যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
কাশেম সাহেব একজন শিক্ষক। তার পড়ানোর বিষয় কোনো কিছুর সংখ্যা, পরিমাণ, আকার ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে। এতে ভাষার পরিবর্তে প্রতীক ও সংকেত ব্যবহার করে সংক্ষেপে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়। কাশেম সাহেবের বন্ধু রফিক সাহেব একজন ব্যবসায়ী । তিনি সর্বদা তার ক্রেতা ও কর্মচারীদের সাথে ভালো ব্যবহার করেন । তিনি নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করেন। পণ্যের গুণগত মান ও পরিমাণের বিষয়ে তিনি ক্রেতার সাথে প্রতারণা করেন না।
- ক)(1)
যুক্তিবিদ্যার জনক কে?
- খ)(2)
নীতিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কাশেম সাহেবের পড়ানোর বিষয় পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা কর ।
- ঘ)(4)
রফিক সাহেবের কর্মকাণ্ড যে বিষয়টিকে নির্দেশ করে তার সাথে যুক্তিবিদ্যার আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ কর ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটলকে যুক্তিবিদ্যার জনক বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নীতিবিদ্যা মানুষের আচরণের ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় বা উচিত-অনুচিতের মূল্যায়ন করে পরম কল্যাণ বা মঙ্গলের আদর্শের ভিত্তিতে। এটি কেবল বাস্তব আচরণের বিবরণ দেয় না, বরং মানুষের আচরণ কেমন হওয়া উচিত তা একটি নির্দিষ্ট আদর্শের নিরিখে নির্ধারণ করে বলে নীতিবিদ্যাকে একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে কাশেম সাহেবের পড়ানোর বিষয়টি পাঠ্যবইয়ের 'গণিত' বা 'প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা ও গণিতের সম্পর্ক'-এর প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
গণিত হলো পরিমাণ, সংখ্যা, আকার এবং এদের মধ্যকার সম্বন্ধ সংক্রান্ত বিজ্ঞান। আধুনিক প্রতীকী যুক্তিবিদ্যা ও গণিতের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। প্রতীকী যুক্তিবিদ্যায় সাধারণ ভাষার সীমাবদ্ধতা ও অস্পষ্টতা দূর করার জন্য গণিতের মতো প্রতীক ও সংকেত ব্যবহার করে সংক্ষিপ্ত ও নির্ভুলভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়। উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে কাশেম সাহেব এমন একটি বিষয় পড়ান যা সংখ্যা, পরিমাণ ও আকার নিয়ে আলোচনা করে এবং প্রতীক ও সংকেত ব্যবহার করে দ্রুত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সাহায্য করে। এটি স্পষ্টভাবে গণিত এবং গাণিতিক/প্রতীকী যুক্তিবিদ্যার স্বরূপ নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রফিক সাহেবের সততা, সঠিক মূল্য নির্ধারণ, ভেজালমুক্ত ব্যবসা পরিচালনা ইত্যাদি কর্মকাণ্ড নীতিবিদ্যা (Ethics)-কে নির্দেশ করে। নীতিবিদ্যার সাথে যুক্তিবিদ্যার একটি গভীর আন্তঃসম্পর্ক রয়েছে।
১. আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞানের সম্পর্ক: যুক্তিবিদ্যা এবং নীতিবিদ্যা উভয়ই আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। যুক্তিবিদ্যার মূল আদর্শ হলো 'সত্য', আর নীতিবিদ্যার মূল আদর্শ হলো 'কল্যাণ' বা 'শুভ'।
২. সঠিক সিদ্ধান্তের ভিত্তি: নীতিবিদ্যার নির্দেশিত নৈতিক আচরণ (যেমন ন্যায়পরায়ণতা, সততা) নির্ধারণে যুক্তিবিদ্যার যৌক্তিক চিন্তাপদ্ধতি একান্ত জরুরি। কোনটি ন্যায় এবং কোনটি অন্যায় তা বিবেচনা করার জন্য সঠিক যুক্তি ও বিচারবুদ্ধির প্রয়োগ আবশ্যক, যা যুক্তিবিদ্যা শেখায়।
৩. অবিচ্ছেদ্যতা: সত্য ছাড়া মঙ্গলের প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। ব্যবসায়ে প্রতারণা না করা এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করার মতো নৈতিক মূল্যবোধ যৌক্তিক সিদ্ধান্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত।সুতরাং, কাশেম সাহেবের ব্যবসায়িক সততা নীতিবিদ্যার নির্দেশনা হলেও তা যুক্তিবিদ্যার সুশৃঙ্খল চিন্তা ও সত্যনিষ্ঠার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ফলে এদের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও