ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
জারিন স্থানীয় নারীদের নিয়ে একটি সমবায় সমিতি গঠন করেন। তিনি নারীদের তৈরি হস্তশিল্প শহরে ন্যায্যমূল্যে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেন। এতে তারা নিজেদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছেন।
- ক)(1)
সমবায় সমিতি কী?
- খ)(2)
ভোক্তা সমবায় সমিতি বলতে কী বোঝায় ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে জারিন কী ধরনের সমবায় সমিতি গঠন করেছেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে জারিন যে সমবায় সমিতি গঠন করেছেন সেটি তাদের জন্য খুবই উপযোগী হয়েছে-বক্তব্যের যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পারস্পরিক অর্থনৈতিক কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যে সমমনা ও সমশ্রেণির ব্যক্তিবর্গের দ্বারা সমবায় আইনের আওতায় গঠিত ও পরিচালিত গণতান্ত্রিক সংগঠনকে সমবায় সমিতি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভোক্তা সমবায় সমিতি বলতে বোঝায় সাধারণ ভোক্তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের শোষণ ও অতিরিক্ত মুনাফা এড়িয়ে সরাসরি উৎপাদক বা পাইকারি বাজার থেকে ন্যায্যমূল্যে ক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজেদের উদ্যোগে যে সমবায় সমিতি গঠন করে।
এ ধরনের সমিতির মাধ্যমে সদস্যরা ন্যায্যমূল্যে ভেজালমুক্ত পণ্য সামগ্রী সহজে লাভ করে এবং মধ্যস্থতাকারীদের অতিমুনাফা প্রতিরোধ করতে পারে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জারিন 'উৎপাদক সমবায় সমিতি' (বা হস্তশিল্প সমবায় সমিতি/বিক্রয় সমবায় সমিতি) গঠন করেছেন।
স্বল্প পুঁজির ক্ষুদ্র উৎপাদকরা মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের শোষণ এড়িয়ে নিজেদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং যৌথভাবে বিক্রয় সুবিধার উদ্দেশ্যে যে সমবায় সমিতি গঠন করে, তাকে উৎপাদক সমবায় সমিতি বলে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জারিন এলাকার স্থানীয় হস্তশিল্প তৈরি করা নারীদের একত্রিত করে সমবায় সমিতি গঠন করেছেন এবং তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি শহরের বাজারে ন্যায্যমূল্যে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন। এর মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূর হয়েছে এবং উৎপাদক নারীরা সরাসরি ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। ক্ষুদ্র হস্তশিল্প উৎপাদকদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য এটি গঠিত হওয়ায় এটি একটি উৎপাদক সমবায় সমিতি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জারিন যে উৎপাদক সমবায় সমিতি গঠন করেছেন সেটি স্থানীয় নারীদের স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে খুবই উপযোগী হয়েছে—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
আমাদের দেশের গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া নারী সমাজ প্রায়শই মূলধন, সঠিক বাজারজাতকরণ জ্ঞান এবং সরাসরি বাজারসংযোগের অভাবে নিজেদের তৈরি হস্তশিল্পের উপযুক্ত মূল্য পান না। মধ্যস্থতাকারীরা কম দামে পণ্য কিনে বেশি মুনাফা লাভ করে, ফলে প্রকৃত কারিগররা দরিদ্রই থেকে যান। সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগ এই সমস্যা দূরীকরণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে জারিন স্থানীয় নারীদের সংগঠিত করে একটি সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন। এর ফলে তারা সম্মিলিতভাবে হস্তশিল্প সামগ্রী উৎপাদন ও শহরের বাজারে ন্যায্যমূল্যে বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। মধ্যস্থ ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় তাদের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রত্যক্ষ উন্নতি ঘটেছে। এ ধরনের উদ্যোগ তাদের কাজের নিরাপত্তা, মনোবল এবং আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করেছে।
সুতরাং, অনগ্রসর হস্তশিল্প কারিগর নারীদের একত্র করে তাদের পণ্যের যথাযথ মূল্য নিশ্চিত করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এই সমিতি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও উপযোগী ভূমিকা পালন করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও