গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল বোর্ড ২০১৮

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    পথ্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    হৃদরোগ কেন কম ক্যালরিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করতে বলা হয়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানটি কোন রোগের নির্দেশ করে? এই রোগের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের লক্ষণগুলো তোমার বন্ধুর মধ্যে দেখা দিলে তার জন্য যে পথ্য পরিকল্পনা করবে তার স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রোগীর শারীরিক অবস্থা, রোগের ধরন ও পুষ্টি চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুতকৃত বিশেষ খাদ্য বা পথ্য-পরিকল্পনাকে পথ্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে মেদ বা চর্বি জমলে এবং ওজন বৃদ্ধি পেলে হৃদপিণ্ডের ওপর রক্ত সঞ্চালনের চাপ বৃদ্ধি পায়, যা রোগের জটিলতা আরও বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে তা শরীরে চর্বি হিসেবে জমা হয় এবং ধমনিতে কোলেস্টেরল জমিয়ে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। তাই রোগীর ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানোর জন্য হৃদরোগে কম ক্যালরিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করতে বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানটি 'জন্ডিস' (বা হেপাটাইটিস/যকৃতের রোগ) নির্দেশ করে।

    জন্ডিসের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, প্রস্রাবের গাঢ় হলুদ বা পরিবর্তন হওয়া রং, পেট ব্যথা এবং ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলদেটে হয়ে যাওয়া।

    জন্ডিসের কারণসমূহ:
    ১. হেপাটাইটিস ভাইরাসের সংক্রমণ: হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি ও ই ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে যকৃতে প্রদাহ সৃষ্টি হলে জন্ডিস হতে পারে। এর মধ্যে হেপাটাইটিস এ এবং ই সাধারণত দূষিত পানি ও খাদ্যের মাধ্যমে ছড়ায়।
    ২. রক্তে বিলিরুবিনের আধিক্য: লোহিত রক্তকণিকা অতিরিক্ত মাত্রায় ভেঙে গেলে অথবা যকৃৎ রক্ত থেকে বিলিরুবিন অপসারণ বা প্রক্রিয়াজাত করতে ব্যর্থ হলে রক্তে এর পরিমাণ বেড়ে যায়, যার ফলে ত্বক ও চোখ হলুদ বর্ণ ধারণ করে।
    ৩. পিত্তনালির বাধা: পিত্তনালিতে পাথর বা টিউমারের কারণে পিত্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে যকৃৎ থেকে বিলিরুবিন অন্ত্রে পৌঁছাতে পারে না এবং রক্তে মিশে জন্ডিস ঘটায়।
    ৪. অন্যান্য কারণ: অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবন, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা বিষাক্ত উপাদানের কারণে যকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জন্ডিস দেখা দিতে পারে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের লক্ষণগুলো (জ্বর, মূত্রের রং পরিবর্তন, পেট ব্যথা, হলদেটে ত্বক ও চোখ) নির্দেশ করে যে আমার বন্ধু জন্ডিসে আক্রান্ত। জন্ডিস রোগীর জন্য পথ্য পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সঠিক পুষ্টি যকৃতের কোষ পুনর্গঠন করতে সহায়তা করে এবং যকৃতের ওপর বাড়তি চাপ কমায়।

    বন্ধুর জন্য পথ্য পরিকল্পনার স্বরূপ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. উচ্চ শর্করাযুক্ত খাদ্য: যকৃতের সুরক্ষায় এবং শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা প্রধান ভূমিকা পালন করে। তাই তাকে সহজে হজমযোগ্য শর্করা, যেমন—ভাত, জাউভাত, সাগু, বার্লি, মিষ্টি ফলের রস, গ্লুকোজ পানি ইত্যাদি পর্যাপ্ত পরিমাণে দিতে হবে।

    ২. পরিমিত ও সহজপাচ্য প্রোটিন: যকৃতের কোষ মেরামতের জন্য প্রোটিন প্রয়োজন। তবে যকৃতের অবস্থা বিবেচনায় উদ্ভিজ্জ প্রোটিন বা সহজপাচ্য প্রাণিজ প্রোটিন (যেমন—পাতলা দুধ, ছানা, ডিমের সাদা অংশ, মুরগির মাংসের পাতলা ঝোল) দিতে হবে। রোগের তীব্র অবস্থায় প্রোটিনের পরিমাণ কিছুটা কমাতে হতে পারে।

    ৩. চর্বি ও তেলের তীব্র নিয়ন্ত্রণ: জন্ডিসে যকৃতের পিত্ত নিঃসরণ ব্যাহত হয়, ফলে চর্বি হজম ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। তাই খাদ্য থেকে তেল, ঘি, মাখন, ভাজাপোড়া এবং চর্বিযুক্ত খাবার সম্পূর্ণভাবে বাদ দিতে হবে বা অত্যন্ত সীমিত করতে হবে।

    ৪. পর্যাপ্ত তরল ও পানীয়: শরীর থেকে ক্ষতিকারক উপাদান বের করে দিতে এবং পানিশূন্যতা দূর করতে প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও তাজা ফলের রস পান করাতে হবে।

    ৫. ভিটামিন ও খনিজ লবণ: যকৃতের কোষের দ্রুত নিরাময় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য টাটকা ফলমূল ও নরম শাকসবজি (পেঁপে, লাউ ইত্যাদি) দিয়ে পথ্য সাজাতে হবে।

    ৬. মশলা ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য পরিহার: অতিরিক্ত ঝাল, মসলাযুক্ত ও রাস্তার খোলা অস্বাস্থ্যকর খাবার পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে।

    সুতরাং, একটি সহজপাচ্য, চর্বিমুক্ত, উচ্চ শর্করা ও পর্যাপ্ত তরলসমৃদ্ধ সুষম পথ্য পরিকল্পনার মাধ্যমে বন্ধুকে দ্রুত সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন