সাহিত্য পাঠ • জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতিতে সাহিত্য, গান ও স্লোগান • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
সুখ-সমৃদ্ধিতে ঐশ্বর্যময় এবং প্রাণৈশ্বর্যে ভরপুর এই সুন্দর দেশটি বর্গির আক্রমণ থেকে শুরু করে বারবার শত্রুর লোলুপদৃষ্টিতে পড়েছে। বিপর্যস্ত হয়েছে এ দেশের সহজ-সরল মানুষের জনজীবন, অর্থনৈতিক বুনিয়াদ এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। কিন্তু কোনো শত্রুর কাছে পরাভব মানেনি এ দেশের মানুষ। তাই তো যুগে যুগে আমরা দেখি নূরলদীন-তিতুমীর-হাজী শরীয়তউল্লাহ-সূর্যসেন-প্রীতিলতা-সালাম-রফিকের বিস্ময়কর শক্তি-সাহস এবং শৌর্যবীর্য। অতি সম্প্রতি ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবেও আমরা দেখি আবু সাঈদদের অদম্য সাহসিকতা ও বীরত্বগাঁথা।
- ক)(1)
"উনোনের আগুনে আলোকিত" কীসের কথা বলা হয়েছে?
- খ)(2)
'বিচলিত স্নেহ' কথাটি দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যক্তিগণ ও 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার পূর্বপুরুষগণ কীভাবে মানবমুক্তির জন্য কাজ করেছেন? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মূলভাব ধারণ করতে পেরেছে কি? তোমার অভিমত ব্যক্ত করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় উনোনের আগুনে আলোকিত 'একটি উজ্জ্বল জানালার' কথা বলা হয়েছে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'বিচলিত স্নেহ' কথাটি দ্বারা সন্তানের প্রতি মায়ের গভীর উৎকণ্ঠা ও ব্যাকুল ভালোবাসাকে বোঝানো হয়েছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবির পূর্বপুরুষ যুদ্ধ ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে রত ছিলেন। সন্তানের সেই কঠিন পথচলা এবং বিপদসংকুল পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে মা সর্বদা শঙ্কিত ও উদ্বেলিত থাকতেন। মায়ের এই মমতাময়ী উদ্বেগ ও স্নেহময় ব্যাকুলতাকেই কবি 'বিচলিত স্নেহ' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ব্যক্তিবর্গ এবং 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার পূর্বপুরুষগণ উভয়েই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে মানবমুক্তির জন্য কাজ করেছেন।
কবিতায় কবির পূর্বপুরুষরা ছিলেন শ্রমজীবী, মুক্তিকামী ও নির্ভীক মানুষ। তাঁরা জমি কর্ষণ করে অন্ন জুগিয়েছেন, পিঠে রক্তজবা-সদৃশ চাবুকের ক্ষত বহন করেছেন এবং অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার স্বপ্ন দেখেছেন। তাঁদের এই অবিরাম আত্মত্যাগ ও লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য ছিল শোষণমুক্ত সমাজ ও মানুষের সার্বিক মুক্তি।
অন্যদিকে উদ্দীপকে দেখা যায়, তিতুমীর, সূর্যসেন, নূরলদীন থেকে শুরু করে জুলাই বিপ্লবের আবু সাঈদের মতো বীরেরা দেশের মানুষের অধিকার রক্ষা ও মুক্তির জন্য নিজ জীবনের মায়া ত্যাগ করে লড়াই করেছেন। কবিতার পূর্বপুরুষদের মতো উদ্দীপকের এই সংগ্রামী মানুষেরাও আত্মদান ও প্রতিরোধের মাধ্যমে শোষিত-নিপীড়িত মানুষের মুক্তির পথ প্রশস্ত করেছেন। সুতরাং, উভয় ক্ষেত্রেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমে মানবমুক্তির সাধনা পরিস্ফুট হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সংগ্রামী চেতনার দিকটিকে ধারণ করতে পারলেও সামগ্রিক মূলভাব সম্পূর্ণভাবে ধারণ করতে পারেনি।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কেবল প্রতিরোধ ও বীরত্বের ইতিহাসই তুলে ধরেননি; বরং আবহমান বাংলার ঐতিহ্য, পূর্বপুরুষদের শ্রম ও কৃষিনির্ভর জীবন, ভূমিদাসদের সংগ্রাম, ভালোবাসা, কবিতার শক্তি এবং শিল্পের মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে একত্রে বিন্যস্ত করেছেন। সেখানে কবিতা, গান, ভালোবাসা এবং শ্রমের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্তির দর্শন চিত্রিত হয়েছে।
উদ্দীপকে মূলত বাংলার মানুষের ওপর বহিরাগত ও অভ্যন্তরীণ শোষণ এবং তার বিপরীতে নূরলদীন, তিতুমীর, সালাম, রফিক ও আবু সাঈদের মতো বীরদের অদম্য সাহস ও রাজনৈতিক-সামাজিক প্রতিরোধের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এটি কবিতার প্রতিরোধ ও মুক্তির চেতনার সাথে হুবহু মিলে যায়। কিন্তু কবিতার শ্রমজীবী মানুষের কৌম জীবনের ইতিহাস, কৃষির মহিমা, নান্দনিকতা এবং কবিতার প্রতি আস্থা ও ভালোবাসার যে বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনা রয়েছে, তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।
অতএব, উদ্দীপকটি কবিতার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ—স্বাধীনতা ও প্রতিরোধের ঐতিহ্যকে উজ্জ্বলভাবে প্রকাশ করলেও কবিতার বহুমাত্রিক দার্শনিক ও নান্দনিক মূলভাবকে আংশিকভাবেই ধারণ করতে পেরেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও