ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৫

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন

ভুটানের 'কিংস কাপ' ফুটবল ফাইনাল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের রক্ষণভাগের সাহসী খেলোয়াড় ইয়াছিন তার চমৎকার ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে ভারতের শক্তিশালী পুনে ক্লাবের বিরুদ্ধে জয় এনে দেন। ইয়াছিন ডিফেন্স থেকে প্রতিপক্ষের দুর্বলতাগুলো লক্ষ করেন এবং সুযোগ বুঝে মধ্যমাঠ দিয়ে না গিয়ে বরং সাইড লাইন ঘেঁষে ক্ষিপ্র গতিতে গিয়ে গোলপোস্ট ছেড়ে দূরে দাঁড়ানো বিপক্ষে গোল কিপারকে বোকা বানিয়ে বলটিকে অতর্কিতে প্রতিপক্ষের জালে পাঠিয়ে দেন। বাকি সময়ে প্রতিপক্ষ সে গোল আর শোধ করতে পারেনি। অথচ জয়ের নায়ক ইয়াছিন ইতোপূর্বে জাতীয় দলসহ বিভিন্ন ক্লাবে নিজের নাম অন্তর্ভুক্তির প্রাণপণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিলেন।

  1. ক)

    ভারতে স্বাধীন মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কে?

    (1)
  2. খ)

    কুতুবউদ্দিন আইবেক প্রতিষ্ঠিত বংশকে দাসবংশ বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ইয়াছিনের খেলোয়াড় হিসেবে ক্লাবে নাম অন্তর্ভুক্তির প্রচেষ্টার সাথে বখতিয়ার খলজির প্রথম জীবনের ইতিহাসের কী মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের কিংস কাপ জয়ের কৌশল ও বখতিয়ার খলজির বঙ্গ বিজয়ের কৌশল প্রায় একই-উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভারতে স্বাধীন মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন কুতুবউদ্দিন আইবেক (১২০৬ খ্রিস্টাব্দে)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কুতুবউদ্দিন আইবেক প্রতিষ্ঠিত বংশকে দাসবংশ বলা হয় কারণ এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবউদ্দিন আইবেকসহ পরবর্তী কয়েকজন প্রভাবশালী শাসক (যেমন ইলতুৎমিশ ও গিয়াসউদ্দিন বলবন) তাঁদের জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে ক্রীতদাস ছিলেন। দাস হিসেবে বিক্রি হলেও নিজেদের মেধা, বীরত্ব ও যোগ্যতাবলে তাঁরা উচ্চ রাজপদে আসীন হন এবং শেষ পর্যন্ত দিল্লির সিংহাসন অধিকার করেন। তাঁদের এই দাসত্বের অতীত ইতিহাসের কারণে ঐতিহাসিকগণ সামগ্রিকভাবে এই সালতানাতকে দাসবংশ বা মামলুক বংশ হিসেবে অভিহিত করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইয়াছিনের খেলোয়াড় হিসেবে বিভিন্ন ক্লাবে নাম অন্তর্ভুক্তির ব্যর্থ চেষ্টা ও সংগ্রামের সাথে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজির প্রথম জীবনের ব্যর্থতা ও সামরিক চাকরির চেষ্টার মিল রয়েছে।

    বখতিয়ার খলজি ছিলেন খর্বাকৃতির, লম্বা হাতবিশিষ্ট ও কিছুটা কুদর্শন চেহারার মানুষ। এই শারীরিক ত্রুটি ও বৈচিত্র্যের কারণে তিনি প্রথম জীবনে গজনি ও পরে দিল্লির শাসক কুতুবউদ্দিন আইবেকের দরবারে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত ও ব্যর্থ হন। কিন্তু তিনি হতাশ না হয়ে নিজের লক্ষ্যপূরণে অবিচল থাকেন এবং পরবর্তীতে বদায়ুনের শাসক মালিক হিজবরউদ্দিনের অধীনে সামান্য বেতনে চাকরি পান এবং ক্রমে নিজের শক্তিবৃদ্ধি করেন। উদ্দীপকের ইয়াছিন যেমন জাতীয় দল ও বিভিন্ন ক্লাবে সুযোগ না পেয়েও আশা ছাড়েননি, তেমনি বখতিয়ার খলজিও শুরুতে বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েও মনোবল হারাননি।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের কিংস কাপ জয়ের কৌশল এবং বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের সামরিক কৌশল প্রায় একই- উক্তিটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ফুটবলার ইয়াছিন প্রতিপক্ষের শক্তিশালী মূল মধ্যমাঠ এড়িয়ে কৌশলে সাইড লাইন ঘেঁষে দ্রুতগতিতে অতর্কিত আক্রমণ চালান এবং গোলপোস্ট ফাঁকা পেয়ে গোল করেন। এই কৌশলটি মূল শক্তির মুখোমুখি সংঘাত এড়িয়ে চমকপ্রদ ও আকস্মিক আক্রমণ পরিচালনার উদাহরণ।

    ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে (বা ১২০৫) ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি যখন বাংলা (নদিয়া) আক্রমণ করেন, তখন তিনি প্রচলিত ও সুরক্ষিত তেলিয়াগড় গিরিপথ দিয়ে না গিয়ে দুর্গম ও পাহাড়ি পথ ব্যবহার করেন। এর ফলে লক্ষণ সেনের সেনারা তাঁর গতিবিধি বুঝতে পারেনি। তিনি মূল সেনাবাহিনীকে পেছনে রেখে মাত্র ১৮ জন অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে ঘোড়া বিক্রেতার ছদ্মবেশে রাজা লক্ষণ সেনের রাজপ্রাসাদে অতর্কিত প্রবেশ করেন। এই আকস্মিক ও অভাবনীয় আক্রমণে অপ্রস্তুত হয়ে রাজা লক্ষণ সেন নদীপথে পালিয়ে যান এবং বখতিয়ার খলজি সহজেই নদিয়া জয় করেন। অতএব, সরাসরি শক্তি প্রদর্শনের চেয়ে অপ্রত্যাশিত পথ বেছে নিয়ে অতর্কিত অভিযানের মাধ্যমে জয় ছিনিয়ে আনার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের কৌশল ও বখতিয়ার খলজির রণকৌশল সাদৃশ্যপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন