অর্থনীতি ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মৎস্যজীবী কায়েস। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তিনি মৎস্য চাষ করেন। বিল ইজারা নেন। এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে নদীতে ও হাওরে প্রচুর মাছ শিকার করেন। সব মাছ বাজারজাত করা সম্ভব হয় না। ফলে অবিক্রিত প্রচুর মাছ শুটকি করে রাখেন। কারণ তিনি জানেন বিদেশে শুঁটকি মাছের প্রচুর চাহিদা এবং দামও ভালো। তাই কায়েস মজুতকৃত শুঁটকি বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেন।
- ক)(1)
বৈদেশিক সাহায্য কী?
- খ)(2)
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব কায়েসের উৎপাদিত শুঁটকি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সাহায্য করে- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশ থেকে এরূপ আর কী ধরনের পণ্য রপ্তানি করা যায়? আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এক দেশ অপর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জরুরি প্রয়োজন মেটানোর জন্য সহজ শর্তে বা শর্তহীনভাবে যে অনুদান, ঋণ বা কারিগরি সহায়তা প্রদান করে, তাকে বৈদেশিক সাহায্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রাকৃতিক সম্পদের অসম বণ্টন, ভৌগোলিক অবস্থানের ভিন্নতা, উৎপাদন ব্যয়ের পার্থক্য এবং জলবায়ুর তারতম্যের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংঘটিত হয়। পৃথিবীর কোনো দেশই তার চাহিদামাফিক সব দ্রব্য স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে উৎপাদন করতে পারে না। তাই তুলনামূলক সুবিধা তত্ত্ব অনুযায়ী যে দেশ যে দ্রব্য উৎপাদনে অধিক দক্ষ ও কম ব্যয়বহুল, সে দেশ সেই দ্রব্য উৎপাদন ও রপ্তানি করে এবং অন্য দেশ থেকে নিজের দেশে বেশি ব্যয়বহুল দ্রব্য আমদানি করে বাণিজ্য গড়ে তোলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব কায়েসের উৎপাদিত শুঁটকি আন্তর্জাতিক বাজারে একটি অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য হিসেবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব কায়েস বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ ও আহরণ করার পর অবিক্রিত অতিরিক্ত মাছ নষ্ট না করে আধুনিক উপায়ে শুঁটকি তৈরি ও মজুত করেন। বিদেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও স্থানীয়দের মাঝে দেশীয় শুঁটকির ব্যাপক চাহিদা ও ভালো বাজারমূল্য রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ উদ্বৃত্ত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করলে আন্তর্জাতিক মুদ্রার সংস্থান হয়। কায়েস তাঁর মজুতকৃত শুঁটকি আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন, যা জাতীয় রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব কায়েসের রপ্তানিকৃত শুঁটকির মতো বাংলাদেশ থেকে আরও নানা ধরনের কৃষিজাত, অপ্রচলিত ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা যায়।
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে প্রচলিত পণ্যের পাশাপাশি অপ্রচলিত খাতের বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যেমন:
১. হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য অপ্রচলিত মৎস্যজাত পণ্য: বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় ও সামুদ্রিক মাছ হিমায়িত করে প্রক্রিয়াজাত অবস্থায় বিদেশে রপ্তানি করা যায়।
২. প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য: শাকসবজি, ফলমূল, আচার, চাটনি, মশলা, সুগন্ধি চাল এবং প্যাকেটজাত শুকনো খাবার (স্ন্যাকস) ইত্যাদি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে রপ্তানি সম্ভব।
৩. হস্তশিল্প ও পাটজাত পণ্য: কারুপণ্য, নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, পাটের তৈরি নান্দনিক ব্যাগ ও পরিবেশবান্ধব তৈজসপত্র বিশ্ববাজারে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
৪. চামড়াজাত ও অন্যান্য পণ্য: জুতা, জ্যাকেট, ট্রাভেল ব্যাগ ইত্যাদি চামড়াজাত দ্রব্য রপ্তানিযোগ্য।সুতরাং, শুঁটকির মতো এসব কৃষিজ ও শ্রমঘন অপ্রচলিত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সরকারি নীতিগত সহায়তা বাড়ালে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও