বাংলা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
হোসেন মিয়া সাধারণ মাঝি থেকে নিজ পরিশ্রমে অনেক বিত্তশালী আজ। তিনি ময়নাদ্বীপের মালিক। পদ্মাপাড়ের কেতুপুর গ্রামের জেলেপাড়ার কুবের মাঝিদের তিনি অসময়ের বন্ধু। হোসেন মিয়া তাঁর স্বপ্নের ময়নাদ্বীপকে বানাতে চান একখণ্ড মানবিক পৃথিবী। তাই তাঁর ময়নাদ্বীপে বসবাসকারীদের মধ্যে থাকবে না হিংসা-বিদ্বেষ, ধর্ম-অধর্মের তফাৎ।
- ক)(1)
মজিদকে মতিগঞ্জের সড়কে প্রথম কারা দেখেছিল?
- খ)(2)
"যেন হাস্নাহনার মিষ্টি মধুর গন্ধ ছড়ায়।" উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের হোসেন মিয়ার সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের আদর্শগত পার্থক্য নির্ণয় কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের একখন্ড মানবিক পৃথিবী 'লালসালু' উপন্যাসের লেখকের মানসচিন্তাকে ধারণ করে।"- তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজিদকে মতিগঞ্জের সড়কে প্রথম দেখে ছিল দুজন যুবক ও এক বুড়ো লোক (অর্থাৎ পথচলতি গ্রামীণ মানুষ)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"যেন হাস্নাহনার মিষ্টি মধুর গন্ধ ছড়ায়" উক্তিটি দ্বারা মজিদের কাছে জমিলা চরিত্রের রূপ-লাবণ্য ও তার চঞ্চল-কোমল তারুণ্যের মোহনীয় আকর্ষণকে নির্দেশ করা হয়েছে।
মজিদ যখন দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে জমিলাকে ঘরে তোলে, তখন জমিলার তরুণ ও রূপবতী অবয়ব দেখে মজিদের অন্তরে এক অনাস্বাদিত ভালোলাগার সঞ্চার হয়। জমিলার বয়স ও মন মানসিকতা মজিদের শৃঙ্খলিত ও ভণ্ড ধর্মীয় আবহের সম্পূর্ণ বিপরীত হলেও তার সতেজ ও প্রাণবন্ত উপস্থিতি মজিদকে মুগ্ধ করে, যার তীব্র ভালোলাগাকে লেখক হাস্নাহনার মিষ্টি সুবাসের সাথে তুলনা করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের হোসেন মিয়ার সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের আদর্শগত পার্থক্য রয়েছে মানবকল্যাণমুখী চেতনা ও ধর্মভিত্তিক শোষণের বিপরীতে।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ স্বার্থপর, শঠ এবং ধর্মব্যবসায়ী। সে মহব্বতনগর গ্রামে একটি অজ্ঞাত কবরকে 'মোদাচ্ছের পীরের মাজার' বলে প্রচার করে মানুষের ধর্মীয় অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারকে পুঁজি করে নিজের অস্তিত্ব, প্রতিপত্তি ও বিত্ত প্রতিষ্ঠা করে। তার সমগ্র কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার সংকীর্ণ স্বার্থে।
পক্ষান্তরে, উদ্দীপকের হোসেন মিয়া একজন মানবতাবাদী স্বপ্নদ্রষ্টা। সে কঠোর পরিশ্রমে বিত্তশালী হয়ে জেলেপাড়ার দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ায় এবং ময়নাদ্বীপে এমন এক মানবিক পৃথিবী গড়ে তুলতে চায় যেখানে কোনো হিংসা-বিদ্বেষ কিংবা ধর্ম-অধর্মের ভেদাভেদ থাকবে না।
অতএব, মজিদ যেখানে ধর্মকে অস্ত্র বানিয়ে মানুষকে শোষণ ও বিভক্ত করে, সেখানে হোসেন মিয়া সকল বিভেদমুক্ত এক মানবিক সমাজ গড়তে চায়—এটাই তাদের মৌলিক আদর্শগত পার্থক্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের একখণ্ড মানবিক পৃথিবী 'লালসালু' উপন্যাসের লেখকের মানসচিন্তাকে ধারণ করে"—মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ 'লালসালু' উপন্যাসে ধর্মব্যবসায়ী মজিদের মাধ্যমে গ্রামীণ সমাজের যে শোষণ, কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা এবং মানবতার লাঞ্ছনা ফুটিয়ে তুলেছেন, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল এই অচলায়তনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং একটি শোষণহীন মানবিক সমাজের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করা।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখানো হয়েছে ধর্মের নামে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জীবনচেতনা, নারীর স্বাতন্ত্র্য এবং স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতিকে কীভাবে রুদ্ধ করা হয়। মজিদের তৈরি করা সেই ভয় ও শোষণের বলয় কোনো সুস্থ সমাজ হতে পারে না—ঔপন্যাসিক তীব্র ব্যঙ্গ ও ক্ষোভের মাধ্যমে তা উন্মোচন করেছেন। অর্থাৎ তিনি ধর্ম-বর্ণের বিভেদহীন এক সুস্থ ও শোষণমুক্ত মানবিক সমাজ প্রত্যাশা করেছিলেন।
উদ্দীপকের হোসেন মিয়ার ময়নাদ্বীপ এমন এক স্বপ্নের ক্ষেত্র যেখানে থাকবে না কোনো হিংসা-বিদ্বেষ কিংবা ধর্ম-অধর্মের বিভেদ, থাকবে কেবল মানবতা। ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ মহব্বতনগরের যে সংকীর্ণ রূপ তুলে ধরেছেন, তার বিপরীতে তাঁর অন্তরের প্রত্যাশা ছিল হোসেন মিয়ার ময়নাদ্বীপের মতোই শোষণহীন, কুসংস্কারমুক্ত এক উদার মানবিক পৃথিবী।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের হিংসা ও ধর্মান্ধতাহীন 'একখণ্ড মানবিক পৃথিবী' বস্তুত ঔপন্যাসিকের অন্তর্গত শোষণমুক্ত ও প্রগতিশীল মানসচেতনারই প্রতিফলন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও