ও ঝুঁকির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এই পরিবর্তনের কথা বিমা প্রতিষ্ঠানকে না জানানোয় চূড়ান্ত সদ্বিশ্বাস নীতির ব্যত্যয় ঘটেছে। অধিকন্তু, দ্বিতীয় তলা নির্মাণের কারণেই বাড়িটি একপাশে হেলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
অতএব, বিমা প্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে ঝুঁকি বৃদ্ধি করা এবং সদ্বিশ্বাসের নীতি লঙ্ঘন করায় মি. বাবুলের বাবা বিমা দাবি পাওয়ার যোগ্য নন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও