কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • মাঠ ও উদ্যান ফসল উৎপাদন • Combined Board • চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
হারেস মিয়া একজন ধানচাষি। প্রতি বছর ধান চাষ করে ভালো ফলন পান। এ বছর তার ধান ক্ষেতে এক জাতীয় পোকার আক্রমণ হলো। তিনি লক্ষ করলেন তার ক্ষেতের ধানগুলো চিটা হয়ে গেছে এবং চালের মানও খারাপ হয়ে গেছে।
- ক)(1)
আঁশ জাতীয় ফসল কী?
- খ)(2)
রেটুন ফসল চাষে খরচ কম হয় কেন?
- গ)(3)
হারেস মিয়ার ধানক্ষেত কোন পোকার দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পোকাটির দমন ব্যবস্থা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব ফসল থেকে আঁশ বা তন্তু পাওয়া যায় এবং যা বস্ত্র, দড়ি, চট ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, তাদের আঁশ জাতীয় ফসল বলে (যেমন- পাট, তুলা)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রেটুন ফসল চাষে প্রধান ফসল কাটার পর গোড়া থেকে গজানো কুশি বা গাছ থেকেই পরবর্তী ফসল উৎপাদন করা হয়। এতে নতুন করে জমি চাষ, বীজ ক্রয়, চারা রোপণ বা বপনের প্রয়োজন হয় না। ফলে জমি তৈরি ও রোপণ বাবদ শ্রম ও অর্থের সাশ্রয় ঘটে বলে রেটুন ফসল চাষে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হারেস মিয়ার ধানক্ষেত 'গান্ধি পোকা' (Rice bug) দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল।
ধানের শীষ যখন দুধ অবস্থায় থাকে, তখন গান্ধি পোকার পূর্ণাঙ্গ ও বাচ্চা (নিম্ফ) উভয়ই শীষের কচি দানা ছিদ্র করে ভেতরের নরম দুধ চুষে খায়। ফলে দানা পরিপুষ্ট হতে পারে না এবং সম্পূর্ণ চিটা হয়ে যায়। ক্ষেত্রবিশেষে চালের ওপর বাদামি বা কালো দাগ পড়ে এবং চালের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, হারেস মিয়ার ধানক্ষেতে পোকার আক্রমণে ধানগুলো চিটা হয়ে গেছে এবং চালের মান খারাপ হয়ে গেছে। এ লক্ষণগুলো গান্ধি পোকার আক্রমণের বৈশিষ্ট্যের সাথে হুবহু মিলে যায়। সুতরাং, হারেস মিয়ার জমিটি গান্ধি পোকা দ্বারাই আক্রান্ত হয়েছিল।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্ষতিকর পোকাটি হলো গান্ধি পোকা। ধানের ফলন রক্ষার্থে এই পোকা দমন অত্যন্ত জরুরি। নিচে এর সমন্বিত দমন ব্যবস্থা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. যান্ত্রিক বা প্রত্যক্ষ দমন:
- আলোক ফাঁদ: রাতে ক্ষেতে আলোর ফাঁদ পেতে গান্ধি পোকা আকৃষ্ট করে কেরোসিন মিশ্রিত পানিতে ফেলে ধ্বংস করা যায়।
- হাতজাল ব্যবহার: পোকার উপদ্রব দেখা দিলে হাতজাল দিয়ে পোকা ধরে মেরে ফেলা যায়।
- বিষটোপ: পচা কাঁকড়া, ব্যাঙ বা শুঁটকি মাছের গন্ধযুক্ত বিষটোপ ব্যবহার করে পোকা ফাঁদে ফেলে ধ্বংস করা যায়।
২. কৃষিতাত্ত্বিক দমন:
- ক্ষেত ও আইল আগাছামুক্ত রাখা, কারণ আগাছায় এরা আশ্রয় নেয় ও বংশবৃদ্ধি করে।
- একই এলাকায় একসাথে বা সমসাময়িক সময়ে ধান রোপণ ও কর্তন করা।
৩. রাসায়নিক দমন:
- আক্রমণ তীব্র হলে এবং প্রতি কুশিতে ২-৩টি পোকা দেখা দিলে অনুমোদিত কীটনাশক যেমন- ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি (প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি হারে) অথবা কার্বারিল ৮৫ ডব্লিউপি সঠিক মাত্রায় বিকেলে স্প্রে করতে হবে।
উপরোক্ত দমন পদ্ধতিসমূহ সময়মতো ও সঠিকভাবে প্রয়োগের মাধ্যমেই কেবল গান্ধি পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করে ভালো ফলন ও মানসম্পন্ন চাল পাওয়া সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও