ভূগোল ১ম পত্র • বারিমণ্ডল • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬

ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    মহীসোপান কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সমুদ্র সমভূমি কীভাবে গঠিত হয়? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' ভূমিরূপের বর্ণনা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' ও 'গ' ভূমিরূপের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পৃথিবীর উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রের তলদেশের মৃদু ঢালু নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান (Continental Shelf) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহীঢালের শেষ সীমা থেকে সমুদ্রের তলদেশে এক বিস্তৃত সমতল বা মৃদু তরঙ্গায়িত ভূমিরূপ দেখা যায়, একে গভীর সমুদ্রের সমভূমি বলে। এটি প্রধানত আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত লাভা, সূক্ষ্ম ছাই এবং স্থলভাগ থেকে নদ-নদী ও বায়ুপ্রবাহ দ্বারা বাহিত পলি ও জৈব অবশেষ (যেমন—উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহাবশেষ) সমুদ্রের তলদেশে স্তরে স্তরে দীর্ঘকাল সঞ্চিত হয়ে সমতল ভূমিরূপ বা সমুদ্র সমভূমি সৃষ্টি করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' ভূমিরূপটি হলো মহীসোপান (Continental Shelf), কারণ এতে উল্লেখ রয়েছে যে এটি ১° কোণে সমুদ্রে নেমে গেছে।

    উপকূলের চতুর্দিকে সমুদ্রের তলদেশের স্থলভাগের মৃদু ঢালু অংশ মহীসোপান নামে পরিচিত। এর বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. ঢাল ও বিস্তৃতি: মহীসোপানের ঢাল সাধারণত ১° বা তারও কম কোণে সমুদ্রের দিকে নেমে যায়। এর গড় বিস্তার প্রায় ৭০ কিলোমিটার হলেও কোনো কোনো অঞ্চলে তা শত শত কিলোমিটার প্রশস্ত হতে পারে।
    ২. গভীরতা: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মহীসোপানের শেষ প্রান্তের সর্বোচ্চ গভীরতা সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
    ৩. পলল সঞ্চয়: স্থলভাগ থেকে নদী ও অন্যান্য প্রাকৃতিক শক্তির মাধ্যমে বাহিত বালুকা, কাঁকর ও কাদা এখানে সঞ্চিত হয়।
    ৪. অর্থনৈতিক গুরুত্ব: অগভীর হওয়ায় এখানে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পৌঁছায়, যার ফলে প্রচুর ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন জন্মায়। ফলে এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ মৎস্য শিকার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে ওঠে। এছাড়া মহীসোপানে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বিপুল ভাণ্ডার থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' ভূমিরূপটি হলো 'মহীঢাল' (Continental Slope) এবং 'গ' ভূমিরূপটি হলো 'গভীর সমুদ্র খাত' (Ocean Deep/Trench)। নিচে এ দুটি ভূমিরূপের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সংজ্ঞা ও অবস্থান: মহীসোপানের শেষ সীমানা থেকে গভীর সমুদ্রের সমভূমি পর্যন্ত খাড়া ঢালবিশিষ্ট অংশকে মহীঢাল বলে। অন্যদিকে, গভীর সমুদ্র সমভূমির মাঝে দীর্ঘ, সরু ও অত্যন্ত খাড়া ঢালবিশিষ্ট গর্ত বা খাদগুলোকে সমুদ্র খাত বলে।

    ২. ঢাল ও গভীরতা: মহীঢালের ঢাল সাধারণত ২° থেকে ৫° পর্যন্ত খাড়া হয় এবং এর গভীরতা ২০০ মিটার থেকে শুরু হয়ে প্রায় ৩,০০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। পক্ষান্তরে, সমুদ্র খাতের গভীরতা ৫,৪০০ মিটারেরও বেশি হয়ে থাকে। যেমন—উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশ্বের গভীরতম মারিয়ানা খাতের গভীরতা প্রায় ১১,০৩৩ মিটার।

    ৩. উৎপত্তিগত পার্থক্য: মহীঢাল প্রধানত ভূ-আলোড়ন, চ্যুতি এবং সমুদ্রতলের নিমজ্জনের ফলে তৈরি হয়। অপরদিকে, প্রধানত দুটি টেকটোনিক পাতের সংঘর্ষ ও সাবডাকশনের ফলে পাতের প্রান্তসীমায় গভীর সমুদ্র খাতের সৃষ্টি হয়।

    ৪. পলির সঞ্চয়: মহীঢালের ঢাল অত্যন্ত খাড়া হওয়ায় এখানে সহজে কোনো পলি জমতে পারে না। কিন্তু গভীর সমুদ্র খাতের তলদেশে সূক্ষ্ম কাদা ও বিভিন্ন সামুদ্রিক অবক্ষেপ দেখা যায়।

    সুতরাং, অবস্থান, গভীরতা, ঢালের তীব্রতা এবং ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে 'খ' (মহীঢাল) এবং 'গ' (সমুদ্র খাত) পরস্পরের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ভূমিরূপ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন