সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
ধন্যাঢ্য পরিবারের মেয়ে অতসী দেবনাথ। মহা ধুমধামের সাথে তার বিয়ে হল আর এক ধনাঢ্য পরিবারের ছেলে অভিজিৎ সাহার সাথে। কিন্তু বছর না ঘুরতেই অতসীর স্বামী মারা যাওয়ায় তাকে বাবার বাড়িতে ফিরে আসতে হল। বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় কিছুদিনের মধ্যে অতসী শোক কাটিয়ে উঠলো। মেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে মা-বাবা পুনরায় সৎ ও যোগ্য পাত্র ইন্দ্রজিৎ এর সাথে মেয়েকে বিয়ে দিলেন
- ক)(1)
ভারতীয় উপমহাদেশে নারী জাগরণের অগ্রদূত কাকে বলা হয়?
- খ)(2)
সমাজ সংস্কার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের অতসী দেবনাথের সাথে ইন্দ্রজিৎ এর বিয়ে হবার ঘটনা ভারত উপমহাদেশের যে সমাজ সংস্কারকের কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
অষ্টাদশ শতাব্দীতে অতসীর স্বামী মারা গেলে তার যে ভয়াবহ পরিণতি হতো পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভারতীয় উপমহাদেশে নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয় বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজ সংস্কার বলতে সমাজের প্রচলিত কুসংস্কার, ক্ষতিকর প্রথা, গোঁড়ামি ও অনগ্রসর চিন্তাধারা দূর করে সমাজে ইতিবাচক, প্রগতিশীল ও গঠনমূলক পরিবর্তন আনয়ন করাকে বোঝায়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে সমাজের বিদ্যমান রীতিনীতি ও আইনি কাঠামোর সংস্কারের মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ ও সমাজের সার্বিক অগ্রগতি সাধন করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অতসী দেবনাথের স্বামী মারা যাওয়ার পর পুনরায় বিয়ে হওয়ার ঘটনাটি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বিধবাবিবাহ প্রবর্তন আন্দোলনের কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উনিশ শতকে তৎকালীন হিন্দু সমাজের রক্ষণশীল অনুশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে হিন্দু সমাজে বাল্যবিবাহের ব্যাপক প্রচলন ছিল এবং স্বামীর মৃত্যুর পর অল্পবয়সী বিধবাদের সারাজীবন অবর্ণনীয় কষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করতে হতো। বিদ্যাসাগর শাস্ত্রীয় প্রমাণ ঘেঁটে দেখান যে বিধবাবিবাহ শাস্ত্রসম্মত এবং তিনি তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে ১৮৫৬ সালে লর্ড ডালহৌসির আমলে 'হিন্দু বিধবাবিবাহ আইন (আইন ১৫)' পাস করান। শুধু আইন পাসেই ক্ষান্ত হননি, তিনি নিজ পুত্রের সাথে এক বিধবার বিয়ে দিয়ে বাস্তব উদাহরণ তৈরি করেছিলেন।
উদ্দীপকের অতসী অল্প বয়সে স্বামীহারা হলে তার মা-বাবা তার ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে ইন্দ্রজিৎ এর সাথে পুনরায় বিবাহ দেন, যা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বিধবাবিবাহ আন্দোলনের আদর্শ ও সমাজ সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডেরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অষ্টাদশ শতাব্দীতে অতসীর স্বামী মারা গেলে তাকে তৎকালীন হিন্দু সমাজের অমানবিক ও নৃশংস 'সতীদাহ প্রথা'র শিকার হতে হতো।
সতীদাহ প্রথা ছিল তৎকালীন হিন্দু সমাজের অন্যতম নিষ্ঠুর ও বর্বর এক সামাজিক কুপ্রথা। এই প্রথানুযায়ী, স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিত বিধবা স্ত্রীকে মৃত স্বামীর চিতায় সহমরণে যেতে বাধ্য করা হতো। অনেক সময় ঢাক-ঢোলের শব্দে বিধবার আর্তনাদ ধামাচাপা দেওয়া হতো এবং বাঁশ দিয়ে চিতায় চেপে রাখা হতো যাতে আগুনে পুড়ে মৃত্যুর হাত থেকে তিনি পালাতে না পারেন। যারা সতীদাহ এড়াতে পারত, তাদেরও পরিবার ও সমাজে চিরতরে নিগৃহীত ও অবহেলিত অবস্থায় কঠোর ব্রহ্মচর্য পালন করে তিল তিল করে মানবেতর জীবন কাটাতে হতো।
উদ্দীপকের অতসী দেবনাথ অষ্টাদশ শতাব্দীতে জন্মগ্রহণ করলে স্বামী অভিজিৎ সাহার মৃত্যুর পর তাকে জীবন্ত অবস্থায় স্বামীর চিতার আগুনে পুড়ে আত্মাহুতি দিতে হতো। ফলে পুনরায় বিবাহের কোনো সুযোগই থাকত না, বরং ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের কারণে তার জীবন চরম নির্মম পরিণতিতে শেষ হতো। পরবর্তীতে রাজা রামমোহন রায়ের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৮২৯ সালে আইন করে এই বর্বর প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও