জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
A ও B দুই ধরনের কোষ বিভাজন। এদের মধ্যে A জীবের দেহকোষে ঘটলেও B জননমাতৃকোষে ঘটে।
- ক)(1)
মাইটোটিক ইনডেক্স কী?
- খ)(2)
হ্রাসমূলক বিভাজন বলতে কী বুঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের B বিভাজনের যে উপ-পর্যায়ে জিন বিনিময় ঘটে তার চিত্রসহ বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের A এবং B কোষ বিভাজন পদ্ধতি দুটির মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান— উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো একটি টিস্যুর মোট বিভাজনরত কোষের সংখ্যা এবং মোট কোষের সংখ্যার অনুপাতকে মাইটোটিক ইনডেক্স বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মিয়োসিস-১ বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়। কারণ এ প্রক্রিয়ায় একটি ডিপ্লয়েড (2n) মাতৃকোষ বিভক্ত হয়ে যে অপত্য কোষ সৃষ্টি করে, তাতে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক (n) হয়ে যায়। ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পায় বলেই একে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের B বিভাজনটি হলো মিয়োসিস বিভাজন। মিয়োসিস-১ এর প্রফেজ-১-এর প্যাকাইটিন (Pachytene) উপ-পর্যায়ে ক্রসিং ওভারের মাধ্যমে জিন বিনিময় ঘটে।
প্যাকাইটিন উপ-পর্যায়ের বিবরণ:
১. বাইভ্যালেন্টের প্রতিটি ক্রোমোজোম সেন্ট্রোমিয়ার ব্যতীত অনুদৈর্ঘ্যে বিভক্ত হয়ে দুটি করে ক্রোমাটিড গঠন করে। এর ফলে প্রতিটি বাইভ্যালেন্টে চারটি করে ক্রোমাটিড দেখা যায়, একে টেট্রাড (Tetrad) বলে।
২. একই ক্রোমোজোমের দুটি ক্রোমাটিডকে সিস্টার ক্রোমাটিড এবং দুটি ভিন্ন ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিডকে নন-সিস্টার ক্রোমাটিড বলে।
৩. এই পর্যায়ে দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে এক বা একাধিক স্থানে 'X' আকৃতির জোড় সৃষ্টি হয়, যাকে কায়াজমা (Chiasma) বলে।
৪. এন্ডোনিউক্লিয়েজ এনজাইমের প্রভাবে কায়াজমা অংশে নন-সিস্টার ক্রোমাটিড ভেঙে যায় এবং লাইগেজ এনজাইমের সাহায্যে পরস্পরের খণ্ডাংশ জোড়া লাগে, যাকে ক্রসিং ওভার বলে। এর মাধ্যমে জিন বা অ্যালিলের বিনিময় ঘটে।(চিত্রের বিবরণ: একটি বাইভ্যালেন্ট বা টেট্রাড গঠন, কায়াজমা সৃষ্টি এবং দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে খণ্ডাংশ বিনিময়ের চিহ্নিত চিত্র প্যাকাইটিন উপ-পর্যায়ের দৃশ্য উপস্থাপন করে)।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের A বিভাজনটি মাইটোসিস (যা দেহকোষে ঘটে) এবং B বিভাজনটি মিয়োসিস (যা জননমাতৃকোষে ঘটে)। এই দুটি কোষ বিভাজন পদ্ধতির মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. সংঘটন স্থান: মাইটোসিস প্রধানত জীবের দৈহিক কোষে বা বর্ধনশীল অঞ্চলে ঘটে। পক্ষান্তরে, মিয়োসিস প্রধানত জননমাতৃকোষে ঘটে (এবং গ্যামেট বা স্পোর তৈরিতে অংশ নেয়)।
২. বিভাজনের প্রকৃতি: মাইটোসিসে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোম একবার বিভাজিত হয়। কিন্তু মিয়োসিসে নিউক্লিয়াস দু'বার এবং ক্রোমোজোম মাত্র একবার বিভাজিত হয়।
৩. অপত্য কোষের সংখ্যা: মাইটোসিসে একটি মাতৃকোষ থেকে ২টি সমান অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়। মিয়োসিসে একটি মাতৃকোষ থেকে ৪টি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়।
৪. ক্রোমোজোম সংখ্যা: মাইটোসিসে সৃষ্ট অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার সমান থাকে (সমীকরণিক বিভাজন)। অন্যদিকে, মিয়োসিসে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোমের অর্ধেক হয়ে যায় (হ্রাসমূলক বিভাজন)।
৫. জিনগত বৈচিত্র্য: মাইটোসিসে ক্রসিং ওভার ঘটে না, ফলে অপত্য কোষ হুবহু মাতৃকোষের সমগুণসম্পন্ন হয় এবং কোনো জিনগত পরিবর্তন ঘটে না। কিন্তু মিয়োসিসে ক্রসিং ওভার ঘটার ফলে ক্রোমোজোমে জিনের বিনিময় ঘটে এবং জীবে নতুন বৈশিষ্ট্যের বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়।
৬. ভূমিকা: মাইটোসিস জীবের দৈহিক বৃদ্ধি, ক্ষতপূরণ ও অযৌন প্রজননে ভূমিকা রাখে। আর মিয়োসিস প্রজাতিতে ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রাখা ও বৈচিত্র্য সৃষ্টির মাধ্যমে যৌন প্রজনন সম্ভব করে।অতএব, প্রক্রিয়া ও ফলাফলের দিক থেকে A (মাইটোসিস) এবং B (মিয়োসিস)-এর মধ্যে যথেষ্ট মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও