অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৯

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব রশিদ রসুলপুর গ্রামের কৃষক। তার এলাকাটি সমতল। গ্রামটির একদিকে হাওর আর অন্যদিকে নদী। নদী দিয়ে নৌকা চলে। পাশেই জেলেপল্লি। নদীর চর, হাওর আর সমতল মাঠে গরু, মহিষ ও ছাগল চরে বেড়ায়। বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় তিনি ধান চাষে সেচ্ সুবিধা পেয়ে থাকেন। শীতকালে আবার রবি শস্যও ফলানো সম্ভব হয়। এই এলাকায় পাট, বাঁশ, বেত ইত্যাদিও প্রচুর জন্মে। বনভূমির কথা বাদ দিলে রসুলপুর গ্রাম যেন বাংলাদেশের আসল চেহারা।

  1. ক)

    প্রাচীন বাংলার রপ্তানি পণ্যসমূহ কী কী ?

    (1)
  2. খ)

    ‘আগামী দিনে পাটই হতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভবনাময় খাত।’ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানসমূহ উদ্দীপকের আলোকে চিহ্নিত করো।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রাকৃতিক পরিবেশের উল্লিখিত উপাদানসমূহ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কীভাবে প্রভাবিত করেছে ? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাচীন বাংলার প্রধান রপ্তানি পণ্যসমূহ ছিল সূতি ও রেশমি বস্ত্র (বিশেষত মসলিন), চাল, চিনি, পাট ও পাটজাত পণ্য, গুড়, সরিষার তেল, মসলা এবং তেজপাতা ইত্যাদি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম পলিথিন ও প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে পরিবেশবান্ধব ও পচনশীল পণ্যের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাটের জিনোম আবিষ্কারের ফলে বহুবিধ বহুমুখী পাটপণ্য (যেমন—ব্যাগ, কাপড়, জুতা, কাগজ ও বায়োপ্লাস্টিক) তৈরি সম্ভব হচ্ছে। পরিবেশ সচেতনতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পাটপণ্যের এই বিপুল চাহিদাই আগামী দিনে পাট খাতকে বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গড়ে তুলবে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের যে উপাদানসমূহ চিহ্নিত করা যায় তা নিম্নরূপ:
    ১. ভূ-প্রকৃতি: রসুলপুর গ্রামের সমতল এলাকা এবং নদীর চরাঞ্চল বাংলাদেশের সমতল ও পললগঠিত ভূ-প্রকৃতিকে নির্দেশ করে।
    ২. নদ-নদী ও জলাশয়: উদ্দীপকে বর্ণিত নদী ও হাওর বাংলাদেশের নদ-নদী, হাওর ও জলজ পরিবেশের প্রতিচ্ছবি।
    ৩. জলবায়ু ও বৃষ্টিপাত: বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত এবং শীতকালে রবি শস্য ফলন বাংলাদেশের আর্দ্র ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু ও ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যকে প্রকাশ করে।
    ৪. মাটি ও উদ্ভিদ/কৃষি বৈচিত্র্য: ধান, পাট, বাঁশ, বেত ইত্যাদির ফলন নির্দেশ করে যে এ অঞ্চলের মাটি অত্যন্ত উর্বর পলিমাটি।
    ৫. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ: জেলেপল্লি ও নদীতে মাছ ধরা এবং চর ও মাঠে গরু, মহিষ, ছাগল চরে বেড়ানো যথাক্রমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপাদানের প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রাকৃতিক পরিবেশের উল্লিখিত উপাদানসমূহ (নদ-নদী, উর্বর সমতল ভূমি, মৌসুমী বৃষ্টিপাত এবং অনুকূল জলবায়ু) বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গভীর ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে:

    ১. কৃষিতে প্রভাব: অনুকূল মৌসুমী বৃষ্টিপাত এবং উর্বর পলিমাটির কারণে দেশে ধান, পাট এবং শীতকালীন রবি শস্যের বিপুল উৎপাদন হয়, যা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। উদ্দীপকে রশিদ সাহেবের সেচ সুবিধা ও ফসল উৎপাদন এই প্রভাবেরই ফল।
    ২. মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত: নদী ও হাওরের কারণে উন্মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য চাষ ও জেলে সম্প্রদায়ের জীবিকা নির্বাহ হয় (উদ্দীপকের জেলেপল্লি)। চর ও মাঠের চারণভূমি প্রাণিসম্পদ (গরু, মহিষ, ছাগল) লালন-পালনের মাধ্যমে দুধ, মাংস ও চামড়া শিল্পের ভিত্তি গড়ে তোলে।
    ৩. যোগাযোগ ও বাণিজ্য: নদীপথ সুলভে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি করে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে গতি আনে।
    ৪. গ্রামীণ কুটির ও হস্তশিল্প: বাঁশ ও বেত প্রভৃতি প্রাকৃতিক সম্পদ গ্রামীণ কুটির শিল্পে কাঁচামাল জুগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে।

    সুতরাং, উদ্দীপকে প্রতিফলিত প্রাকৃতিক উপাদানসমূহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে খাদ্য উৎপাদন, কর্মসংস্থান, কাঁচামালের জোগান এবং গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণশক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন