ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. টোপাল ও হরিপাল সমঝোতার ভিত্তিতে কল্যাণপুর গ্রামের তৈজসপত্র তৈরির কাজ শুরু করেন। বিপণন শুরুর আগেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন করিয়ে নেন। শর্ত মোতাবেক হরিপাল ব্যবসায় মূলধন বিনিয়োগ করবেন না। তাঁদের ব্যবসায় বেশ উন্নতি হচ্ছে। একজন দেনাদারের নিকট ১০,০০০ টাকা পাওনা আদায় না হওয়ায় তারা আইনের আশ্রয় নেয়ার কথা ভাবছেন ।
- ক)(1)
অংশীদারি ব্যবসায় কী?
- খ)(2)
''চুক্তিই অংশীদারী ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি'' ব্যাখ্যা কর
- গ)(3)
উদ্দীপকের ব্যবসায়ের হরিপাল কোন ধরণের অংশীদার? ব্যাখ্যা কর
- ঘ)(4)
পাওনা আদায়ে তারা সক্ষম হবে বলে তুমি মনে কর? যুক্তি সহ আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৩২ সালের ভারতীয় অংশীদারি আইন অনুযায়ী, সকলের দ্বারা বা সকলের পক্ষে একজনের দ্বারা পরিচালিত ব্যবসায়ের মুনাফা নিজেদের মধ্যে বণ্টনের উদ্দেশ্যে চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিবর্গের মধ্যকার সম্পর্ককে অংশীদারি ব্যবসায় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চুক্তির ভিত্তিতেই অংশীদারি ব্যবসায়ের সৃষ্টি, স্থায়িত্ব ও কার্যধারা পরিচালিত হয় বলে চুক্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি বলা হয়।
অংশীদারদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এবং সম্মতির ভিত্তিতে সম্পাদিত চুক্তি থেকেই এ ব্যবসায়ের জন্ম। চুক্তিতে অংশীদারদের দায়িত্ব, ক্ষমতা, মূলধনের পরিমাণ, লাভ-ক্ষতি বণ্টন ইত্যাদি যাবতীয় বিষয় লিপিবদ্ধ বা নির্ধারিত থাকে। চুক্তি ছাড়া কোনো অংশীদারি সম্পর্ক সৃষ্টি হতে পারে না; জন্মগত অধিকার বা সামাজিক মর্যাদার কারণে কেউ অংশীদার হতে পারে না। তাই চুক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ব্যবসায়ে হরিপাল হলেন একজন 'কর্মী অংশীদার' (Working Partner)।
যে অংশীদার ব্যবসায়ে কোনো মূলধন বিনিয়োগ করেন না, কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী ব্যবসায় পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং তার দক্ষতা ও শ্রমের বিনিময়ে ব্যবসায় থেকে নিয়মিত পারিশ্রমিক বা মুনাফার অংশ পেয়ে থাকেন, তাকে কর্মী অংশীদার বলে।
উদ্দীপকে মি. টোপাল ও হরিপাল সমঝোতার ভিত্তিতে তৈজসপত্র তৈরির কাজ শুরু করেন। শর্ত অনুযায়ী হরিপাল কোনো মূলধন বিনিয়োগ করবেন না, তবে তিনি সরাসরি তৈজসপত্র তৈরির কার্যক্রমে শ্রম ও মেধা দিয়ে যুক্ত থাকেন। মূলধন না দিয়ে কেবল সক্রিয়ভাবে কাজে অংশগ্রহণ করায় হরিপাল এখানে কর্মী অংশীদার হিসেবে গণ্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, পাওনা আদায়ে তারা আইনের আশ্রয়ের মাধ্যমে সক্ষম হবেন বলে আমি মনে করি।
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৬৯ ধারা অনুযায়ী, একটি অনিবন্ধিত অংশীদারি ফার্ম তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে ১০০ টাকার বেশি পাওনা আদায়ের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করতে পারে না। কিন্তু অংশীদারি প্রতিষ্ঠানটি যদি নিবন্ধিত হয়, তবে ফার্মের পাওনা বা চুক্তিজনিত অধিকার রক্ষার জন্য তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে সহজেই আদালতে মামলা দায়ের করে আইনগত প্রতিকার লাভ করা যায়।
উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে, মি. টোপাল ও হরিপাল তৈজসপত্র বিপণন বা কার্যক্রম শুরুর পূর্বেই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁদের প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন করিয়ে নেন। যেহেতু তাঁদের অংশীদারি ব্যবসায়টি একটি আইনসম্মত নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান, সেহেতু দেনাদারের কাছে বকেয়া ১০,০০০ টাকা আদায়ের জন্য আইনের আশ্রয় বা আদালতে মামলা দায়ের করার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই।
অতএব, প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধিত থাকায় তাঁরা আইনের আশ্রয়ের মাধ্যমে দেনাদারের নিকট থেকে তাঁদের বকেয়া পাওনা সফলভাবে আদায় করতে সক্ষম হবেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও