অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২১
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
অর্থনীতির শিক্ষক জনাব জাহাঙ্গীর আলম ক্লাসে বললেন যে, বাংলাদেশের গ্রামীণ আর্থসামাজিক অবস্থার সাথে মিল রেখে এমন শিল্প স্থাপন করা প্রয়োজন যেখানে স্বল্প মূলধন বিনিয়োগ, নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নিজস্ব গৃহে উৎপাদন এবং পরিবেশ বান্ধব উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।
- ক)(1)
সংরক্ষিত শিল্প কী?
- খ)(2)
শিল্পায়নের মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়ন কীভাবে প্রভাবিত হয়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন ধরনের শিল্প সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লিখিত শিল্পের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বিক জনস্বার্থ সুরক্ষার খাতিরে যেসকল শিল্পে বেসরকারি বা ব্যক্তিমালিকানা নিষিদ্ধ করে কেবল সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়, সেগুলোকে সংরক্ষিত শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিল্পায়নের মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়ন গভীরভাবে প্রভাবিত ও ত্বরান্বিত হয়। কারণ শিল্প খাত থেকেই আধুনিক কৃষির অপরিহার্য উপকরণসমূহ যেমন—উন্নত চাষের যন্ত্রপাতি (ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার), সেচ পাম্প, রাসায়নিক সার, কীটনাশক ইত্যাদি সরবরাহ করা হয়। এছাড়া কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগারও শিল্পায়নের মাধ্যমেই গড়ে ওঠে, যা সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন ও ফলন বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'কুটির শিল্প' (বা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।
যেসব শিল্প কারখানা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের শ্রম, সামান্য পুঁজি, নিজস্ব বাসগৃহের আঙিনায় এবং স্থানীয় সহজলভ্য কাঁচামাল ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব উপায়ে পরিচালিত হয়, তাকে কুটির শিল্প বলে। এতে আধুনিক ভারী যন্ত্রপাতির পরিবর্তে সাধারণ হস্তচালিত বা ছোটখাটো সরঞ্জামের ব্যবহার প্রাধান্য পায়।
উদ্দীপকে শিক্ষক জনাব জাহাঙ্গীর আলম এমন একটি শিল্পের কথা বলেছেন যার বৈশিষ্ট্য হলো—স্বল্প মূলধন বিনিয়োগ, নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নিজস্ব গৃহে উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন কার্যক্রম। এই সমস্ত বৈশিষ্ট্য কুটির শিল্পের মৌলিক বৈশিষ্ট্যের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। তাই উদ্দীপকে কুটির শিল্পের কথাই তুলে ধরা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের মতো শ্রমবহুল ও উন্নয়নশীল দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে কুটির শিল্পের ভূমিকা অপরিসীম। নিচে উদ্দীপকের আলোকে এই শিল্পের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান: বাংলাদেশে পুঁজির স্বল্পতা ও শ্রমের প্রাচুর্য রয়েছে। কুটির শিল্প স্বল্প পুঁজিতে বিপুল পরিমাণ গ্রামীণ মানুষের এবং বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে, যা তাদের স্বাবলম্বী করে এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য দ্রুত দূর করে।
২. নারীর ক্ষমতায়ন: উদ্দীপকে যেমন বলা হয়েছে, নিজস্ব গৃহে কাজের পরিবেশ থাকায় গ্রামীণ নারীরা সাংসারিক কাজের পাশাপাশি উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত হতে পারে, যা নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করে।
৩. স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার: এই শিল্পে স্থানীয় কৃষিভিত্তিক ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগানো হয়, ফলে অপচয় রোধ হয় এবং স্বল্প খরচে পণ্য উৎপাদিত হয়।
৪. পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন: ভারী শিল্পের মতো কুটির শিল্প পরিবেশের ক্ষতি করে না; ফলে এটি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করে।
৫. জাতীয় আয় ও রপ্তানি বৃদ্ধি: নকশিকাঁথা, মৃৎশিল্প, তাঁতশিল্প, বাঁশ-বেতের তৈরি কুটির সামগ্রী দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এবং জাতীয় আয় বাড়াতে অবদান রাখছে।অতএব, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে কুটির শিল্প এক অপরিহার্য খাত হিসেবে ভূমিকা পালন করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও