পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' একজন অবিসংবাদিত নেতা । তিনি ছিলেন প্রতিবাদী ও আপসহীন। দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন ও মহান নেতার অবদান অবিস্মরণীয়। তার নির্দেশে আপামর জননেতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
- ক)(1)
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রবক্তা কে?
- খ)(2)
অপারেশন সার্চলাইট বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত নেতার সাথে তোমার পঠিত কোন নেতার সামঞ্জস্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত মহান নেতা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা একই সূত্রে গাঁথা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রবক্তা হলেন হাজী শরীয়তুল্লাহ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ সমগ্র বাংলাদেশে নিরস্ত্র ও নিরীহ বাঙালিদের ওপর যে বর্বরোচিত ও পরিকল্পিত সামরিক গণহত্যা পরিচালনা করে, তার সামরিক সাংকেতিক নাম ছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'। বাঙালি জাতির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার দাবিকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই নারকীয় অভিযান চালানো হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' নেতার সাথে আমার পঠিত স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাদৃশ্য বা সামঞ্জস্য রয়েছে।\n\nউদ্দীপকে বলা হয়েছে, 'ক' ছিলেন একজন অবিসংবাদিত, প্রতিবাদী ও আপসহীন নেতা, যাঁর নির্দেশে এ দেশের আপামর জনসাধারণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।\n\nবাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন প্রতিবাদী ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। ১৯৪৮-৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবি, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে অনন্য নেতৃত্ব দিয়ে তিনি সমগ্র বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন এবং তাঁর নির্দেশেই এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে একটি স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন করে। তাই উদ্দীপকের 'ক' নেতা স্পষ্টভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্ত মহান নেতা অর্থাৎ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা বাস্তবিক অর্থেই একে অপরের পরিপূরক ও একই সূত্রে গাঁথা—উক্তিটি যথার্থ ও অনস্বীকার্য।\n\n১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই বাঙালি জাতি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে শোষিত ও বঞ্চিত হয়ে আসছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুরু থেকেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর এই বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক 'ছয় দফা' ঘোষণা করেন, যা বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের মূল ভিত্তিস্বরূপ কাজ করে।\n\n১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে তিনি ঘোষণা করেন, "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।" ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে তিনি ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তাঁর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার আপামর জনতা দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে চূড়ান্ত বিজয় ছিনিয়ে আনে।\n\nঅতএব, বঙ্গবন্ধুর আজীবন ত্যাগ, দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং আপসহীন দিকনির্দেশনা ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হতো না। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায়, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা অবিচ্ছেদ্য এবং একই সূত্রে গাঁথা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও