ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ ঋণদান কার্যক্রম বৃদ্ধি করায় দেশের দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়, ফলে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংককে মুদ্রাস্ফীতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করার নির্দেশ দেয়। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নগদ জমার হার ৪% থেকে ৬% এ উপনীত করে। এতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণদান সামর্থ্য কমলেও তা আশানুরূপ না হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক পরবর্তীতে বাজারে কিছু বন্ড ও সিকিউরিটি বিক্রয় করে। এতে দেশের আর্থিক বাজার স্থিতিশীল হয়।
- ক)(1)
কলমানি রেট কী?
- খ)(2)
ঋণের সুদের হার জীবনযাত্রার মানের ওপর কী প্রভাব ফেলে? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণে প্রথমে কোন পদ্ধতি ব্যবহার করেছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে কর বাংলাদেশ ব্যাংকের পরবর্তী পদক্ষেপটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হয়েছে? যুক্তিসহ উত্তর দাও
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কলমানি রেট বা তলবি ঋণের সুদের হার হলো আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে এক ব্যাংক কর্তৃক অন্য ব্যাংক থেকে অতি স্বল্পমেয়াদের (সাধারণত একদিন বা রাতারাতি) জন্য গৃহীত ধারের ওপর ধার্যকৃত সুদের হার।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঋণের সুদের হার মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও বিনিয়োগকে প্রভাবিত করে সরাসরি জীবনযাত্রার মানের ওপর প্রভাব ফেলে।
ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পেলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী উভয়ের জন্যই ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। ফলে বাজারে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়, সামগ্রিক চাহিদা কমে এবং জনগণের ভোগব্যয় হ্রাস পায় যা জীবনযাত্রার মানকে নিম্নমুখী করতে পারে। তবে সুদের হার বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। বিপরীতে, সুদের হার হ্রাস পেলে সহজে ঋণ পাওয়ার ফলে উৎপাদন ও ভোগব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা স্বল্পমেয়াদে জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়ক হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণে প্রথমে পরিমাণগত পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত 'নগদ জমার হারের পরিবর্তন' (Cash Reserve Ratio বা CRR পরিবর্তন) পদ্ধতি ব্যবহার করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের মোট তলবি ও মেয়াদি আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বাধ্যতামূলকভাবে নগদ জমা রাখতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাবাজারে ঋণের পরিমাণ কমাতে চাইলে এই নগদ জমার হার বাড়িয়ে দেয়। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণযোগ্য তহবিলের পরিমাণ হ্রাস পায় এবং তারা বাজারে আগের মতো ঋণ দিতে পারে না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বাণিজ্যিক ব্যাংকের অতিরিক্ত ঋণদানের কারণে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নগদ জমার হার ৪% থেকে বাড়িয়ে ৬% নির্ধারণ করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য কমিয়ে তাদের ঋণদান ক্ষমতা হ্রাস করা। সুতরাং, কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথমে নগদ জমার হারের পরিবর্তন পদ্ধতিটি প্রয়োগ করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, আমি মনে করি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরবর্তী পদক্ষেপটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে পুরোপুরি সহায়ক হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম পরিমাণগত বা সাধারণ পদ্ধতি হলো 'খোলাবাজার কার্যক্রম' (Open Market Operations)। এ পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রাবাজারে ঋণ বা তারল্য নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও জনসাধারণের কাছে সরকারি সিকিউরিটিজ, বন্ড ও বিল ক্রয়-বিক্রয় করে। দেশে মুদ্রাস্ফীতি বা অতিরিক্ত তারল্য বিরাজ করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে এসব সিকিউরিটিজ বিক্রয় করে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও জনগণের উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চলে আসে এবং বাজারে মুদ্রার সরবরাহ হ্রাস পেয়ে বাজার স্থিতিশীল হয়।
উদ্দীপকে লক্ষ্য করা যায়, নগদ জমার হার বৃদ্ধি করার পরও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণদান সামর্থ্য আশানুরূপভাবে কমানো যায়নি এবং মুদ্রাস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বিতীয় পদক্ষেপ হিসেবে বাজারে বন্ড ও সিকিউরিটিজ বিক্রয় করে। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ বন্ড ক্রয়ে তাদের অলস অর্থ বা উদ্বৃত্ত তারল্য বিনিয়োগ করতে বাধ্য হয়, যার কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ সৃষ্টি করার ক্ষমতা কার্যকরভাবে সংকুচিত হয়ে যায়। বাজারে নগদ অর্থের সরবরাহ কমে আসায় সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায় এবং পণ্যমূল্য কমে আর্থিক বাজার স্থিতিশীল রূপ ধারণ করে।
অতএব, প্রথম পদক্ষেপটির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে খোলাবাজার কার্যক্রমের মাধ্যমে সরাসরি বাজার থেকে অতিরিক্ত তারল্য প্রত্যাহার করায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী পদক্ষেপটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সম্পূর্ণ সহায়ক ও সফল হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও