কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
স্বপন একজন ক্ষুদ্র চাষি। তার মাত্র চার খণ্ড চাষের জমি আছে। তিনি বহুদিন যাবৎ উক্ত জমিতে ধান ও পাটের চাষ করে আসছেন। তার ঐ সব জমিতে এখন আর আগের মতো ফসল হয় না। তিনি চিন্তিত হয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি তাকে শুধুমাত্র ধান-পাট চাষ না করে ২-৪ বছর ব্যাপী বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষের পরামর্শ দিলেন। এক্ষেত্রে ফসল চাষে তিনি গভীর ও অগভীরমূলী ফসল বিবেচনাসহ জমিকে বিশ্রাম দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার। পরামর্শ দিলেন।
- ক)(1)
কৃষি সমবায় কী?
- খ)(2)
শস্য পঞ্জিকা বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
কৃষি কর্মকর্তা স্বপনের জমিতে গভীর ও অগভীরমূলী ফসল চাষ বিবেচনায় আনতে বললেন কেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
স্বপনের জমিতে আগের মতো ফসল না হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কৃষি উৎপাদন, বিপণন ও উপকরণ সংগ্রহের জন্য গঠিত সংগঠনকে কৃষি সমবায় বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোন জমিতে সারা বছরব্যাপী কোন কোন মৌসুমে কোন কোন ফসল পর্যায়ক্রমে চাষ করা হবে, তার পরিকল্পিত সময়সূচি বা তালিকাকে শস্য পঞ্জিকা বলে। শস্য পঞ্জিকা অনুসরণ করলে জমি খালি থাকে না, মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং কৃষকের সর্বোচ্চ ফলন ও মুনাফা অর্জন নিশ্চিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষি কর্মকর্তা স্বপনকে গভীর ও অগভীরমূলী ফসল পর্যায়ক্রমে চাষ করার পরামর্শ দিয়েছেন মাটির উর্বরতা রক্ষা এবং পুষ্টি উপাদানের সুষম ব্যবহারের জন্য। একই জমিতে বারবার একই ধরনের মূলবিশিষ্ট ফসল চাষ করলে মাটির নির্দিষ্ট স্তর থেকে পুষ্টি উপাদান নিঃশেষিত হয়ে যায়। কিন্তু গভীরমূলী ফসলের পর অগভীরমূলী ফসল চাষ করলে মাটির বিভিন্ন স্তর থেকে উদ্ভিদের পুষ্টি শোষিত হয়। গভীরমূলী ফসল মাটির গভীর থেকে পুষ্টি ও পানি গ্রহণ করে এবং মাটির নিচের স্তর নরম করে। অন্যদিকে অগভীরমূলী ফসল ওপরের স্তরের পুষ্টি ব্যবহার করে। এতে মাটির উর্বরতা সংরক্ষিত থাকে এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বপনের জমিতে আগের মতো ফসল না হওয়ার প্রধান কারণ হলো দীর্ঘদিন ধরে একই জমিতে বারবার কেবল ধান ও পাটের একঘেয়েমি চাষ (Monocropping) করা এবং শস্য পর্যায় বা জমিকে বিশ্রাম না দেওয়া। স্বপন দীর্ঘদিন যাবৎ শস্য পর্যায়ক্রম অনুসরণ না করে একই জমিতে একটানা ধান ও পাট চাষ করেছেন। এর ফলে মাটিতে নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টি উপাদানের চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া একটানা একই ফসল চাষের কারণে জমিতে ধান ও পাটের ক্ষতিকর পোকা-মাকড় ও রোগজীবাণুর প্রাদুর্ভাব ও বিস্তার স্থায়ী রূপ নিয়েছে। মাটির গঠন নষ্ট হওয়া এবং জমিকে বিশ্রাম বা শস্য পর্যায় অবলম্বন না করায় স্বপনের জমিতে ফসলের ফলন ক্রমাগত কমে গিয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও